২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।শনিবার

তিন দিবসকে সামেনে রেখে ৭০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির প্রস্তুত ফুলের রাজধানী গদখালীতে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মোঃ সাগর হোসেন, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: বসন্ত উৎসব, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে মহাব্যস্ত সময় পার করছে ফুলের রাজধানী খ্যাত যশোরের গদখালির ফুল চাষিরা। ফুলের ক্ষেত থেকে সময়মত পর্যাপ্ত ফুল পেতে গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত তারা। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এ তিন দিবসে ৭০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এ এলাকার ফুলচাষিরা দিন রাত ফুল ও ফুলগাছের পরিচর্যা করছেন। যা আগে বছরে লক্ষ মাত্রা ছিল ৩৫ কেটি টাকা। ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে গদখালির চাষিরা বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ফুল বাজারে সরবরাহ করতে শুরু করেছে। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পয়লা বসন্ত, পরদিন ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এ দু’টি দিবসে প্রিয়জনের মন রাঙাতে মুখিয়ে আছেন দেশের তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সী মানুষ। প্রিয়জনের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে ফুলই শ্রেষ্ঠ। মানুষের মনের খোরাক মেটাতে গদখালীতে চাষিরা এখন দিনরাত পরিশ্রম করছেন। ফুল দেরিতে ফোটাতে গোলাপের কুঁড়িতে পরিয়ে রাখছেন ‘ক্যাপ’। ফলে বসন্ত দিবস, ভালোবাসা দিবস আর ২১ ফেব্রুয়ারিতে ফুল বাজারে দেওয়া নিশ্চিত হবে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে গোলাপ, গাঁধা, রজনীগন্ধা, গ্ল্যাডিওলাসসহ নানা রঙের ফুল। চোখ ধাঁধানো এই সৌন্দর্য কেবল মানুসের হৃদয়ে অনাবিল প্রশান্তিই আনে না, ফুল চাষ সমৃদ্ধিও এনেছে অনেকের জীবনে। ফুলেল স্নিগ্ধতায় এখন ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের। তার অন্তত ৭০ শতাংশই যশোরে উৎপাদিত ফুল। তবে এবারের ভালোবাসা দিবসে ফুলের যেমন উৎপাদন বেশি। তেমনি চাহিদা অন্য যেকোনো বারের তুলনায় বেশি। তাই শহর-নগরের ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী ফুলের অর্ডার নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় ক্ষুদ্র পাইকারী ব্যবসায়ীরা জানান, সামনে ভ্যালেনটাইনে ডে’তে ফুল বিক্রি বেশি হবে। বাজারে জারবেরা, গোলাপ, রজনীগন্ধা ফুলের চাহিদা বেশি। কৃষকরাও দাম ভালো পাবে। ফুলের রাজধানী গদখালী। কেউ কেউ ফুলের রাজধানী গদখালীকে ফুলের গ্রামও বলে থাকে। যশোর জেলার ঐতিহাসিক গদখালীর বিস্তৃর্ণ এলাকা পানিসারা, হাড়িয়া, পটুয়াপাড়া, টাওড়া, মাটিকোমরা, বাইসা, কাউরিয়াসহ অসংখ্য গ্রামের মাঠ জুড়ে শুধু ফুলের বাগান। গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা, গ্যানেডোলা, চন্দ্রমল্লিকাসহ অসংখ্য দেশী বিদেশি ফুলের সমারোহ। ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালীতে ১৯৮২ সালে বাণিজ্যিক ভাবে ফুলের চাষ শুরু হয় । রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আনুমানিক ৫২টি জেলায় সরবরাহ করা হয় গদখালীর এই বিভিন্ন জাতের ফুল। ফুলের রাজধানী, ফুলের রাজ্য বা ফুলের গ্রাম এই গদখালীতে প্রায় ৬ হাজার ফুল চাষী ঝিকরগাছা ও এর আশে পাশের এলাকা জুড়ে ১৫শ থেকে ১৬শ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ করছে। ফুল চাষে বাণিজ্যিক ভাবে লাভবান হওয়ায় আরো অনেক চাষি এ পেশায় ঝুঁকছেন। ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপঙ্কর দাস বলেন, বিদায়ী ২০১৮ সালে শুধু গদখালি থেকে ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকার ফুল বেচাকেনা হয়। এবছর তা ডবল অতিক্রম করবে বলে আশা করছি। ফুল চাষকে লাভজনক করে তুলতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নানা সহায়তা দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক মানের ফুল হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছে গদখালীতে উৎপাদিত গ্লাডিওলাস, জারবেরা ও রজনীগন্ধা। তিনি বলেন, ভারত, সৌদি আরব, মালায়েশিয়া, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশের থেকে বাংলাদেশের গদখালীতে উৎপাদিত ফুল অনেকাংশে উন্নত। ফুল রফতানির জন্য সবথেকে বেশি সমস্যা পরিবহন ব্যবস্থা। বিভিন্ন ট্রাক, বাসের ছাদে ও আলম সাধুতে করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ফুল পাঠানোতে অনেক ফুল নষ্ট হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে কিছু কিছু সময় লোকসানের মুখে পড়তে হয়। ফুল রফতানি বাড়াতে ভভিষ্যতে পরিবহন ব্যবস্থা সুন্দর হলে আগামীতে ফুল উৎপাদনে আরো সফলতা পাওয়া যাবে এবং তা থেকে প্রতি বছর গদখালীর ফুল চাষীরা হবে লাভবান ও সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি