
অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ
খুলনার কয়রায় ঔষধ ব্যবসায়ী ভবতোষ মৃধা হত্যা মামলায় জলিল মোল্লা নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
২০মে বুধবার কয়রা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামী জলিলকে হাজির করা হলে বিচারক সঞ্জয় পাল তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তার জলিল মোল্লা উপজেলার সাতহালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরো দুজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে।
কয়রা থানার ওসি মো. শাহ আলম জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্বশত্রুতা ও ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গত ১৭ মে গভীর রাতে উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের মধ্য মহেশ্বরীপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন ভবতোষ মৃধা (৪২)। হামলায় আহত হন তার স্ত্রী বিভা রানীও। অভিযোগ রয়েছে, দুর্বৃত্তরা মাটির ঘরের ভিটা কেটে ঘরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভবতোষকে কুপিয়ে হত্যা করে।
এ ঘটনায় ১৯ মে রাতে নিহতের বোন বুলু রানী কয়রা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হলেও জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধকে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, একই এলাকার মৃত সবুর মোড়ল ও তার ছেলে শামীম মোড়লের সঙ্গে ভবতোষ মৃধাদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। জীবিত অবস্থায় সবুর মোড়ল ও শামীম মোড়ল বিভিন্ন সময় ভবতোষকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে ভবতোষের ঔষধের দোকানে গিয়ে শামীম মোড়ল, ফেরদাউস গাজী, জলিল মোল্লা, ওসমান ও ওমর ফারুক তাকে হত্যার হুমকি দেন। প্রতিবেশী জাহাঙ্গীরও ভবতোষকে প্রাণনাশের আশঙ্কার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
বাদীপক্ষের ধারণা, উল্লিখিত ব্যক্তিরা সহযোগীদের নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারেন।
কয়রা, খুলনা প্রতিনিধি
তারিখঃ ২০/০৫/২৬ ইং।