২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৭ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

লালমনিরহাটের কৃষকেরা রোপা আমন ধান কাটতে শুরু করেছে; দাম নিয়ে বরাবরের মতো হতাশ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ:

অনেক প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে লালমনিরহাটের কৃষকেরা রোপা আমন ধানের পরিচর্যা শেষে এখন তা ঘরে তুলতে ব্যস্ত। প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না থাকলে, লাভজনক এ ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষা শেষ হবে খুব দ্রুতই। তবে নায্য মূল্য নিয়ে বরাবরের মত এবারেও হতাশ আমন চাষিরা।

 

বন্যা, অনাবৃষ্টি, মহামারী করোনা ভাইরাসের মতো সব দুর্যোগ মোকাবেলা করে লালমনিরহাটের কৃষকরা ফলিয়েছে লাভজনক ফসল রোপা আমন।

 

প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকলে সময় মতো ফসল ঘরে তোলার আশায় বুক বাঁধা কৃষকরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধান কাটতে ব্যস্ত। গৃহস্থ বাড়ির নারী সদস্যরা ও শিশুরাও মনের আনন্দে সময় দিচ্ছে ক্ষেতে।

কৃষকদের কাছে রোপা আমনের চাষ সবচেয়ে লাভজনক একটি ফসল। কিন্তু কৃষকরা বলছে সময়মত বৃষ্টি না হওয়ায়, এবার বিপাকে পরতে হয়েছিলো অনেক চাষিকেই। লাভজনক এ ফসল ফলাতে সেচের পানি দিয়ে ধান চাষে বাড়তি খরচতো হয়েছেই পাশাপাশি অন্যান্য খরচও বেড়েই চলেছে ক্রমান্বয়ে।

 

তবে বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা না করে ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিন দিয়েই সেচের পানি সংগ্রহ করছিলেন এবারের আমন চাষিরা।

 

চলতি মৌসুমে রোপা আমনের বীজতলা বপনের সময় বৃষ্টিপাত পর্যাপ্ত না হওয়ায় অনেক কৃষকের রোপা আমনের চারা নষ্ট হয়েছে এবার। হার না মানা কৃষকেরা বাজার থেকে টাকা দিয়ে পুনঃরায় বীজতলা সংগ্রহ করে।

 

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এ বছর এ জেলায় ৮৫হাজার ৫শত ১৫হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার ৮শত ৩৫হেক্টর জমি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

 

এদিকে লক্ষ মাত্রা অর্জন হলেও, জেলায় ৪দফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫টি উপজেলার নদী তীরবর্তী অঞ্চলের কৃষকরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের লোকসান পুষিয়ে নিতে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছে লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ- পরিচালক শামীম আশরাফ। তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চরাঞ্চলের কৃষকেরা শীতকালীন সবজি ও আগাম ভুট্টা চাষ করে ক্ষতি পুষিয়ে নেবেন।

 

আর সরকার, জীবন যুদ্ধে হার না মানা প্রত্যন্ত পল্লীর কৃষকদের ফলানো, রোপা আমনের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করে কৃষকদের সহায়তা করবে এমন প্রত্যাশা সবার।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।