১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।শনিবার

মোরেলগঞ্জে ১৮টি হিন্দু পরিবারের ফসলি জমি দখল: ৮ম শ্রেণীর মেয়েকে জোরপূর্বক বিয়ে!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সোনাই নিউজ:আমরা অসহায়। পথে ঘাটে লাঞ্চিত হচ্ছি। বিলান জমি জোর করে দখল করে নিচ্ছে। জুয়াড়ীদের কাছে লিজ দিচ্ছে আমাদের বাগান বাড়ি’।

মঙ্গলবার দুপুরে এমন নানা অভিযোগ করেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বাদুরতলা গ্রামের ১৮টি সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের নারী-পুরুষ সকলে।

ক্ষমতাসীন দলের নামে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা স্থানীয় কতিপয় উশৃঙ্খল ব্যক্তির একটি চক্র ওই ১৮টি পরিবারের ফসলি জমি দখল করে নিচ্ছে। বাগান লিজ দিয়ে সেখানে গোপন বৈঠক, জুয়া ও মাদকের আসর বসাচ্ছে। নানাভাবে অত্যাচার-নির্যাতন ও হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। ফলে বাপ-দাদার ভিটে-মাটিতে তারা স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পাছে না।

অভিযোগে জানা গেছে, বাদুরতল গ্রামের ১৮টি হিন্দু পরিবার নানাভবে নির্যাতিত। এরা হচ্ছেন, অতুল চন্দ্র হালদার, রাখাল মাঝি, জগদীশ হালদার, তরুণ হালদার, সঞ্জীব দর্জী, কমল সুতার, ক্ষুদিরাম মন্ডল, রবিন্দ্রনাথ হালদার, সুভাস মাঝি, তপন মাঝি, দিনেশ মিস্ত্রী, কালিপদ মিস্ত্রী, সন্ত্রেন্দ্রনাথ ঢালী, সন্তোষ ঢালী, পরিতোষ ঢালী, কৃষ্ণকান্ত মিস্ত্রী, রাম কৃষ্ণ মাঝি ও পরিতোষ হালধার।

ভূক্তভোগী অতুল চন্দ্র হালদার, রাম কৃষ্ণ মাঝি, তরুণ হালদার বলেন, স্থানীয় জাহাঙ্গীর হাওলাদার আ. লীগ নেতা ফরুক শেখসহ ৪/৫ জনের একটি চক্র এক বছল পূর্বে রাখাল মাঝির ৪৬ শতক ফসলি জমি দখল করে নেয়। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে রাখাল মাঝিকে সেই জমির দখল বুঝিয়ে দেন। কৃষ্ণকান্ত মিস্ত্রীর ৮ম শ্রেণিতে পডুয়া মেয়েকে জোরপূর্বক বিয়ে করেন এই চক্রের প্রধান জাঙ্গীর হাওলাদার। এর পরে কৃষ্ণকান্ত স্বপরিবারে ৭/৮বছর ধরে এলাকার বাইরে অবস্থান করে আবার ফিরে আসেন।

হালদার বাড়ীর বাগানে বসানো হয় জুয়া ও মাদকের আসর। জুয়াড়ীদের কাছে এই বাগানটি মাসে ১ হাজার টাকায় ইজারা দেয় প্রভাবশালী ওই চক্রটি।

সর্বশেষ, গত শুক্রবার অতুল হালদারের পূর্ব পুরুষ থেকে ভোগ দখলীয় এক একর ১২ শতক ফসলী জমিতে আকস্মিকভাবে চাষাবাদ শুরু করেছেন বাদুরতলা গ্রামের জাহাঙ্গীর হাওলাদার, ফারুক শেখ ও তাদের সহযোগীরা।

এসব অত্যাচারের বর্ণনা দিতে গিয়ে রাম কৃষ্ণ মাঝি বলেন, ‘আমরা কোথাও ন্যায় বিচার পাচ্ছি না। অজ্ঞাত কারণে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন ইউপি চেয়ারম্যান।
এভাবে অন্যায় অবিচার না করে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদেরকে বলে দিলেই আমরা সবকিছু রেখে চলে যেতে রাজি আছি’। এ সময় অনেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন অতুল চন্দ্র হালদার।

এদিকে জাহাঙ্গীর হাওলাদার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ফারুক শেখ ও আমি ক্রয় সূত্রে ওই জমিতে চাষাবাদে গিয়েছি। অন্যায় কিছু করা হয়নি।’

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি