১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।রবিবার

যশোরের ঝিকরগাছায় উপজেলায় কুল চাষে ভাগ্য বদলাতে চান সিরাজুম মনির

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মোঃ সাগর হোসেন,বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি ॥ যশোরের ঝিরগাছা উপজেলায় চলতি মৌসুমে কুল চাষে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বিগত বছরে এই দুই উপজেলায় লক্ষ মাত্রার চেয়ে ৫৫ হেক্টর বেশি জমিতে কুল চাষ হয়েছে। দিনে দিনে কুল চাষের প্রতি মানুষ ঝুঁকে পড়ছে বলে উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়।
মিষ্টি সুস্বাদু ও লাভ জনক হওয়ায় এ চাষের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান, ঝিকরগাছা উপজেলার মৌসুমি চাষিরা। কুল চাষের তথ্য অনুসন্ধানে তেমনি ভাবে পরিচয় মেলে ঝিকরগাছা উপজেলার সৎ, নির্ভীক ও কঠোর পরিশ্রমি, সফল ব্যবসায়ী এবং একজন সফল চাষী সিরাজুম মনিরের সাথে। জীবনের কঠিন কষাঘাতে লেখাপড়ার দৌরর্তটা বেশি দুরে না গড়ালেও সংসারের হাল ধরতেই যৌবনের প্রতিটি মুহুর্ত্বে তিনি পার করেছেন কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে। সিরাজুম মনির পেশায় একজন মুদি ব্যবসায়ী।
তিনি জানান, প্রথম দিকে তেমন কোন সফলতা না পেলেও কোন রকম তিনি ভেঙ্গে পড়েননি। বরং কঠোর ধৈর্যের সাথে তিনি ফল চাষের উপর আরো সাহস এবং শক্তি সঞ্চয় করেছেন। বিগত ২০১৭-২০১৮ সালে ৪ বিঘা জমিতে কুল চাষ করে চরম ভাবে লোকসানের মধ্যে পড়েন। গাছ এবং ফলন ভালো না হওয়ার কারনে তাকে এই লোকসানে পড়তে হয়। তারপরও জীবনের মোড় ঘুরাতে মনের সাধ মেটাতে বর্তমান মৌসুমেও সিরাজুম মনির একইভাবে কুল চাষ করে ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে মরিয়া হয়ে পড়েছেন। সিরাজুম মনিরের দুই বোন এবং তিন ভাইয়ের বিশালাকার যৌথ পরিবারের সদস্য সে।
সে ঝিকরগাছা উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের মাওঃ রুহুল আমীনের ছেলে। সরেজমিনে সিরাজুম মনিরের কুল বাগান ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি কুল গাছ গুলো প্রকৃতির আপন খেয়ালে মাথা উঁচু করে বেড়ে উঠেছে। প্রতিটি গাছে ফল ধরেছে আশানুরুপ হারে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবছর জীবনের ঘোর অন্ধকার কেটে আশার আলো ফুটবে বলে মনে করেন ফল চাষী সিরাজুম মনির।
জানতে চাইলে সিরাজুম মনির বলেন, এবছর কুল চাষে প্রায় ৫০ হাজার এবং বিগত বছরের গাছ এবং চিকিৎসা বাবদ ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়ে প্রায় ২ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। দুই বিঘা জমিতে কুলের গাছ ১৭০টি লাগিয়েছি ফলন ভালো এবং আবহাওয়া অনুকুৃলে থাকলে আশা করছি বিগত বছরের লোকশান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখবো।
ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিপংকর দাস বলেন, এ উপজেলায় চলতি বছরে কুল চাষ হয়েছে ৫০ হেক্টর জমিতে যা বিগত বছরের চেয়ে ১০ হেক্টর বেশি যা বিগত বছরের চেয়ে ৫ হেক্টর জমিতে বেশি চাষ হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি