1. ashiskumarsaha90@gmail.com : Ashish Saha : Ashish Saha
  2. dainikbanglerprottoy@gmail.com : banglar : Nibas Dhali
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
রংপুরে ছয় মাস সংসার করে স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা। কালীগঞ্জে মাদক বিরোধী মিনিবার ফুটবল টুনামেন্ট অনুষ্ঠিত। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শ্যামনগরে ৭১টি মন্দিরে ড.মনিরুজ্জামানের শুভেচ্ছা উপহার। বিলাইছড়িতে নেতৃত্ব বিকাশ ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু। কয়রায় আন্তর্জাতিক দূর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত । খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের মনিটরিং সেল গঠন  রতন মিত্র আহবায়ক ও সুমন দাস সদস্য সচিব । কেশবপুরে অভিভাবক ও কিশোরীদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত। কেশবপুরে জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে স্ক্রিনিং ক্যাম্প অনুষ্ঠিত। কেশবপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে অসহায় মানুষের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ। জনদুর্ভোগের কথা শুনলেন মেয়র পদপ্রার্থী, নির্বাচিত হলে উন্নয়নের আশ্বাসদেন ইমদাদুল হক ইমদাদ।

লালমনিরহাটে সানিয়াজান নদীতে বিলুপ্তপ্রায় মিঠা পানির কচ্ছপের দেখা মিলেছে।

রিপোর্টার নাম
  • প্রকাশিত তারিখ : শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১
  • ২১৫ বার পঠিত

মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ:

করোনায় প্রকৃতি যেন নতুন রূপে ফিরে আসছে। লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার সানিয়াজান নদীতে বিলুপ্ত প্রজাতির মিঠা পানির কচ্ছপ (কাছিম) এর বাচ্চা জেলেদের জালে ধরা পড়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) বিকালে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বাউড়া ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত সংলগ্ন নবী নগর গ্রামে জেলেদের জালে মিঠা পানির কচ্ছপের (কাছিম) এর বাচ্চা ধরা পড়ে। প্রায় দুই যুগ পর মিঠা পানির কচ্ছপ (কাছিস) এর দেখা পেল জেলেরা। একে প্রকৃতি নতুন রূপে ফিরে আসা বলছে। একে প্রকৃতির আর্শীবাদ হিসেবে দেখছে গ্রামবাসীগণ। পরিবেশবিদগণ বলছে প্রকৃতি প্রেমিদের জন্য সু-সংবাদ।

সানিয়াজান নদী ভারত হতে বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বাউড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের নবী নগর গ্রামের প্রবেশ করেছে। এই নদীর এখানে বাংলাদেশের ভূ-খন্ডের প্রবেশ করে। কোথাও কোথাও নদীটি সীমান্ত রেখা হিসেবে প্রবাহিত হয়েছে। নদীটি এক সময় খুবই গভীর ও খর স্রোতা ছিল। এখন পানি জমে তার গভীরতা ও নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। শুষ্ক মৌসুমে হাটু পানি থাকে। তবে পানি প্রবাহ কোথাও কোথাও শুকিয়ে যায় না। ক্ষীণ ধারায় প্রবাহিত হয়ে আসছে। বর্ষা মৌসুমে এই নদীতে মাছের পরিবর্তে এখন নদীর পানের মানুষ নুড়ি পাথর সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। বর্ষায় ভারতীয় পাহাড়ী ঢল ও বৃষ্টি পাতে নিন্ম ঞ্চলের পানি দিয়ে রুদ্ধ মূর্তি ধারণ করে। অত্যন্ত খর স্রোতা এই নদী। এই নদী বাউড়া ও সানিয়াজান ইউনিয়ন দিয়ে প্রবাহিত হয়ে তিস্তা নদীতে মিলিত হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদী নাম হলেও তিস্তা মূলত একটি নদের নাম। তিস্তা নদীর শাখা নদীগুলোর সকল শাখা তিস্তা নদীতে গিয়ে তার প্রবাহিত স্রোতের মিলন ঘটিয়েছে। যাহা নদের সংজ্ঞায় পড়ে। সানিয়াজান ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড আরাজী সেখ সুন্দর মৌজা হইতে শুরু করে ৮নং ওয়ার্ড নিজ সেখ সুন্দর মৌজার উপর দিয়া প্রবাহিত হয়। সানিয়াজান নদী এই দুই ইউনিয়নের প্রায় ৫০-৬০কিলোমিটার ভূ-খন্ডে প্রবাহিত হয়েছে।

সানিয়াজান নদী এই অঞ্চলের প্রকৃতিতে আর্শীবাদ হয়ে দেখা দেয়। এই নদীর এক সময় ছিল অত্যন্ত গভীর ও খর স্রোতা। নদীতে ছিল নানা প্রজাতির জলজ প্রাণি ও উদ্ভিদ। ছিল মিটা পানির মাছ। এক সময় নদীতে প্রচুর পরিমানে মিঠা পানির কচ্ছপ বা কাছিম পাওয়া যেত। যাকে স্থানীয় ভাষায় বলা হত দুরা। এই দুরা ধরে স্থানীয় হাট বাজারে বিক্রি করে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এই অঞ্চলের মানুষের কাছে দুরা ছিল প্রসিদ্ধ খাবার। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের পানি মাছ বা দুরা বা কাছিম বা কচ্ছপ ছিল প্রসিদ্ধ খাবার। হিন্দুদের কোন আচার অনুষ্ঠানে, পুজা-পাবনে, বিয়ে-শাদীতে দুরা বা পানি মাছ বা কচ্ছপের রান্না পাতে না থাকলে চলত না। মানুষের নিষ্ঠুর আচরণে মিঠা পানির কচ্ছপ নদী হতে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। প্রায় ২০-২৫বছর ধরে কোন সানয়িাজানসহ এই অঞ্চলের কোন নদ-নদী, খাল-বিলে কচ্ছপ বা কাছিম বা দুরা বা পানি মাছ কোথাও কেউ দেখেছে বা জেলেদের জালে ধরা পড়েছে। এমন খবর পাওয়া যায়নি। মিঠা পানির কচ্ছপ বাংলাদেশে বিলুপ্ত জলজ প্রাণি গুলোর একটি।

বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) বিকালে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বাউড়া ইউনিয়নের নবী নগর গ্রামে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত সংলগ্ন জেলেদের জালে মিঠা পানির কাছিম, দুরা বা পানি মাছের বাচ্চা ধরা পড়েছে। এই ঘটনাকে জেলেরা প্রকৃতির আর্শীবাদ হিসেবে ধরে নিয়েছে। তার মানে করোনাকালীন সময়ে মানুষ ঘর বন্দি থেকেছে দীর্ঘদিন। এই কারণে প্রকৃতি নতুন রুপে ফেরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সানিয়াজান নদীতে বিলুপ্ত পানি মাছ বা মিঠা পানির কাছিম নতুন করে বাচ্চা দিয়েছে। নতুন ভাবে মিঠা পানির কাছিম প্রজনন পুনরায় প্রাকৃতিক পরিবেশ পেয়ে নদীতে শুরু হয়েছে। মিঠা পানির কাছিমের এই নতুন ভাবে ফিরে আসাকে প্রকৃতির রহস্যজনক আচরণ ও আর্শীবাদ মনে করছে পরিবেশবিদগণ। পরিবশেবিদগণ মনে করছে প্রকৃতি আমাদের সুযোগ দিয়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় এই সুযোগ সভ্য সমাজের মানুষ গ্রহণ করতে হবে। প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধ মানব সভ্যতাকে গড়ে তুলতে হবে। তাহলে সভ্যতা বাঁচবে। এর ব্যতয় ঘটলে সভ্যতা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ কোনটি বাসযোগ্য থাকবেনা। পৃথিবীর অনেক সভ্যতা পরিবেশ রক্ষা করে উন্নয়ন না করায় ধ্বংস হয়ে গেছে। অনেক নগর সভ্যতা পরিত্যাক্ত হয়ে পড়ে রয়েছে।

লালমনিরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুকুল ইসলাম জানান, মিটা পানির কচ্ছপ বিলুপ্ত প্রাণির তালিকায় আছে। কচ্ছপ প্রায় ২৫০-৩০০বছর বেঁচে থাকে। ভারতের উজানে সানিয়াজান নদীতে হয়তো কোথায় কচ্ছপ জীবিত আছে। সেই কচ্ছপ করোনাকালীন সময়ে নির্জন ও প্রাকৃতিক পরিবেশ পেয়ে প্রজনন ক্ষমতা ফিরে পেয়েছে। সেই কচ্ছপের বাচ্চা উজানি ঢলে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের সানিয়াজান নদীতে আসতে পারে। তবে এটা প্রকৃতির আর্শীরবাদ। মানুষ বা জেলেরা যদি এই ধরণের কচ্ছপের বাচ্চাগুলি জালে আটকের পর না ধরে পুনরায় অবমুক্ত করে দেয়। তাহলে হয়তো কয়েক বছরের মধ্যে সানিয়াজান নদীতে মিঠা পানির কচ্ছপ পাওয়া যাবে। মানুষের আচরণের উপর নির্ভর করছে। বিষয়টি পাটগ্রাম উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে অবগত করছি।

 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021-2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT