১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

সিলেটে ইউপি নির্বাচনে ছাড় দেবে না বিএনপি।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

এম এ রশীদ সিলেট থেকেঃঃ

বর্তমান সরকারের অধীনে আর কোন নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও দলগতভাবে অংশ নিচ্ছে না দলটি। তবে দলীয় প্রতীকে অংশ না নিলেও সিলেটে আওয়ামী লীগকে খালি মাঠে গোল দিতে দেবে না বিএনপি। নির্বাচনে কোন ছাড় দিতে নারাজ বিএনপি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত প্রার্থীরা। স্বতন্ত্র হিসেবে তারা অংশ নিচ্ছেন নির্বাচনে। নির্বাচনী প্রচারণায় দলের পদবীধারী নেতারা সরাসরি অংশ না নিলেও শেষ মুহুর্তে নিজেদের প্রার্থীদের পক্ষে অনানুষ্ঠানিকভাবে কাজ করার প্রস্তুতি সেরে রেখেছেন তারা।

প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনে সিলেট জেলার কোন ইউনিয়ন পরিষদের নাম ছিল না। দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১১ নভেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে সিলেট সদর উপজেলার ৪টি, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৫টি ও বালাগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে। এসব ইউনিয়ন পরিষদের বেশিরভাগেই একক প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে একক প্রার্থী দিয়েও খুব সহজে পার পাচ্ছে না আওয়ামী লীগ। বিএনপি বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিলেও সেই সিদ্ধান্ত মানছেন না তৃণমূলের প্রার্থীরা। প্রায় সবকটি ইউপিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন বিএনপি নেতারা। কোন কোন ইউনিয়নে বিএনপির একাধিক নেতা প্রার্থী হয়েছেন। বাছাইকালে তাদের সবার মনোনয়ন নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সিলেট সদর উপজেলার ৪ ইউপির মধ্যে ৩টিতে বিএনপির পাঁচ জন স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন। এর মধ্যে হাটখোলা ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম। জালালাবাদে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি নেতা মো. আশিক আলী, মুজিবুর রহমান ও ইসলাম উদ্দিন এবং মোগলগাঁওয়ে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি নেতা ফজলু মিয়া।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের চারটিতে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন বিএনপির ৭ নেতাকর্মী। এর মধ্যে ইসলামপুর পূর্ব ইউনিয়নে মো. আলমগীর আলম, ইছাকলস ইউনিয়নে মো. মকবুল আলী, আবুছাদ আবদুল্লাহ ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. কুটি মিয়া, উত্তর রণিখাই ইউনিয়নে মো. গিয়াস উদ্দিন এবং দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নে শামস উদ্দিন শাহীন ও মো. শাহাব উদ্দিন।

এছাড়া বালাগঞ্জ উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ৩টিতে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির তিন নেতা। এই তিনজনই সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। এর মধ্যে দেওয়ানবাজার ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নাজমুল আলম, বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আবদুল মুনিম এবং পূর্ব গৌরিপুর ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান প্রার্থী হয়েছেন।
তৃতীয় ধাপে আগামী ২৮ নভেম্বর সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার ৬টি, জৈন্তাপুর উপজেলার ৫টি ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই তিন উপজেলার সবকটি ইউনিয়নেই নির্বাচনে প্রস্তুতি নিয়েছেন বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী।
সূত্র জানায়, কৌশলগত কারণে দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ না নিলেও দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নিজেদের ঘরের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে চাইছে বিএনপি। এজন্য দলের নেতাকর্মীদের নির্বাচনে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে না। বরং গোপনে এলাকায় জনপ্রিয় ও শক্তিশালী প্রার্থীদের গোপনে নির্বাচনে প্রার্থী হতে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। দলীয় সূত্র জানায়, যেসব প্রার্থীর গুরুত্বপূর্ণ দলীয় পদ রয়েছে কৌশলগত কারণে তাদেরকে পদ থেকে সরে নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানানো হতে পারে। নির্বাচনের পর আবার তাদেরকে বহাল করা হবে স্বপদে- এমন কৌশল নিয়ে রেখেছে বিএনপি।

নির্বাচনে দলের নেতাকর্মীদের প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবুল কাহের শামীম বলেন, বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। এরপরও যদি কেউ প্রার্থী হন তবে দলীয়ভাবে তাদেরকে কোন সহযোগিতা করা হবে না। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সেটাই বাস্তবায়ন করা হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।