২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।শনিবার

রংপুরের কাউনিয়ায় আমন চাষে কৃষকের সাফল্যের হাতছানি ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রিয়াজুল হক সাগর রংপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

 

কাউনিয়ায় চলতি আমন মৌসুমে চারা রোপণের পর ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে চাষীরা। প্রকৃতির বৈরি আবহাওয়ার পরেও সম্পুরক সেচ দিয়ে আমন চারা রোপণ করেছেন চাষিরা। কখনো প্রখর রোদ, আবার কখনো বৃষ্টিতে ভিজে ধান ক্ষেত পরিচর্যা করছেন কৃষক। বিগত বছরগুলোতে আমন মৌসুমে প্রবল বৃষ্টি আর বন্যার সাথে লড়াই করে আমন ধান চাষ করলেও এবারের চিত্র ভিন্ন। মৌসুমের শুরুতে দেখা যায়নি বন্যার তেমন প্রভাব। চারা রোপণের পরপরই দফায় দফায় বৃষ্টি আর কৃষকের নিবিড় পরিচর্যায় রোপণ করা চারা দ্রুত বেড়ে ওঠেছে। সবুজে ছেয়ে গেছে ক্ষেত। ভাদ্রের তালপাকা গরম ও হাল্কা হাওয়ায় দোল খাচ্ছে দিগন্ত জুড়ে সবুজের চাদরে ঢাকা ধান ক্ষেত। সারাদিন কৃষাণ-কৃষাণী আর কৃষি শ্রমিকের কর্মব্যস্ততায় মুখরিত ফসলের মাঠ। আর দিগন্ত জুড়ে সবুজের হাত সানির মাঝেই উঁকি দিচ্ছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। কৃষকদের স্বপ্ন পূরণের মাধ্যমে ক্ষুধামুক্ত, খাদ্যে স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে নানা উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকার। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ। তাদের আন্তরিকতায় কৃষিতে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। চলতি মৌসুমেও কৃষি বিভাগের পরামর্শে আধুনিক জাতের উচ্চ ফলনশীল ধান যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষা করছেন এলাকার কৃষকেরা। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমে হাইব্রিড ৯৫০ হেক্টর, উফশি ১০৫০ ও দেশী জাতের ১০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও শ্রমিক নির্ভরতা কমাতে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রায় ১শ বিঘা জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে। আধুনিক চাষ পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। সরেজমিনে ঘুরে ধান চাষের বিষয়ে কথা হয় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকের সাথে। নিজপাড়া গ্রামের ধানচাষী শ্রী প্রহলাদ চন্দ্র বলেন, এবছর চারা রোপণের সময় পানির অভাবে আমরা সেচ দিয়ে চারা রোপণ করেছি। এখন অবশ্য দুএকদিন পরপর বৃষ্টি হচ্ছে। ক্ষেতের অবস্থা আপাতত ভালোই দেখা যাচ্ছে। গদাই গ্রামের কৃষক গফুর আলী,ঢুষমারা চরের কুষক কোব্বাত বলেন, চলতি আমন মৌসুমে কৃষি অফিস থেকে আমাদেরকে বিনামূল্যে সার ও স্বল্পমেয়াদী উচ্চফলনশীল হাইব্রিড এজেড এবং বিনা-১৭ জাতের ধানবীজ দিয়েছে। আমরা কৃষি অফিসের পরামর্শ মত বীজ বপন ও রোপন করেছি। বর্তমানে ক্ষেতের চেহারা খুব ভালো। আশাকরি অন্যান্য বারের চেয়ে অধিক ফসল ঘরে তুলতে পারবো। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন জানান, চলতি মৌসুমে কাউনিয়ায় ১১৩৭৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে অর্জন হয়েছে ১১৪৬০ হেক্টর জমি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী জমিতে আমন চাষ হয়েছে। এখন ক্ষেতের পরিচর্যা ও সার প্রয়োগে কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ ও ক্ষেতের সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে আমাদের সকল উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষেতের বর্তমান অবস্থার কথা উল্লেখ করে ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আমনের বাম্পার ফলন হবে বলে আশবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি