২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।শুক্রবার

শ্যামনগর ভামিয়া রপ্তানবাড়ী সার্বজনীন মন্দিরটি সংস্কার জরুরী।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রনজিৎ বর্মন শ্যামনগর(সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি ঃ

হিন্দু ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী বার মাসে তের পার্বণ করে থাকি। কোন দিন টাকার জন্য ভাবতে হয় না। কোথা থেকে সকল পূজা সম্পন্ন হয় আমি নিজে জানিনা। বড় বড় পূজা যেমন দূর্গা পূজা, বাসন্তি পূজা, কালী পূজা, স্বরস্বতি পূজা, লক্ষ্মী পূজা ,নারায়ণ পূজা,মনসা পূজা প্রায় সব পূজা করে থাকি। ঠাকুরের আর্শিবাদে বা ঠাকুরের নির্দেশে বিভিন্ন রোগী দেখে থাকি । বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় নিজে যেয়ে রোগী দেখে এসেছি। আমার জানা মতে তারা ঈশ^রের কৃপায় ভাল হয়েছে। আমার ঔষধ ঠাকুরের জল ,মাটি, ঘট বিতরণ এ সব কিছু। সকল সম্প্রদায়ের মানুষের বাড়ীতে আমি যাই এবং আমার যেতে হয়। এমন সব কথা বলছিলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ভামিয়া পোড়াকাটলা গ্রামের মৃত নিতাই রপ্তানের স্ত্রী ননী বালা রপ্তান। তিনি আরও বলেন এসব কিছু আমার ঈশ^র আছে তাই সম্ভব হয়েছে। আমার কোন সম্পত্তি নাই,ব্যবসা নাই কিছু নাই যা দিয়ে এমন বড় বড় পূজা করতে পারব। তিনি বলেন পূজার আগে বেশ কয়েকটা গ্রাম ঘুরে ভিক্ষা করি যা উঠে তাই দিয়ে পূজা সম্পন্ন করি।

 

তার সকল পূজা অর্চ্চনা হয়ে থাকে ছোট একটা জরাজীর্ণ মন্দিরে। সেটি হল ভামিয়া রপ্তানবাড়ী সার্বজনীন মন্দির। তিনি বলেন বড় বড় পূজা অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়। এমনকি নিকটবর্তী বিজিবি ক্যাম্প, নৌপুলিশ ক্যাম্পের সদস্যবৃন্দও কোন কোন সময় অনুষ্ঠানে চলে আসেন।

 

বর্তমানে তার বয়স ৭৭ বৎসর । কিন্ত চাল চলন ও চেহারায় মনে হয় বয়স আরও কম। বিধবা হয়েও তিনি সধবা অর্থাৎ হিন্দু ধর্মীয় মতে এখনও শাখা সিঁদুর পরে থাকেন। তার স্বামী ১৯৭৩ সালে একটা ছেলে ও দুইটা মেয়ে সন্তান রেখে আটুলিয়া গ্রামে এক মহানাম যজ্ঞ অনুষ্ঠানে মারা যান। এর পর একটি মেয়েও মারা যায়। এক মাত্র ছেলে গণেশ চন্দ্র রপ্তান মন্দিরের পাশে নিজ বাড়ীতে পরিবার নিয়ে বাস করেন। ননী বালা রপ্তান বলেন স্বামী মারা যাওয়ার পর তাকে ঈশ^র কতৃক এই বেশ ধারণ করার জন্য স্বপ্নে বলা হয় আর সেই থেকেই শাখা,সিঁধুর পরে আছেন। তিনি মন্দিরের মধ্যে থাকেন।

 

সরজমিনে দেখা যায় মন্দিরের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন দেব দেবীর ছোট বড় মূর্তি রয়েছে। নিরামিষ খেয়ে থাকেন, আবার কোন সময় দুধ খেয়ে থাকেন আবার না খেয়ে থাকেন এমন সব বিভিন্ন কথা বললেন। তিনি তীর্থ স্থান ভারতের বৃন্দাবন ,মায়াপুর, নবদ্বীপ,মহারাষ্ট্র সহ অন্যান্য স্থানে ঘুরেছেন।

ননী বালা রপ্তান বলেন আমি এক জন নারী আমার মন্দিরে বার মাসে তের পার্বণ করে থাকি। কিন্ত মন্দিরটি আজও বড় করতে পারিনী সংস্কার করতে পারিনী। কোন এক সময় সামান্য কিছু অনুদান পেয়েছেন সেটা দিয়ে কিছু কাজ করেছেন বলে জানান। তাই যথাযথ কতৃপক্ষের নিকট জোর দাবী করেন ভামিয়া রপ্তানবাড়ী সার্বজনীন মন্দিরটি জরুরী ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রম করার।

 

ছবি- শ্যামনগর ভামিয়া রপ্তানবাড়ী সার্বজনীন মন্দিরে পূজা অর্চনা করছেন ননী বালা রপ্তান।

 

 

রনজিৎ বর্মন

তাং-৪.৮.২১

 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি