২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

মতলবের গৃহবধূকে যৌতুকের জন্য গলা কেটে হত্যার চেষ্টাঃপলাতক  স্বামী।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মোঃ রিফাত পাটোয়ারী চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

 

ঢাকা মিরপুরে যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীর গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেছে পাষন্ড স্বামী। গত ১২ আগস্ট বৃহস্প্রতিবার দুপুরে ঢাকার মিরপুর-১৩ নম্বরের একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে স্বামী কাউছার আহম্মেদ রাজন পলাতক রয়েছে।

 

ঘটনার বিবরণ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মতলব দক্ষিণ উপজেলার ধনারপাড় গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে কাউছার আহম্মেদ রাজন একই উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের পুটিয়া গ্রামের মো. ওয়ালী উল্লাহ প্রধানের মেয়ে রিক্তা আক্তারকে ২০১৩ সালে ভালোবেসে পরিবারের অমতে বিয়ে করেন। বিয়ের কয়েকমাস পর উভয় পরিবার তাদের এ সর্ম্পক মেনে নেয়। তার পর থেকে কাউছার আহম্মেদ রাজন যৌতুকের জন্য রিক্তার উপর নির্যাতন শুরু করে। রাজন ঢাকার মিরপুর ১৩ নম্বরে একটি স্যানেটারি দোকানে চাকরী করতেন। গেল ৫ মাস আগে করোনার কারনে কাউছার আহম্মেদ রাজনের চাকরী চলে যায়। তার পর থেকে রিক্তা আক্তার সেলাই কাজ করে কোন রকম সংসার চালাতেন। এরই মাঝে রাজন বিদেশে যাবে বলে প্রায় সময় রিক্তাকে টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে রাজন রিক্তাকে মারধর করতেন।

 

আহত রিক্তার ছোট ভাই মো. আল আমিন জানান, ঘটনার দিন রিক্তা বাসায় একা একা সংসারের কাজ করছিলেন। হঠাৎ করে রাজন বাসায় ঢুকে কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই রিক্তাকে রান্নাঘর থেকে বেডরুমে নিয়ে দরজা বন্ধ করে জোর করে হত্যার উদ্দেশ্যে রিক্তার গলায় ছুরি চালায়। পরে রিক্তা আত্মরক্ষায় ডাকচিৎকার দিলে একই ফ্লাটে সাবলেট থাকা লোকজন এসে দরজা ভেঙ্গে রিক্তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা সরোওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যায়। এসময় রিক্তার গলায় ৩৪টি সেলাই এবং দুই হাতে ৬টি সেলাই দেওয়া হয়। বর্তমানে রিক্তা আক্তার চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রিক্তা ও রাজনের সংসারে ৭ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

 

এ ঘটনায় রিক্তা আক্তার বাদী হয়ে ঢাকা কাফরুল থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর থেকে স্বামী কাউছার আহম্মেদ রাজন পলাতক রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, এ ঘটনায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা করা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি