১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ২৫ লাখ টাকা হতিয়ে নেয় সাঈম!!!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

জসিম মাহমুদঃ
সাঈম মিয়া। সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রক্সি অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র সে। প্রযুক্তি বিষয়ে জানাশোনা ভালো। এই জানাশোনা কাজে লাগিয়ে হ্যাকিংয়ে দক্ষ হয়ে ওঠে। বিভিন্ন মানুষের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করে। ফেসবুক আইডি ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে কারো কাছ থেকে ২ হাজার, আবার কারো কাছ থেকে ৮০ হাজার পর্যন্ত টাকা নেয় সে। এভাবে ২৫৯ জনের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে প্রায় ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ফেসবুক ব্যবহারকারী একজনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাঈম মিয়া নামে এই তরুণকে গত বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) গ্রেফতার করেছে ঢাকার সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ।

কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সাইবার সিকিউরিটি বিভাগের সহকারী কমিশনার আজহারুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘আটকের পর সাঈমের কাছ থেকে অনেকগুলো ফেসবুক আইডি উদ্ধার করা হয়েছে। সে নিয়মিত ফেসবুক আইডি হ্যাক করে অর্থ আদায় করতো। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা করা হয়েছে।’সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া বাজার এলাকার টেংরা মনু মোল্লার মার্কেট এলাকায় ফুফার বাসায় থাকতো সাঈম।

সে নিজের চেষ্টাতেই ধীরে ধীরে দক্ষ হ্যাকার হয়ে ওঠে। সে শ্যাডো ওয়েব ব্যবহার করে ফিশিং সাইট তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তির মেসেঞ্জারে লিংক পাঠাতো। যারা ওই ফাঁদে পা দিয়ে ফিশিং সাইটে লগইন করতো তাদের ফেসবুক আইডি ও পাসওয়ার্ড চলে আসতো সাঈমের হাতে। তাৎক্ষণিকভাবে সে ওই ফেসবুক আইডির পাসওয়ার্ড এবং সেটিংস টুলস পরিবর্তন করে আইডি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতো।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেফতার হওয়া সাঈম বাসায় বসে বসে হ্যাকিংয়ের কাজ করতো। তার কাছ থেকে ফেসবুক আইডি হ্যাক করার বিভিন্ন তথ্য ও ভিকটিমদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার ব্যাপারে মেসেঞ্জারের চ্যাটিংয়ের স্ক্রিনশট জব্দ করা হয়েছে।সাঈমকে করা জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সাইবার সিকিউরিটি বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ফেসবুক আইডির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর প্রথমে পরিচিত বিভিন্ন ব্যক্তি ও স্বজনদের কাছে মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠিয়ে টাকা ধার চাইতো।

এভাবে টাকা না পেলে অশ্লীল ছবি, সম্মানহানিকর পোস্ট বা পরিবারের সদস্যদের ছবি এডিট করে পোস্ট দিতো। পাশাপাশি মূল ব্যক্তিকে ফেসবুকের আইডি ও পাসওয়ার্ড ফেরত দেওয়ার জন্য অর্থ দাবি করতো। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অনেকেই সমঝোতা করে অর্থ দিয়ে আইডি ও পাসওয়ার্ড ফেরত নিতেন।সাইবার সিকিউরিটি বিভাগের ওই কর্মকর্তা জানান, ফেসবুকে অনেকেই মেসেঞ্জারে ব্যক্তিগত কিংবা স্পর্শকাতর তথ্য শেয়ার করে থাকেন। এ কারণে নিজের ফেসবুক আইডি ফেরত পেতে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে হ্যাকারের চাহিদা মতো অর্থ দিতেন। সম্প্রতি ফেসবুক আইডি হ্যাকারের শিকার হওয়া এক যুবক জানান, তার ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার পর নানাভাবে তা উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনোভাবে তা উদ্ধার করতে না পেরে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে তিনি তার ফেসবুক আইডি ও পাসওয়ার্ড ফেরত পান।
ওই যুবক জানান, তার ফেসুবক মেসেঞ্জারে স্পর্শকাতর কিছু বিষয় ছিল বলে তিনি হ্যাকারের কথা মতো টাকা দিতে বাধ্য হন।সাইবার সিকিউরিটি বিভাগ সূত্র জানায়, গ্রেফতার হওয়া সাঈম নিজের একাধিক বিকাশ অ্যাকাউন্ট এবং বিভিন্ন বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করতো। এ রকম একটি বিকাশ নম্বর (০১৮৭৭৩৮৬৬৮৯) এবং একটি রকেট নম্বর (০১৮৭৭৩৮৬৬৮৯৪) উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আটকের পর সাঈমের ফিশিং সাইট লগইন করে অনেকগুলো হ্যাক করা ফেসবুক আইডি পাওয়া গেছে। এসব আইডি সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।