
পরেশ দেবনাথ, বিশেষ প্রতিনিধি।
যশোরের কেশবপুর থানায় এই সর্বপ্রথম নারী অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন রোকসানা খাতুন। গত মঙ্গলবার (১৯ মে-২৬) রাতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শহিদুল ইসলামের কাছ থেকে তিনি দায়িত্ব বুঝে নেন। এর আগে তিনি যশোর জেলা কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
স্বাধীনতার পর এই প্রথম কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহণ করলেও এলাকাবাসীর ধারণা করছেন, তাঁর অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে দিয়ে এ উপজেলায় সার্বিক আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারবেন। এছাড়াও চাকরি জীবনের কর্মদক্ষতা, সততা, ন্যায়-নীতি ও আদর্শের সহিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে উপজেলাবাসীকে নিরাপদ, শান্তিময় এবং আদর্শ জনপদে পরিণত করতে পারবেন বলে অনেকেই আশাবাদী। ইতিমধ্যে ওই নারী পুলিশ কর্মাকর্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা ও ভালোবাসা কুড়িয়েছেন।
উল্লেখ্য, নবাগত ওসি রোকসানা খাতুন কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি উপজেলার কয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি এক ছেলে এবং এক কন্যা সন্তানের জননী। লেখাপড়া শেষ করে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে সাব-ইন্সপেক্টর পদে যোগদান করে কর্মজীবন শুরু করেন। চাকুরী জীবনে বাংলাদেশের বিভিন্ন থানায় চাকরি করে তিনি বেশ সুনাম অর্জন করেছেন। এছাড়াও খুলনা বিভাগে প্রথম নারী পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে সুনামের সাথে চাকরি করেন। ইতিমধ্যে তিনি কেশবপুর থানায় যোগদানের পর অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছেন।
মাদক, জুয়া, ইভটিজিং, সন্ত্রাস নির্মূলে জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা ও সকল অপরাধীদের সতর্ক বার্তা দিয়ে থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোছাঃ রোকসানা খাতুন বলেন, এ উপজেলায় মাদক, জুয়া, সুদখোর ও চোরাকারবারি, অস্ত্ররাধী এবং চাঁদাবাজদের তথ্য দিয়ে আপনারা পুলিশকে সহযোগিতা করবেন। অপরাধী যেই হোক-না কেন, তাদের কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। গোটা উপজেলার আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানা পুলিশ বদ্ধপরিকর।
বর্তমান সমাজে মাদক এবং অনলাইন জুয়া ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে মাদকের জন্য যুবসমাজ নষ্ট হচ্ছে। তাই মাদককারবারীরা দেশ ও জাতির শত্রু। সেজন্য এ উপজেলা থেকে মাদককে জিরো টলারেন্স করতে সকল মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য আমাকে দিবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে নারী কর্মকর্তারা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। নারী কর্মকর্তারা অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ পরিচয় দিয়ে কাজের ধরন এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি কথাই নয়, কাজে বেশি বিশ্বাসী। তাই পুলিশ বাহিনীর সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখে এ উপজেলায় সকল অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে দমন এবং আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। আমি চাই, “কেশবপুরবাসী শান্তিতে বসবাস করুক”।
ছবিঃ
২২/০৫/২৬