১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

শাজাহানপুরে ইউপি সদস্যকে মারপিটের ঘটনায় আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নাজিরুল ইসলাম, শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:

বগুড়ার শাজাহানপুরে গোহাইল ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড সদস‍্য মো: শাহিন কোব্বাত এর উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় উপজেলার গোহাইল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে গোহাইল বাসস্ট্যান্ডে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কে এই মানববন্ধন করা অনুষ্ঠিত হয়।

 

উল্লেখ্য গত ২১ জুলাই বুধবার সন্ধ্যায় গোহাইল ইউনিয়নের শালিখা গ্রামে সালিশী বৈঠক শেষে তিনি অটোরিক্সাযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে খন্ডক্ষেত্র পন্ডিতপুকুর এলাকায় পৌঁছলে একদল সন্ত্রাসী গাছ ও বাঁশ দিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করে অটোরিকশাটির গতিরোধ করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা ইউপি সদস্য শাহীন কোব্বাতকে লাঠিসোটা ও লোহার রড দিয়ে বেদম মারপিট করে এবং তার কাছে থাকা ৫০হাজার টাকা ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। ছিনতাইকালে অপর একটি যাত্রীবাহী ভ‍্যানরিক্সা ঘটনাস্থলে পৌছালে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

 

ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও আসন্ন গোহাইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নৌকা প্রতিক মনোনয়ন প্রত্যাশি মোঃ আলী ইমাম ইনোকী।

 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কোব্বাত মেম্বারকে হামলায় অভিযুক্ত আসামিদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার না করলে আগামীতে আরো কঠোর আন্দোলন করতে বাধ্য হব। তারা আরও বলেন, এই ইউনিয়ন থেকে মাদকসেবীদের উৎখাত করতে হবে। মাদককারবীরা আমাদের সাথে এক হয়ে বসবাস করতে পারে না। আমরা সচেতন নাগরিক তা কখনোই সহ‍্য করব না। তারা থানা প্রশাসনকে কড়া হুশিয়ারি দিয়ে মানববন্ধনে এসব কথা বলেন।

 

গোহাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি দীনেশ চন্দ্র পালের সভাপতিত্বে ও ছাত্রলীগ নেতা আবুল খায়ের শাহীনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক সবুজ সোনার, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি খয়বর আলী, ইউপি সদস্য তাজনুর রহমান শাহীন, আব্দুল করিম, এনামুল হক, খলিল মিয়া, ছাত্রলীগ নেতা শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আব্দুর রউফ, রুপিহার যুবসমাজ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি মজনু মিয়া, সমাজসেবক আব্দুল মান্নান, এমদাদুল হক, মোকছেদুল হক, মোক্তার হোসেন, অন্যন্যোর মধ্যে ইউপি সদস‍্যা মমতাজ বেগম সহ সন্ত্রাসী হামলার শিকার শাহিন কোব্বাতের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।