২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

মহেশপুরে ভাই হত্যার দায়ে বড়  বোন গ্রেফতার!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ঝিনাইদহ থেকে শাকিল আহমেদ-

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাজিপোতা গ্রামের এহতেশামুল মাহমুদ রাতুল হত্যার দায়ে বড় বোন মাহমুদা মমতাজ মিমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভাই এহতেশামুল মাহমুদ রাতুল হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মিমকে শনিবার যশোর ডিবি কার্যালয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতার দেখানো হয়। এর আগে হত্যার প্রধান পরিকল্পনাকারী দুলাভাই শিশিরকে চট্রগ্রামের পতেঙ্গা থেকে গ্রেফতার করা হয়। সে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে দোষ স্বীকার করে নেয়। শ্বশুরের উপর প্রতিশোধ নিতেই সে শ্যালককে হত্যা করে বলে পুলিশকে জানায়। মহেশপুর ও যশোর পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুলাই বাড়ি থেকে ঘুরতে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেনি রাতুল। এরপর ১২ জুলাই চৌগাছা থানাধীন লস্করপুর শ্মশান মাঠে পাটক্ষেত থেকে মুখে স্কসস্টেপ মোড়ানো অবস্থায় রাতুলের লাশ অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে লাশটি রাতুলের বলে সনাক্ত করে স্বজনরা। এ ঘটনায় রাতুলের পিতা মহেশপুরের বাজিপোতা গ্রামের মোঃ মহিউদ্দীন যশোরের চৌগাছা থানায় অজ্ঞাত আসামীদের নাম উল্লেক করে মামলা করেন। মামলাটি চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হওয়ায় যশোর ডিবি পুলিশের উপর তদন্ত ভার ন্যাস্ত করেন পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার। যশোর ডিবি পুলিশের এসআই মোঃ শামীম হোসেন মামলার তদন্ত ভার হাতে নিয়ে নিহত রাতুলের ভগ্নিপতি শিশির আহম্মেদকে গত ১৭ জুলাই চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে গ্রেফতার করে মোটিভ ও ক্লু উদ্ধার করেন। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক ভিকটিমের বোন মাহমুদা মমতাজ মীমকে গত শনিবার (৭ আগষ্ট) পিতা মহিউদ্দিনের মাধ্যমে ডিবি কার্যালয়ে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদে তার সংশ্লিষ্টতা আছে বলে প্রমানিত হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মাহমুদা মমতাজ মীম ডিবি পুলিশকে জানায় ফেসবুকের পরিচয়ে শিশিরের সাথে প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। এরপর তারা পালিয়ে বিয়ে করে। জামাই শিশির শ্বশুর শাশুড়ির সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক রাখার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করলে শিশিরকে বিভিন্নভাবে অপমান করেন শ্বশুর। অপমানের প্রতিশোধ নিতেই শিশির ও মীম পরস্পর যোগসাজসে রাতুলকে হত্যার ছক আঁটে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি