২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে কান, গলা ও লিঙ্গ কেটে ৬ বছরের শিশু তুহিনকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সিলেট প্রতিনিধি:দিরাইয়ে উপজেলায় কান, গলা ও লিঙ্গ কেটে তুহিন (৬) নামে এক শিশুকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পরে তার মরদেহ গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখে যায়। তুহিন উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের গচিয়া কেজাউড়া গ্রামের বছির মিয়ার ছেলে। সোমবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

জানা যায়, বছির মিয়ার ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে। রোববার রাতে প্রতিদিনের মত খাওয়া দাওয়া শেষ করে পরিবারের সকল ঘুমিয়ে পড়েন। মধ্যরাতে শিশু তুহিন প্রসাব করার জন্য উঠলে তার মা বাহিরে প্রসাব করিয়ে তাকে ঘুম পড়িয়ে দেন। পরে রাত ৩ টার দিকে মা-বাবা হঠাৎ দরজা খোলার শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠে দেখেন তুহিন ঘরে নেই।

এরপর পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশে রক্ত দেখতে পান তারা। এরপর কিছু দুরে সুফিয়ান মোল্লার উঠানে মসজিদের পাশে গাছের নিকট ঝুলন্ত অবস্থায় শিশু তুহিনের মরদেহ দেখতে পান।

পুলিশ জানায়, পাষণ্ড খুনিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির কান, গলা ও লিঙ্গ কেটে পাশবিক কায়দায় হত্যা করে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখে। পাষণ্ড খুনিরা ঝুলন্ত অবস্থায় শিশুটির পেটে ধারালো দুটি চুরি ঢুকিয়ে রাখে।

এদিকে শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এলাকার লোকজন আতংকিত হয়ে পড়েছেন। কে বা কারা, কি কারণে এ শিশুকে পাশবিক কায়দায় হত্যা করেছে এ ব্যাপারে পুলিশ বা পরিবারের লোকজন এখনো কোন ধারণা করতে পারছেন না।

আর এ ঘটনায় প্রশাসন সহ সর্ব মহলে তোলপাড় চললে। এ ঘটনা তদন্তের ইতিমধ্যে পুলিশ ও গোয়ান্দো সংস্থা (ডিবি) কাজ করছে। অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিও ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।

নিহত শিশুর পিতা আব্দুল বাছের মিয়ার বলেন, কি ভাবে আমার পাশ থেকে ছেলে কি নিয়ে গেল কিছুই বুঝতে পারছি না। আমি কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। আমরা তেমন কারো সাথে শত্রুতা নেই। কি ভাবে কি হল বুঝতে পারছি না।

দিরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) রুপক কর্মকার বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সিআইডিও আমাদের সাথে যোগ দিবে। আমরা আলামত সংগ্রহ করেছি। এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলছি। তদন্তের স্বার্থে অনেক কিছু বলা যাবে না।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি