২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে শশ্মান ঘাটে নবনির্মিত কালী মন্দির ও সমাধিস্থল ভাংচুর

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সোনাই নিউজ:দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে শশ্মান ঘাটে নবনির্মিত কালী মন্দির ও সমাধিস্থল ভাংচুর করেছে মোঃ আব্দুল্লাহ ও তার সহযোগীরা। এতে বাধা দেওয়ায় আহত ৭ জন।

বাংলাদেশে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার চৌরঙ্গী বাজারের নিকটবর্তী শশ্মানে আনুমানিক বিকেল ৫টায় নবনির্মিত কালী মন্দির ও শশ্মানে জায়গা দানকারী স্বর্গীয় কেশব চন্দ্র রায় বাবুর সমাধিস্থল ভাংচুর করে। ঘটনাটি ঘটিয়েছে একই গ্রামের মোঃ আবদুল্লাহ (বাচ্চু মিয়া) ও সহসপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুল আলম বাবুর নেত্রীত্বে। আনুমানিক দুই শতাধিক দুষ্কৃতিকারী এই হামলায় অংশ নিয়েছে। এতে
স্থানীয় জনতা বাধা দিতে গেলে সেই মুহূর্তে দুষ্কৃতিকারীরা নবনির্মিত মন্দিরের পাশে রাখা ইটপাটকেল গুলো জনসাধারণের দিকে ছুঁড়ে মারে। এতে ঘটনাস্থলেই একই এলাকার গন্ডিরাম রায়, পিতা ঝটুরাম রায়,শ্যামল রায়,মজেন রায়,হরিপদ রায়,নেতীশ চন্দ্র রায় সহ আরও দুই জন গুরুতর ভাবে আহত হয়েছেন। তাদের
সেতাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়া হয়।

নবনির্মিত মন্দির ও সমাধিস্থল ভাংচুর শেষে ভাংচুরকারীরা চৌরঙ্গী বাজারের আল্লাহু আকবর,ধর ধর মালাউনরে ধর চিৎকার করে হিন্দু দোকান ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান হামলা চালায়।

উল্লেখ্য সহসপুর মৌজার ১-২ খতিয়ান ৪৪৮ দাগের ৯১ শতক জমি বৃটিশ আমল ১৯৪০ সালে ও পাকিস্তান আমলে ১৯৬০ সালের রেকর্ডে শ্মশানের নামে রেকর্ড থাকলেও মোঃ আব্দুল্লা (বাচ্চু মিয়া) ১৯৭২-৭৩ সালে সাটিফেকেট খাস মামলায় তিনি বন্ধবস্ত করে নিজের নামে রেকর্ড ভুক্ত করে আবাদ করে এসেছিল দখলের মাধ্যমে।

চৌরঙ্গী মহা শ্মশান কমিটি ২০১৩তে মোঃ আব্দুল্লা(বাচ্চু মিয়া) নামে মামলা দায়ের করেন। আদালত শ্মশান কমিটির পক্ষে রায় দিলেও বাচ্চু মিয়া জমিটি ছারতে নারাজ।

এক পর্যায়ে বোচাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন চৌধুরী ইগলু ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান উৎপল কুমার রায় বুলু শ্মশানের জমিটি উদ্ধার করে শ্মশান কমিটির কাছে হস্তান্তর করেন এবং ইতিমধ্যেই স্বর্গীয় কেশব চন্দ্র রায় বাবুসহ কয়েক জনের সৎকার করা হয়েছে।

হিন্দু ধর্ম রীতি অনুযায়ী শ্মশান কমিটি একটি শ্মশান কালীর ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে মোঃ আব্দুল্লা (বাচ্চু মিয়া) মন্দির তৈরি না করানোর জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এজাহারুল হক ২৪/২/১৯ রবিবার তদন্তে এসে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কাগজপত্র দেখে মন্দির তৈরির নির্দেশ প্রদান করেন।

অভিযোগ জানিয়ে কোনো ফল না পেয়ে আজ দূর থেকে মাস্তান ভাড়া করে এনে নবর্নিমিত মন্দির, সমাধিস্থল ভাংচুর ও বাজারের হিন্দু দোকানে হামলা চালিয়েছে!
এ ব্যাপারে বোচাগঞ্জ থানা ওসি আব্দুর রউফ মন্ডলকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন,মুল আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি