১৪ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।শুক্রবার

ধর্ষনের শিকার কিশোরী, এখন ৬ মাসের গর্ভবতী। 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বাঘা(রাজশাহী)প্রতিনিধি।

রাজশাহীর বাঘায় এক কিশোরীর বিয়ের ১৫ দিনের মধ্যে ৬ মাসের গর্ভবতী হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। থানায় শনিবার (৩১ জুলাই) ভুক্তভূগীর পিতা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৬ মাস পূর্বে এই কিশোরী কে উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের একটি গ্রামের মাঠে ধর্ষন করা হয়েছে।

 

ভিকটিম(১৬) সাংবাদিকদের জানায়, আমার বাবা ভ্যান চালক, আমরা গরীব অসহায়,তাই বাড়ির প্বার্শে মাঠে নিয়মিত ছাগল চড়াতে ও খড়ি কুড়াতে যায়। ঘটনার ঐদিন আমি মাঠে খড়ি কুড়াতে গিয়েছিলাম তখন সোহেল আমাকে একা পেয়ে জোরপূর্বক একটি গ্যামার ক্ষেতে মধ্যে নিয়ে গিয়ে ধর্ষন করে। সোহেল একই গ্রামের মকবুলের ছেলে। আমি কান্না করলে সে আমাকে ভয় ভীতি দেখায় এবং এই বিষয়ে কাউকে কিছু বললে মারধরের হুমকি দেয়। তাই আমি ভয়ে আর কাউকে কিছু বলিনি।

 

মেয়েটির মা জানায়, গত ১৪ ই জুলাই আমার মেয়ের অন্য এক ছেলের সাথে বিয়ে দিয়েছিলাম। জামাই আমাদের জানায় মেয়ে অসুস্থ ডাক্তার দেখান। পরে বাঘাতে এক ক্লিনিকে পরীক্ষা করে দেখা যায় রিপোর্টে আমার মেয়ে ৬ মাস ৯ দিনের গর্ভবতী। আমার মাথা ঠিক নেই এ কথা জেনে।

 

ভিকটিম এর বাবা বলেন, গরীব মানুষ বলে কারও কাছে বিচার পাইনি। ওরা আমাদের পরিবারকে সব সময় মারধরের হুমকি দিচ্ছে ,বাড়ি থেকে বাহির হতে পারছিনা। স্থানীয় মেম্বার এর কাছে বার বার গিয়েও কোন বিচার পাইনি, চেয়ারম্যান ও করোনার জন্য বিচার শালিসে আসতে পারবে না বলেছে। তাহলে কি আমরা কোন বিচার পাব না ? বাধ্য হয়ে থানায় মামলা করি।

 

এবিষয়ে ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মতিন বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে আমি জানি। ঘটনাটি জটিল হওয়ায় ভুক্তভোগীদের থানায় যেতে বলেছি।

 

মনিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনা সম্পর্কে ভুক্তভোগী মেয়ের মায়ের মুখে শুনেছি। একে-তো করোনা তারওপর বিষয়টি জটিল হওয়ায় আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

 

এ ঘটনায় মামলার আসামী সোহেলের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার পরিবার জানিয়েছেন তাদের ছেলে এমন জঘন্য কাজ করতেই পারে না।

 

বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, এবিষয়ে একটি ধর্ষন মামলা হয়েছে। অভিযান চলছে আসামীকে আটকের জন্য এবং ঐ ভিকটিম কে রাজশাহীতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি