২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

সুনামগঞ্জ শহরে সরকারী কাজের নামে চলছে অবৈধ ড্রেজার মেশিনের তান্ডব বিভিন্ন মহলে অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।

সুনামগঞ্জ পৌর শহরে প্রশাসনের চোখের সামনে চলছে অবৈধ ড্রেজার মেশিনের তান্ডব নীলা। সরকারী কাজের নামে করে চলছে বেসরকরী মালিকানা উন্নয়ণ ও অবৈধ ব্যবসার চমৎকার কৌশল। সারা শহর জোরে বসানো হয়েছে অবৈধ ভাবে বালি মিশ্রিত মাটি বিক্রির ড্রেজার মেশিনের সংযোগ পাইব। আর এসব চলছে প্রশাসনের চোখের সামনে এমনটি অভিযোগ পাওয়া গেছে অবশেষে বাস্তবে ক্যামেরায় উঠে আসে অনেক অজানা চিত্র। এছাড়াও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে হাত মিলিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাকিঁ দিয়ে চলছে লাখ লাখ টাকার অবৈধ ব্যবসা এমনটির তথ্য উঠে আছে অনেকের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত পত্রে।

এসমস্ত অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে সরকারের বিভিন্ন মহলে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে বলেও যানা যায় । আবেদন সূত্রে যানা যায় গত ৭জুন ২০২১ইং তারিখে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ভূমি মন্ত্রাণালয় সায়রাত-২ অধিশাখা থেকে-৩১.০০.০০০০.০৫১.৩৭.০০৭.২০.২১১নং স্বারকে একটি অনুমোদন পত্র দেওয়া হয়েছে । অনুমোদন পত্রে বিষয় উল্লেখ করা হয় সরকারি কাজে ব্যবহারের নিমিত্তে অবাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সুনামগঞ্জ সুরমা নদীর তলদেশ হতে মেশিন দিয়ে মাটি বালু/ মিশ্রিত মাটি উত্তোলন। যার সুত্র স্বারক নম্বর-০৫.৪৬.৯০০০.০০৮.১২.০২১.২০(অংশ নতি)-৮০০(৭),তারিখ ০১/০১/২০২১ইংরেজি। ভূমি মন্ত্রাণালয়ের স্বারকনং-৩১.০০.০০০০.০৫১.৩৭.০০৭.২০.২৪৬তারিখ ০৯/০৯/২০২০ইংরেজি । ঐ স্বারকের প্রেক্ষিতে সরকারি নাসিং কলেজ স্থাপনের লক্ষ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলাধীন ব্রাক্ষণগাঁও/১০২নং মৌজার ১নং খাস খতিয়ানের ১৪৫১নং দাগে ২৪.৮৭একর ও হরিণাপাটি/৯৯নং মৌজার ১৫৩৫নং দাগে ১৩.০০একর ভূমি হতে ২০(বিশ) লক্ষ ঘনফুট বালি মাটি /বালু মিশ্রিত মাটি উত্তোলনের জন্য শাহীনুর রশিদ চৌধুরী,প্রোপাইটর মা এন্টার প্রাইজের নামে উপজেলা সুনামগঞ্জ সদর, জেলা সুনামগঞ্জ কর্তৃক দাখিলকৃত আবেদনের বিপরীতে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন,২০১০-এর ৪(চার) ধারা বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় তথ্যাদির স্বপক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রত্যয়ন প্রদান করায় অবাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বালু উত্তোলনের প্রস্তাবটি শর্তানুযায়ী নির্দেশক্রমে অনুমোদন দেওয়া হয়।

যা সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে ৩১.০০.০০০০.০৫১.৩৭.০০৭.২০.২১১/১(০৮)নং স্বারকে ভূমি মন্ত্রানালয়ের সহকারী সচিব মো: জসিম উদ্দিন পাটওয়ারী স্বাক্ষরিত অনুমোদন পত্রটি পাঠানো হয় গত ৭ইজুন২০২১ইং তারিখে। অনুমোদন পেয়েই সরকারি কাজের নামে মা এন্টার প্রাইজের প্রোপাইটর শাহীনুর রশিদ চৌধুরী সুনামগঞ্জ পৌর শহরে নাসিং কলেজ স্থাপনের লক্ষ্যে মাটি বরাটের নামে অবৈধ ভাবে পৌর শহরের বিভিন্ন মালিকের জায়গা টাকার বিনিময়ে ভরাট দেওয়ার জন্য অনেক মালিকানাধীন জায়গায় ড্রেজার মিশিনের পাইব পিটিং করে চলেছেন। এছাড়াও সুনামগঞ্জ মল্লিকপুর এলাকার রনজিৎগং বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের মাটি ভরাটের নাম করে বড়পাড়া বিডিআর ক্যাম্প এর সামন দিয়ে লাইন স্থাপন করে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অবৈধ ভাবে ভরাট করিতেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে সচেতন মহলের ব্যক্তিবর্গরা তাদের জিজ্ঞাসা করা হলে ড্রেজার ব্যবসায়ীরা জানান জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপার, পৌর মেয়র,উপজেলা নির্বাহী অফিসার , এ/সি ল্যান্ড ও থানার ওসি এবং তহসিলদারসহ সবাইকে অংশ দিয়ে ম্যানেজ করে ব্যবসা করছেন। কারও ক্ষমতা নেই তাদের ব্যবসা বন্ধ করার এমনটি উল্লেখ করা হয় লিখিত আবেদনে। গত ১২ই জুন জেলা প্রশাসক সুনামগঞ্জ বরাবরে অবৈধ ভাবে ড্রেজার মেশিন এর লাইন স্থাপন ও অবৈধ চালু ড্রেজিং লাইন বন্ধ করার জন্য ৪জনের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত আবেদন পত্র দাখিল করা হয়। আবেদন পত্রে হাসন নগর এলাকার আব্দুল হক,উকিল পাড়া এলাকার রিয়াদ আহমদ, বড়পাড়া এলাকার ফারুক মিয়া,এবং দ্বীন ইসলাম স্বাক্ষর করেন। এই আবেদনের অনুলিপি-সচিব মন্ত্রি পরিষদ বিভাগ বাংলাদেশ সচিবালয় ঢাকা, সচিব ভূমি মন্ত্রানালয় সচিবালয় ঢাকা, কমিশনার সিলেট বিভাগ, ডি.আই.জি সিলেট বিভাগ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সদর সুনামগঞ্জ,এবং সম্পাদক দৈনিক পত্রিকা বরাবরে প্রেরণ করা হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান শাহারিয়ার জানান বিষটি আমি অবগত হয়েছি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এব্যাপারে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া সুলতানা জানান সরকারী নির্দেশনার বাহিরে যদি কেউ অপরাধ জনিত কাজ করেন আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে এবং সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এব্যাপারে পৌর মেয়র নাদের বখত ্ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান জেলা প্রশাসকের সুপারিশকৃত সরকারী উন্নয়ণ কাজের আদেশকৃত কাগজের প্রেক্ষিতে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে রোড কাটার পারমিশন দেওয়া হয়েছে কেউ যদি অবৈধ ভাবে নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া অন্য কোথাও ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি বালি বিক্রি করে সেটা জেলা প্রশাসককে জানান তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

এব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো: জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান সরকারী উন্নয়ণ কাজের জন্য ভূমি মন্ত্রানলায়রের আদেশের প্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্থান ছাড়া অন্য কোথাও যদি কেউ বালি বিক্রি করার চেষ্টা করেন আমাদের জানাবেন আমরা তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করব , অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন ও ড্রেজার মেশিন বন্ধে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সব সময় কঠোর অবস্থানে কাজ করে যাচ্ছে। কেউ যদি প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে অবৈধ কাজ করার চেষ্টা করেন তাদের বিরুদ্ধে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।##

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি