২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

কৃষ্ণ সখা সুদামা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

অজিৎ সেন।।ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এক প্রিয় বন্ধু ছিলেন সুদামা নামে এক ব্রাহ্মন। তারা একই সাথে গুরুগৃহে শিক্ষালাভ করেছিলেন। তিনি গৃহস্থ হওয়া সত্ত্বেও সংগ্রহ পরিগ্রহকে দূরে রেখে ভাগ্য অনুসারে যা কিছু পাওয়া যেত তাতেই সন্তুষ্ট থাকতেন। ভগবানের উপাসনা এবং ভিক্ষার্জনই ছিল তার রোজকার কর্মসূচী। পত্নী অতীব পতিব্রতা এবং নিজের স্বামীর সাথে সর্বাবস্থাতেই সন্তুষ্ট থাকতেন।
একদিন দুঃখিনী সেই পতিব্রতা ক্ষুধার তাড়নায় কাঁপতে কাঁপতে তার স্বামীর কাছে গিয়ে বললেন, হে স্বামী, সাক্ষাৎ লক্ষ্মীপতি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আপনার বন্ধু। তিনি শরনাগত বৎসল এবং ব্রাহ্মন ভক্ত। আপনি তার কাছে একবার যান। তিনি যখন জানবেন যে আপনি ভাতের অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন তখন তিনি আপনাকে যথেষ্ট ধন সম্পত্তি দেবেন। তিনি এখন দ্বারকায় নিবাস করছেন। আপনি সেখানে নিশ্চই যান। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে সেই দীননাথ আপনি না বললেও আমাদের দারিদ্র দূর করে দেবেন।
সুদামার স্ত্রী যখন কয়েকবার একই কথা বলে তাকে দ্বারকা যাবার জন্য বলতে লাগলেন তখন সুদামা মনে মনে ভাবলেন অর্থের জন্য যাবার প্রশ্ন ওঠে না। কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দর্শন হয়ে যাবে। এই অজুহাতে জীবনের এই সর্বশ্রষ্ঠ লাভ তো হয়ে যাবে। এই রকম ভেবে সুদামা দ্বারকা যাবার মনস্থির করলেন। তিনি তার স্ত্রীকে বললেন কল্যানী, শ্রীকৃষ্ণকে দেবার মত যদি বাড়িতে কিছু থাকে তবে আমায় দাও। আশে পাশের ব্রাহ্মন বাড়ি থেকে ব্রাহ্মনী চার মুঠো চিঁড়ে চেয়ে নিয়ে এসে একটা কাপড়ে পুটলী করে দিলেন আর সেইটা ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে উপহার দেবার জন্য স্বামীর হাতে দিলেন। ব্রাহ্মন সুদামা ওই চিঁড়ের পুটলী নিয়ে দ্বারকার পথে রওনা হলেন। রাস্তায় যেতে যেতে তিনি ভাবতে ভাবতে চললেন যে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সাথে আমার দেখা কি করে হবে?
দ্বারকায় পৌঁছে সুদামা অন্যান্য ব্রাহ্মনদের জিজ্ঞাসাবাদ করে শ্রীকৃষ্ণের মহলে গিয়ে পৌঁছলেন। সকলে তার দীনহীন অবস্থা দেখে তাকে উপহাস করতে লাগলো। তিনি দারোয়ানকে বললেন ভাইরে, শ্রীকৃষ্ণকে গিয়ে বলো যে তার সাথে দেখা করবার জন্য তার বাল্যবন্ধু সুদামা এসেছে। দ্বাররক্ষীরা তো প্রথমে আমলই দিলো না কিন্তু যা হোক তারা ভিতরে গিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে বললো প্রভু, দুয়ারে একজন অতি দরিদ্র ব্রাহ্মন এসেছে। তার সারা গায়ে ধূলোর পস্তারা পড়া, পাগুলো সব ফেটে চৌচির। তার দারিদ্র দেখে দ্বারকার ধূলোও আশ্চর্য হয়ে গেছে। সে বলছে তার নাম সুদামা, আর বলছে সে নাকি আপনার বন্ধু।
সুদামার নাম শোনা মাত্র ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজের সিংহাসন থেকে নেমে এলেন আর খালি পায়ে দুয়ারের দিকে ছুটে চললেন। সেখানে গিয়ে সুদামাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, হে বন্ধু, তুমি তো এসেছো কিন্তু অনেক কষ্ট ভোগ করার পর এসেছো। দ্বারকায় তোমার শুভাগমন হোক। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সুদামাকে নিজে গিয়ে তার নিজের ঘরে খাটের ঘরে বসালেন। তার পা দুখানা ধুইয়ে দিয়ে চরনামৃত গ্রহন করলেন এবং স্নান করিয়ে পরবার জন্য রেশমী বস্ত্র দিলেন। রুক্মিনী স্বয়ং তাকে পাখার বাতাস করতে লাগলেন এবং ভগবান তাকে বহুবিধ সুস্বাদু খাবার দিলেন ভোজনের জন্য। বহুক্ষন নিজেদের মধ্যে বাল্যকালের স্মৃতি রোমহ্নন করার পর শ্রীকৃষ্ণ বললেন বন্ধু, বৌদি আমার জন্য কি পাঠিয়েছে? সুদামা প্রথমে একেবারে সঙ্কুচিত হয়ে পড়লেন কিন্তু শেষকালে শ্রীকৃষ্ণ নিজেই সেই চিঁড়ে বের করে ফেললেন। সেই চার মুষ্টি চিঁড়ে খেলেন। এরপর কিছুদিন সুদামা দ্বারকায় থাকলেন কিন্তু যেই জন্য আসলেন তা চাইতে পারলেন না। কিন্তু ভগবান সবই জানতেন। সুদামা দ্বারকা থেকে বাড়িতে চলে এলেন কিন্তু একি বাড়ির অবস্থা পরিবর্তন হয়ে গেল, সুদামার অভাব দূর হলো। সুদামা বুঝলেন এসবই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের লীলা। ধন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বন্ধুত্ব।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি