1. ashiskumarsaha90@gmail.com : Ashish Saha : Ashish Saha
  2. dainikbanglerprottoy@gmail.com : banglar : Nibas Dhali
শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
কেশবপুরে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি, সিটের অভাবে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বারান্দায়। কেশবপুরে জলাবদ্ধতায় পাকা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। খুলনার কয়রায় নিখোঁজ হওয়ার ৭দিন পরেও সন্ধান মেলেনি ৯ম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রের । শ্যামনগরে লিডার্সের আয়োজনে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও উপকারভোগীদের সংলাপ। বিলাইছড়ি উপজেলা স্টেডিয়ামে গোলবারের লাইনের বরাবর ওয়াশব্লক নির্মাণে খেলোয়াড় ও জনমনে অসন্তোষ । কেশবপুরে সমাধানের ব্যবস্থাপনায় ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প অনুষ্ঠিত। কেশবপুরে নারী দুগ্ধ খামারীদের আধুনিক ডেইরি ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত। কেশবপুরে ব্র্যাকের আয়োজনে মাছ চাষে কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ। বিলাইছড়িতে ধর্মীয় গুরুদের সঙ্গে মত বিনিময় করলেন ইউএনও — হাসনাত জাহান খান । শ্যামনগরে সুন্দরবন বিষয়ে আর্থস্কাউট স্কুল ক্যাম্পেইন।

দোষীদের শাস্তি দাবিঃ অসহায় খালেদার জীবন সমর্পণ নির্মাণাধীন রেল লাইনে=

রিপোর্টার নাম
  • প্রকাশিত তারিখ : বুধবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৮
  • ২৭০ বার পঠিত

দোষীদের শাস্তি দাবিঃ
অসহায় খালেদার জীবন সমর্পণ নির্মাণাধীন রেল লাইনে
♦জসিম মাহমুদ♦
এবার আলোচনায় রামুর রেল লাইন। যা কাল হয়ে দাঁড়াল খালেদার পরিবারে। রেল লাইনের ক্ষতি পূরণের টাকা না পাওয়ার আগেই বসত বাড়ি উচ্ছেদের চেষ্টাকালে ব্রেইন স্ট্রোক করে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এক গৃহবধু। নিহত খালেদা বেগম (৫২)কক্সবাজার জেলার রামুর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের সাতঘরিয়াপাড়া এলাকার আজিজ মিয়ার স্ত্রী।

গত মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ৭টায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রাণ হারান তিনি। খবর পেয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমান, ফতেখাঁরকুল ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম ও রামু থানার উপ-পরিদর্শক ছানা উল্লাহ ঘটনাস্থলে যান। এসময় ইউএনও নিহত খালেদা বেগমের পরিবারকে মৃতদেহ দাফনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন।

নিহত খালেদা বেগমের বড় ভাই নুরুল আলম জানিয়েছেন, রেল লাইনের অধিগ্রহনকৃত জমিতে তার ছোট বোন খালেদা বেগমের পৈত্রিক বাড়ি-ভিটে ছিলো। কিন্তু মামলাবাজ ও ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত ইটভাটা মালিক মোজাফ্ফর আহমদ বোনের অসহায়ত্বের সুযোগে ভিটে-জমিটি গ্রাস করার উদ্দেশ্যে উল্টো হয়রানিমূলক মামলা করেন। যার কারনে রেল লাইনের কাজ শুরু হলেও ক্ষতিপূরণ পাচ্ছিলেন না খালেদা বেগম। নুরুল আলম আরো জানান, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৯ শতক জমিতে ২০ বছর ধরে বসত বাড়ি তৈরী করে স্ব-পরিবারে বসবাস করে আসছিলেন স্বামী পরিত্যাক্তা খালেদা বেগম। মৌখিক দানপত্র করার ভূয়া তথ্য দিয়ে একটি মামলা করে ২০১৩ সালে বিজ্ঞ আদালত থেকে ডিক্রি নিয়ে জমিটি জবর দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন বিতর্কিত ইটভাটা মালিক মোজাফ্ফর আহমদ। পরে মামলার বিষয়টি জানাজানি হলে দিশেহারা খালেদা বেগম ওই মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। যা এখনো বিচারাধিন রয়েছে। পরে জমিটি রেল লাইনে অধিগ্রহনকরা হলেও এ কারনে ক্ষতিপূরণও পাচ্ছিলেন না তিনি। কিন্তু রেলের ঠিকাদার ও কাজে নিয়োজিত লোকজন খালেদা বেগমকে বাড়ি ভেঙ্গে দিয়ে জমি দখলমুক্ত করার জন্য বারবার তাগাদা দিচ্ছিলেন।

সম্প্রতি রেল লাইনের কাজ চলাকালে খালেদা বেগমের গাছ কেটে সাবাড় করা হয়। এ দৃশ্য দেখে আহাজারি করার সময় ব্রেইন স্ট্রোক করেন তিনি। বোনের মৃত্যুতে তাঁর ৪ ছেলে, ২ মেয়ে অসহায় হয়ে পড়লো। খালেদা বেগমের বড় ছেলে হারুন জানান, মায়ের মৃত্যুর জন্য ভূমিদস্য মোজাফ্ফর আহমদই দায়ি। কারনে তিনি মামলা দিয়ে হয়রানি না করলে এতদিনে আমরা রেলের ক্ষতিপূরণ পেয়ে অন্যত্র জমি কিনে বসবাস করতে পারতাম। তিনি এ ভূমিদস্যুর কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন এবং অবিলম্বে জমির ক্ষতিপুরণ পেতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমান জানিয়েছেন, জমি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ সহসা নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

এছাড়া নিহত খালেদা বেগমের পরিবারকে তাৎক্ষণিক ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। ফতেখাঁরকুল ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম জানিয়েছেন, ঘটনাটি খুবই দূঃখজনক। প্রভাবশালী কর্তৃক দরিদ্র খালেদা বেগম নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। রেলের কাজ শুরু হলেও তার বাড়ি-ভিটে উচ্ছেদ শুরু হয়েছে, তাই তিনি ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কোথায় যাবেন তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। যে কারনে স্ট্রোক করে প্রাণ হারিয়েছেন। এখন জমি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021-2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT