২৩শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৮ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

সিলেটে হচ্ছে দেশের প্রথম ‘অটিস্টিক আদর্শ বিদ্যালয়’।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

এম এ রশীদ সিলেট থেকে।

 

২০১৩ সাল থেকে সিলেটে অটিস্টিকদের (বিশেষ শিশু) জন্য কুমারপাড়া এলাকায় একটি বিদ্যালয় পরিচালিত হয়ে এলেও বিশেষ শিশুদের জন্য যথোপযুক্ত সুযোগ সুবিধা না থাকায় একটি অটিস্টিক আদর্শ বিদ্যালয়ের দাবি ছিল সংশ্লিষ্টদের।

 

এবার এ দাবির ভিত্তিতে সিলেটেই নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম অটিস্টিক (বিশেষ শিশু) মডেল স্কুল। প্রায় দেড় কোটি টাকা বাজেটে এ স্কুলটি তৈরির জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে আব্দুল মোমেনের বিশেষ পত্রের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে।

 

১১ হাজার দুইশত স্কয়ার ফুটের ‘মডেল অটিস্টিক’ স্কুলের চার তলা এ ভবনটির নামকরণ করা হবে সিলেটের প্রয়াত চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাস গুপ্তের নামে। ইতিমধ্যে নতুন এ ভবনের নকশাও সম্পন্ন হয়েছে। সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাহ এলাকায় টিচার্স ট্রেনিং সেন্টারের পাশে নির্মিত হবে এ ভবন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এর বাস্তবায়ন করবে জেলা পরিষদ, সিলেট, যার মাধ্যমে সিলেটের বিশেষ শিশুদের জন্য নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

সিলেট জেলা পরিষদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাসিব আহামেদ বলেন, ‘মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিওলেটারে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামীতে প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী এই বাজেটের ওপর আপাতত দরপত্র আহ্বান করা হবে।’ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিলেটসহ সারাদেশে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের আওতায় ৭৪টি স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। যার মধ্যে সিলেটের স্কুলটির ভবনই হবে প্রথম আদর্শ ভবন। নতুন এ ভবনের অত্যাধুনিক নকশা তৈরি করেছেন অপু চক্রবর্তী ও আর কে চৌধুরী আনন্দ। চারতলা এ ভবনের নিচতলায় বিশেষ শিশুদের জন্য থাকবে চারটি থেরাপি সেন্টার। যেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী শিশুদের থেরাপি দেওয়া হবে। ৭০০ স্কয়ার ফুটের একটি আদর্শ অডিটোরিয়াম, আর্ট গ্যালারি, অভিভাবক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, এবং ১০টি শ্রেণিকক্ষ। সকল ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ রূপে বিশেষ শিশুদের ব্যবহার উপযোগী করে নকশা করা হয়েছে ভবনটি।

 

সিলেটের আর্ট অ্যান্ড অটিস্টিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইসমাইল গণি হিমন বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের যে স্কুল এটি অটিস্টিক শিশুদের জন্য পূর্ণাঙ্গ আদর্শ স্কুল নয়। তাই আমাদের দাবির ভিত্তিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের বিশেষ উদ্যোগে এটি বাস্তবায়ন হবে। এটি সারাদেশের মধ্যে প্রথম মডেল অর্টিস্টিক স্কুল।’

 

তিনি বলেন, দশম শ্রেণি পর্যন্ত এ স্কুলে বর্তমানে ১১৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর থেরাপি প্রয়োজন হয়। আবার কেউ আর্ট করতে পছন্দ করে, কেউ গান গাইতে পছন্দ করে। সে ক্ষেত্রে তাদের চাহিদা অনুযায়ী তাদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলেও ভবনে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সেটি সঠিক বাস্তবায়ন হয় না। তাই এ ভবনটি নির্মিত হলে শিক্ষার্থীরা পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

 

আর্ট অ্যান্ড অর্টিস্টিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইসমাইল গণি হিমন আরও বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১০ শিক্ষক এবং ৯ কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে মোট ১৯ জন কর্মরত, যা পর্যাপ্ত নয়। সে ক্ষেত্রে আরও ২২ জন শিক্ষক বাড়ানোর জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

 

তিনি বলেন, শর্ত অনুযায়ী একজন শিশু যদি কোনো বিষয়ে আগ্রহী হয়, সে ক্ষেত্রে তার ইচ্ছানুযায়ী একজন শিক্ষক দিয়ে তাকে শিক্ষা ব্যবস্থা করতে হয়। শিশুদের দেখাশোনার জন্য অভিভাবকদেরও প্রশিক্ষণ দিতে হয়; কিন্তু সব কিছুতে বর্তমান ভবনে অনেক সীমাবদ্ধতা থাকে। তাই নতুন ভবনই হবে এসব শিশুদের জন্য উপযুক্ত স্থান।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।