২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৭ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

আরব আমিরাতে দ্বিতীয় দফায় সাধারণ ক্ষমার সময় বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

♦জসিম মাহমুদ♦
সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের বৈধ হতে দ্বিতীয় দফায় সাধারণ ক্ষমার সময় বৃদ্ধি করেছে দেশটির প্রশাসনিক দফতর। ৪৭তম জাতীয় দিবসের ‘উপহার’ হিসেবে অবৈধ প্রবাসীদের জন্য এই সময় বাড়ানো হয়েছে বলে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। এ নিয়ে পাঁচ মাসে ঠেকেছে সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ।

নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ায় দু’দিন আগেও প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। পাসপোর্ট হাতে না পাওয়ায় স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কায় কিছু বাংলাদেশি প্রবাসীর কান্নায় ভারী হচ্ছিল আমিরাতের বাতাস। দুবাই কনস্যুলেটের বারান্দায় হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন একজন পাসপোর্টপ্রত্যাশী প্রবাসী। চোখের জলে ভেসে যেতে থাকে তার ‘বৈধ’ হবার স্বপ্ন। কাঙ্খিত পাসপোর্ট আটকে আছে ঢাকার আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে। চোখে মুখে তার হতাশা। স্বপ্ন পূরণে একবুক আশায় বুক বেঁধে ছিলেন তিনি।

তার মতো আরেকজনের কান্নাও দাগ কাটে প্রবাসীদের হৃদয়ে। দুই সন্তানের এক জননী। নিজের আয়ের অর্থে চলে সংসার, সেই পয়সায় খেয়ে-পরে বড় হচ্ছে দুই সন্তান। অবৈধ অবস্থায় পালিয়ে বাঁচিয়ে কাজ করার চেয়ে সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিয়ে বৈধ হতে ছুটে এসেছিলেন দুবাই কনস্যুলেটে। যাবতীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করেছিলেন পাসপোর্টের। প্রত্যাশা ছিল পাসপোর্ট হাতে নিয়েই ৬ মাসের জব সিকার ভিসা নেবেন, এরপর খুঁজবেন বৈধতার জন্যে কাজের ভিসা। অথচ তারও ভাগ্যে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। পুলিশ ভেরিফিকেশন ও ডেম্যু জটিলতায় আটকে যায় কাঙ্খিত পাসপোর্ট। এমন করে প্রায় সাত শতাধিক পাসপোর্ট আটকা পড়ে দেশে। শেষ হয়ে যায় সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ, শেষ হয় ৬ মাসের জব সিকার ভিসার আবেদনের সুযোগও। মেয়াদ শেষের ঠিক তিন দিনের মাথায় হঠাৎ তাদের জন্যে সুখবরের বার্তা প্রকাশ হলো ।

আবারও বাড়লো সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ। এবার সময় বৃদ্ধি করা হলো ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। অবৈধ প্রবাসীদের বৈধতা দিয়ে মুখে হাসি ফোটাতে চায় দেশটির সরকার। এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বস্তি নামে প্রবাসীদের মাঝে। খুশিতে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন সাধারণ ক্ষমার সুযোগপ্রত্যাশী প্রবাসীরা।

সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সংযুক্ত আমিরাতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ডা. মুহাম্মদ ইমরান বলেন, ‘জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিশেষ বিবেচনায় সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার আবারও সময় বৃদ্ধি করেছে। যাদের পাসপোর্ট দূতাবাসে আছে, দূতাবাস চেষ্টা করছে পাসপোর্টগুলো তাদের হাতে তুলে দেওয়ার। এছাড়া যাদের পাসপোর্ট আটকে আছে, সেগুলোও দ্রুত চলে আসবে।’ বৈধতা ছাড়া আমিরাতে অবস্থানের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘যারা কোনও কারণে বৈধ ভিসা পাবেন না, তারা আউট পাস নিয়ে দেশে ফিরে গিয়ে নতুন করে প্রবাসে আসার চেষ্টা করতে পারবেন’।

উল্লেখ্য, ১ আগস্ট থেকে প্রথমে ৯০ দিনের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হলেও পরবর্তীতে প্রথম পর্যায়ে একমাস এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও এক মাস সময় বৃদ্ধি করা হয়। এই সময়ের মধ্যে আমিরাতে অবস্থানরত অবৈধ প্রবাসীরা যেমন বৈধতার সুযোগ পাবেন। তেমনি চাইলে দূতাবাস ও কনস্যুলেটের মাধ্যমে জেল জরিমানা ছাড়া আউট পার্মিট নিয়ে নিজ দেশে ফিরে যেতেও পারবেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।