১৯শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।শুক্রবার

লালমনিরহাটের বুয়েট ছাত্র ফারহান তানভীর হৃদয়ের “স্মার্ট হোম” আবিস্কার।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ:

ফারহান তানভীর হৃদয়-এঁর জন্ম লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নে। তাঁর বাবা সফিদ আলী ও মা ফারহানা ইয়াসমিন। বাবা-মা ২জনই শিক্ষকতা পেশার সাথে জড়িত। ১ভাই ১বোনের পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তান বুয়েটের তৃতীয় বর্ষে অধ্যায়নরত মেধাবী ছাত্র ফারহান তানভীর হৃদয়। দীর্ঘ কয়েক বছরের প্রচেষ্টার পরে প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে মানব জীবনের বসবাসযোগ্য সিকিউরিটি নিয়ে গবেষণা করে অবিস্মরণীয় সফলতা নিয়ে এসেছে “স্মার্টহোম” নামে একটি বাড়ির প্লান।

 

এটি নির্মাণের সাথে জড়িয়ে থাকে গভীর স্বপ্ন, অসংখ্য গল্প। বাড়ি নির্মাণকে ঘিরে যেমন থাকে একটি সুখী পরিবারের স্বপ্ন, আর গল্প, তেমনি অবকাঠামোগত যেকোনো নির্মাণের সাথেও জড়িয়ে থাকে উন্নত একটি দেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন।

এমন আবেগ জড়ানো স্বপ্নগুলো সত্যি করতে, নির্মাণের উপকরণগুলো হতে হয় মানসম্পন্ন। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সাথে টক্কর দিতে বিশ্বমানের বাড়ির প্রয়োজন নির্মাণ শিল্পে।

 

এ অনুধাবন থেকেই বাংলাদেশের নির্মাণ বাড়িগুলো বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিনিয়ত আধুনিক সব প্রযুক্তি ও সিস্টেমের সংযোজন এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে, সময়ের পরিক্রমায় বাড়ি নির্মাণ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হিসেবে তাঁর এ মহাপরিকল্পনা।

 

তাঁর পরিকল্পিত আবিস্কারের

স্মার্টহোম বাড়িটিতে যেসব সুবিধা সমূহ থাকছে-

 

শরীরের তাপমাত্রার ভিত্তিতে দরজা খুলবে।

আমরা জানি যে বর্তমানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপক হারে বেড়েছে। তাপমাত্রা বেশি হওয়া করোনা ভাইরাস সংক্রমনের প্রাথমিক স্তর। যদি কোনো ব্যক্তির শরীরের তাপমাত্রা বেশি হয়, তাহলে দরজা খুলবে না। তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেই কেবল দরজাটি খুলবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে।

 

ঘরের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার ভিত্তিতে ফ্যান এবং এসি অটোমেটিক অন অফ হবে। যেমন শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকে। তখন ফ্যান এবং এসি বন্ধ থাকবে। আবার তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা বেশি হলে ফ্যান এবং এসি অটোমেটিক চালু হয়ে যাবে।

 

ট্যাংকের পানির লেভেলের ভিত্তিতে পাম্প অফ অন হবে। আমরা সচরাচর পাম্পের সুইচ ম্যানুয়ালি অন করি ট্যাংকে পানির লেভেল কমে গেলে। স্মার্ট হোমে পানি নির্দিষ্ট লেভেলের নিচে নামলেই পাম্প স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন হবে। আবার নির্দিষ্ট লেভেলের উপরে উঠলে পাম্প স্বয়ংক্রিয়ভাবে অফ হবে।

 

ঘরে আগুন লাগলে বা গ্যাস লিকেজ হলে এলার্ম বাজবে এবং কর্তৃপক্ষের কাছে এসএমএস যাবে। কর্তৃপক্ষ যদি ঘরের বাইরেও থাকে, তাহলেও সে এসএমএসের মধ্যমে ঘরের কন্ডিশন এবং এলার্ট জানতে পারবে।

 

একটি এন্ড্রয়েড এ্যাপের মাধ্যমে সব গুলো ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। ম্যানুয়ালি একটি অ্যাপ দিয়েও সব গুলো ডিভাইস চালু বা বন্ধ করা যাবে।

 

রুমে যদি কম পক্ষে ১জন থাকে, তাহলে অটোমেটিক লাইট অন হবে। আবার কেউ না থাকলে অফ হয়ে যাবে।

 

স্মার্ট হোম প্রজেক্ট নিয়ে ফিউচারে কি কি কাজ করার ইচ্ছা আছে তাঁর। তা হলো-

 

ওয়াইফাই ভিত্তিক কন্ট্রোল সিস্টেম ডেভেলপ করা যাতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ডেটা ট্রান্সফার এবং মনিটরিং করা যায়।

 

একটি সিকিউরিটি ক্যামেরার সাহায্যে ফেস ডিকেক্ট করে প্রবেশ করতে দেওয়া। এক্ষেত্রে অপরিচিত কাউকে ঘরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এর মধ্যমে অ্যাটেন্ডেন্স সিস্টেমের ডেভেলপ করা।

 

জিপিএসের সাহায্যে প্রাইভেট কার এবং পরিবারের সদস্যদের অবস্থান জানা যাবে এবং একটি সেন্ট্রাল সার্ভারের মাধ্যমে তাদেরকে ঘরে বসেই মনিটর করা যাবে।

 

এমন একটি অ্যাপ ডেভেলপ করা যাতে ফ্যামিলি মেম্বাররা একজন আরেকজনের সাথে যোগাযোগ করতে পারে।

 

ঘরে আগুন লাগলে কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণের মাধ্যমে সেটা বন্ধ করার ব্যবস্থা থাকবে।

 

আবহাওয়া সংক্রান্ত কোন জটিলতা দেখা দিলে ঘরে এলার্ম বাজবে। এতে করে পরিবারের সদস্যরা সতর্ক হওয়ার সুযোগ পাবে।

 

বুয়েট ছাত্র ফারহান তানভীর হৃদয় সাংবাদিকদের বলেন, সুন্দর ও প্রযুক্তি ব্যবহারে অল্প ব্যয়ে নানামুখী সুবিধা নিয়ে বসবাস যোগ্য এক পৃথিবী গড়ে তোলার স্বপ্নপূরণে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ চিন্তাভাবনা নিয়েই এই গবেষণা এবং এই আবিস্কার।

বাংলাদেশের যদি বড় বড় কোম্পানীগুলো এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাড়ি নির্মাণ কাজ করে এতে অনেক খরচ কমের পাশাপাশি খুব অল্প সময়ে বাড়ি তৈরী করতে পারবে।

 

তাঁর এই সাফল্যে পরিবারসহ এলাকাবাসীও খুশি। তাঁর এ কৃতিত্বকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।

 

উল্লেখ্যে যে, ফারহান তানভীর হৃদয় কৃতিত্বের সাথে ২০১৫ সালে বুড়িমারী হাসর উদ্দিন দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ২০১৭ সালে রংপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।

মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি। ০১৭৩৫৪৩৮৯৯৯

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।