২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

রাজশাহীতে আরও ১৭ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে আরও ১৭ জনের। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (০৪ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার (০৫ আগস্ট) সকাল ৯টার মধ্যে হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে এরা মারা যান।

এই এক দিনে রাজশাহীর পাঁচজন, নাটোরের চারজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনজন, পাবনার তিনজন, নওগাঁর একজন এবং কুষ্টিয়ার একজন করে মারা গেছেন। এদের মধ্যে করোনায় ছয়জন, করোনা সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে আটজন এবং করোনা নেগেটিভ হয়ে তিনজন মারা গেছেন।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নাটোরের তিনজন, রাজশাহীর একজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন এবং নওগাঁর একজন মারা গেছেন করোনা সংক্রমণে। করোনা সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন রাজশাহীর তিনজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুজন, পাবনার দুজন এবং নাটোরের একজন। করোনা নেগেটিভ সত্ত্বেও অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় রাজশাহী, পাবনা এবং কুষ্টিয়ার একজন করে মারা গেছেন।

পরিচালক আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ চারজন মারা গেছেন হাসপাতালের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে। এ ছাড়া ১৬ ও ২৯/৩০ নম্বর ওয়ার্ডে তিনজন করে, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে দুজন এবং নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), ১, ৫, ১৪, ২২ ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে একজন করে মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৫১৩ শয্যার রামেক করোনা আইসোলেশন ইউনিটে রোগী ভর্তি ছিলেন রাজশাহীর ১৭০ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৪০ জন, নাটোরের ৫৭ জন, নওগাঁর ৩২ জন, পাবনার ৬৬ জন, কুষ্টিয়ার আটজন, চুয়াডাঙ্গার পাঁচজন, জয়পুরহাটের তিনজন, বগুড়ার দুজন এবং ঝিনাইদহ জেলার একজনসহ মোট ৩৯১ জন। ২০ শয্যার আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন ২০ জন।

এদের মধ্যে করোনা নিয়ে এ পর্যন্ত ভর্তি রয়েছেন ১৮৮ জন। এ ছাড়া উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ১২৬ জন। করোনা ধরা পড়েনি হাসপাতালে ভর্তি ৭৭ জনের নমুনায়। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৩৯ জন। এই এক দিনে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩৬ জন।

এর আগে বুধবার (০৪ আগস্ট) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল ল্যাবে ৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা ধরা পড়েছে ৩৩ জনের নমুনায়। একই দিনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে আরও ২৮২ জনের। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪৫ জনের। পরীক্ষার অনুপাতে রাজশাহীর ২৩ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ১ আগস্ট ১৮ জন, ২ আগস্ট ১৫ জন, ৩ আগস্ট ১৯ এবং ৪ আগস্ট ১৪ জনসহ ৬৬ জন মারা যান। এর মধ্যে করোনায় ২৪ জন, করোনা সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে ৩৪ জন এবং করোনা নেগেটিভ সত্ত্বেও অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় আটজনের মৃত্যু হয়।

গত বছরের এপ্রিল থেকে এই বছরের জুলাই পর্যন্ত রামেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯ হাজার ৩৯ জন রোগী। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন ২ হাজার ৫১১ জন।

এই ১৫ মাসে মারা গেছেন ১ হাজার ৬০৯ জন। এর মধ্যে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫২৬ জনের। অন্যদের মৃত্যু হয়েছে উপসর্গ নয়তো অন্যান্য শারীরিক জটিলতায়।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি