
সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,
বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি: বুদ্ধধর্মের উৎপত্তির পর থেকেই জানা যায়, গৌতম বুদ্ধের প্রদর্শিত ধর্মীয় পথ অনুসরণ করেই নির্বাণ লাভ সম্ভব। বুদ্ধধর্ম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মে নির্বাণ লাভ করা যায় না। জগতের সবচেয়ে বড় পাপ হলো মিথ্যাদৃষ্টি, আর সবচেয়ে বড় পুণ্য হলো ধ্যান। তাই মানুষকে মিথ্যাদৃষ্টি পরিহার করে দান, শীল ও ভাবনার চর্চা করতে হবে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার কুতুবদিয়া গ্রামে অবস্থিত সদ্ধর্মোদয় বৌদ্ধ বিহারের ৩৭তম কঠিন চীবর দান উপলক্ষে আয়োজিত সকালের পর্বে একক ধর্মদেশনায় এসব কথা বলেন বিপুল জ্যোতি মহাথের।
বিহারটি ষষ্ঠ বৌদ্ধ মহাসংগীতিকার ও পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের প্রতিষ্ঠাতা রাজগুরু অগ্রবংশ মহাথেরোর জন্মস্থান হওয়ায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ পুণ্যভূমি হিসেবে পরিচিত।
বিহার পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় দায়ক-দায়িকাদের আয়োজনে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল পিণ্ডদান, পুষ্পমাল্য অর্পণ, অতিথি আপ্যায়ন, বুদ্ধমূর্তি দান, কল্পতরু দান, অষ্টপরিষ্কার দান, কঠিন চীবর দান, ধর্মসভা, ফানুস উত্তোলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বিলাইছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি আর্যলঙ্কার মহাথের উপস্থিত ছিলেন।
বিকেলের ধর্মসভায় সভাপতিত্ব করেন অগ্রবংশ ভিক্ষু। এতে প্রধান ধর্মালোক হিসেবে বুদ্ধ জ্যোতি ভিক্ষু এবং বিশেষ ধর্মালোক হিসেবে উ. তেজবর্ণ ভিক্ষু,সঞ্চালনায় চন্দ্র কীর্তি ভিক্ষু সহ অন্যান্য ভিক্ষুসংঘ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান। প্রধান জ্ঞাতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা। আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অমৃত সেন তঞ্চঙ্গ্যা, রমাকান্ত হেডম্যান, বিশিষ্ট দায়ক বৃক্ষপতি তঞ্চঙ্গ্যা (বৈদানী), বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি জয়তুন তঞ্চঙ্গ্যা, সাধারণ সম্পাদক সুমন্ত তঞ্চঙ্গ্যা, রঞ্জন তঞ্চঙ্গ,মনিষা তঞ্চঙ্গ্যা,দিবাকর তঞ্চঙ্গ্যা, জিকু তঞ্চঙ্গ্যা,ওয়ার্ড মেম্বার বাবু লাল তঞ্চঙ্গ্যা সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ধর্মপ্রাণ দায়ক-দায়িকারা।