১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।রবিবার

সুনামগঞ্জের ছাতকে নোয়া নদীর উপর নির্মাণকৃত বাঁধ ভেঙ্গে দিয়েছে প্রশাসন।।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

  1. ছাতক প্রতিনিধিঃ

ছাতকের দড়ারপাড় গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নোয়া নদীর উপর গ্রামবাসীর দেয়া বাঁধ ভেঙ্গে দিয়ে নদীর পানি গতিপথ স্বাভাবিক করে দেয়া হয়েছে। গ্রামবাসীর এক আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার দুপুরে গ্রামের লোকজনের সহায়তায় বাঁধ কেটে পানি চলাচল স্বাভাবিক করে দেন সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ইসলাম উদ্দিন। দীর্ঘদিন আগে দু’পারের সহজ যাতায়াতের সুবিধার জন্য দড়ারপাড় গ্রাম সংলগ্ন নোয়া নদীর উপর বাঁধ নির্মাণ করে গ্রামের লোকজন। বাঁধ নির্মাণের ফলে ফসলী জমিতে পানি সেচ সহ বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হয় এখানে। প্রশাসনের উদ্যোগে বাঁধ কেটে নদীর গতিপথ স্বাভাবিক করায় স্বস্তি ফিরে আসে গ্রামের সাধারন মানুষের মাঝে। স্হানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের দড়ারপাড় গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নোয়া নদী। প্রায় ৮কিমি দীর্ঘ ও প্রায় দেড় শ’ ফুট প্রশস্থ এ ছোট নদীকে ঘিরে দড়ারপাড় সহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের সুখ-দুঃখ জড়িয়ে আছে। যুগ-যুগ ধরে এখানের চাষাবাদ ও মৎস্য আহরনে নদীর পানি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কালের প্রভাবে কতিপয় প্রভাবশালী নদী দখলের কারনে এর নাব্যতা ও প্রশস্থতা কমতে-কমতে প্রায় খালে পরিনত হয়েছে এ নদী। শুষ্ক মৌসুমে পানি শুকিয়ে নদীটি মৃত প্রায় হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে নদীর প্রশস্থতা কমে গেলে গ্রামের মানুষ দু’পাড়ে সহজ যাতায়াতের জন্য নদীর এপাড়-ওপাড় বরাবর মাটি ভরাট করে বাঁধ নির্মাণ করে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বাঁধের এক দিকে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা এবং ওপর দিকে সৃষ্টি হয় পানি শুন্যতা। বাঁধ নির্মাণের ফলে গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছিল। সম্প্রতি বাঁধ কেটে নদীর পানির স্বাভাবিক গতিপথ সৃষ্টির জন্য গ্রামবাসী সহকারী কমিশনার(ভুমি) বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নোয়া নদীর এ বাঁধ কেটে নদীর পানির গতিপথ স্বাভাবিক করে দিলে গ্রামবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। বাঁধ কাটতে গ্রামবাসী সার্বিক সহযোগিতা করে প্রশাসনকে। এসময় দু’পাড়ে সহজ যাতায়াতের জন্য বাঁধে অংশে নদীর উপর একটি কালভার্ট নির্মাণের দাবীও জানায় গ্রামবাসী। সহকারী কমিশনার(ভুমি) ইসলাম উদ্দিনের সাথে সার্ভেয়ার এডিএম রুহুল আমিন, পীরপুর ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা কাজী রফিকুজ্জামান, উচ্চমান সহকারী সত্যন্দ্র লাল রায় সহ থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। সহকারী কমিশনার(ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ইসলাম উদ্দিন এ ব্যাপারে জানান, বাঁধ দিয়ে নদীর গতিপথ রোধ করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি বুজতে পেরে কোন ধরনের আপত্তি না করে বাঁধ কাটতে গ্রামবাসী সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে।##

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি