১৭ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।২রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।বুধবার

হাকালুকি পাড়ে অসাধু পাখি শিকারীর বিষটোপে মারা গেল খামারীর ৩০০ হাঁস

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

হাকালুকি হাওরের অসাধু পাখি শিকারীদের বিষটোপে এক খামারীর ৩০০ পাতিহাঁস মারা গেছে। বুধবার বিকেলে হাকালুকির দুধাই বিলের পাড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হাঁস খামারী সমছুল ইসলাম ৬ অসাধু পাখি শিকারীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার মুর্শিবাদকুরা গ্রামের সমছুল ইসলাম একটি এনজিও সংস্থ্যা থেকে ঋণ নিয়ে ৫০০ হাঁসের খামার করেন। নিজের ছেলে ও একজন কর্মচারী নিয়ে তিনি হাঁসের লালন পালন করছেন। প্রতিদিন হাকালুকির বিভিন্ন বিলে হাঁসগুলো বিচরণ করে। হাঁসের ডিমের আয়েই পরিবারের ব্যয়, ঋণের কিস্তি ও কর্মচারীর বেতন হয়। বুধবার বিকেলে দুধাই বিলের পাড়ে হঠাৎ ৩০০ হাঁসের মৃত্যু ঘটে। এতে মাথায় বজ্রপাত পড়ার উপক্রম হয়েছে।

খামারী সমছুল ইসলাম অভিযোগ করেন, খুঠাউরা গ্রামের সুনাই মিয়া, মনা মিয়া, আনোয়ার হোসেন, ওয়াতির আলী, ছালিক আহমদ, আছাদ উদ্দিনসহ বিশাল একটি সিন্ডিকেট প্রতিদিন হাওরের বিভিন্ন বিলে ধানের সাথে বিষ মিশিয়ে অতিথি পাখি নিধন করছে। প্রায় ১ মাস আগে এসব অসাধু শিকারীদের বাঁধা নিষেধ করি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা আমার হাসের বিচরণ স্থলে বিষ মিশানো ধান ছিটিয়ে রাখে। এতে তার ৩০০ হাস মরে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন কিভাবে ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন আর পরিবার চালাবেন সে চিন্তায় দিশেহারা। তিনি অসাধু ৬ পাখি শিকারীর বিরুদ্ধে হাঁস মারার অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হক ৬ অসাধু পাখি শিকারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে জানান, দুইটি মৃত হাস ময়না তদন্তের জন্য উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার নিকট পাঠানো হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।