১৭ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।২রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।বুধবার

মাধবপুরে স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধু হাসপাতালে:থানায় অভিযোগ দায়ের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মাধবপুর প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের মাধবপুরে যৌতুকের জন্য এক গৃহবধু কে ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতনে গৃহবধুর চেহারা তেতলে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্যাতিত গৃহবধু কে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কতৃব্যরত চিকিৎসক তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরন করে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বৈষ্ণবপুর গ্রামে।

এ ব্যাপারে গৃহবধু ফারজানার ভাই শাহাদাত হোসেন নয়ন বাদি হয়ে নির্যাািতত গৃহবধুর স্বামী শফিকুল ইসলাম বাবুল কে প্রধান আসামী করে মাধবপুর থানায় শনিবার সকালে একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, উপজেলার দেবপুর গ্রামের ইয়াকুব আলীর মেয়ে ফারজানা আক্তার হেপি কে ২০১৪ সালের ১৩ জুলাই বিয়ে দেওয়া হয় উপজেলার বৈষ্ণবপুর গ্রামের মৃত ইমতিয়াজ আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম বাবুল সঙ্গে। বিয়ের সময় যৌতুক বাবদ নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা সহ ৫ লাখ টাকার মালামাল দেওয়া হয়। বিয়ের ২ বছর পর বিদেশ যেতে শফিকুল ইসলাম বাবু ফারজানার পরিবারের নিকট ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। মেয়ের সুখের দিক চিন্তা করে ফারজানার পরিবার ৩ লাখ টাকা দিয়ে তাকে বিদেশ পাঠান। বছর তিনেক বাবুল বিদেশ থেকে দেশে চলে আসে। বিদেশ থেকে আসার পর বাবুল বেকার হয়ে গেলে আবার ফারজানা কে তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে চাপ দিতে থাকে। টাকা না দিতে পারায় গত শুক্রবার ফারজানা কে তার স্বামী বাবুল ঘরে আটক রেখে অমানষিক নির্যাতন করে।

এতে ফারজানার মুখ তেতলে যায়। চোখের নিচে কাল ফুসকা পরে। খবর পেয়ে ফারজানার ভাই মাধবপুর থানা পুলিশ কে সঙ্গে নিয়ে ফারজানার শ^শুর বাড়িতে গিয়ে গৃহবধু ফারজানা কে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরন করেন।

মাধবপুর থানার ওসি ইকবাল হোসেন জানান,এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।