১৮ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।বৃহস্পতিবার

ভাণ্ডারিয়ার পাড়া গায়ে বেড়ে ওঠা শামসুন্নাহার স্মৃতি আজকের নায়িকা পরীমণি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

এম এফ এইচ রাজু
পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ

বর্তমান সময়ে বহুল আলোচিত সমালোচিত চলচ্চিত্র নায়িকা পরীমণির আসল নাম শামছুন্নাহার স্মৃতি।
পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলার দক্ষিণ সীমান্তের ৪ নম্বর ইকড়ি ইউনিয়নের সিংহখালী গ্রামে নানা বাড়িতে জন্ম গ্রহন করেন তিনি।
এসএসসি পরীক্ষার রেকর্ডপত্র অনুযায়ী ১৯৯২ সালে জন্ম তার।

নানি মৃত ফাতিমা বেগম ১০৩ নং দক্ষিণ সিংহখালী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (বর্তমানে সরকারি) প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন। সেই বিদ্যালয়ে পরীমণির প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শুরু। স্মৃতি (পরীমণি) পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়ে ছিলেন বলে জানিয়েছেন ওই বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক পরীমণির চাচাত নানা মোঃ বেলায়েত হোসেন গাজী।

শুক্রবার সরেজমিনে সিংহখালী গ্রামে পরীমণির জন্মস্থান গাজী বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল প্রাচির ঘেরা সিমসাম এক তলা বাড়িতে তার ছোট খালা ও খালু বসবাস করেন। খালা গৃহিনী ও খালু জসিম স্থানীয় একটি স্কুল এন্ড কলেজের অফিস সহকারী। নানা সাবেক শিক্ষক সামছুল হক গাজী পরীমণি গ্রেফতারের পূর্বে ঢাকায় নাতনির কাছে গিয়েছেন।

জানা যায়, পরীর বাবার বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার সালাবাদ ইউনিয়নের বাকা গ্রামে। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার উত্তর সীমান্তর (সিংহখালী গ্রাম সংলগ্ন) ভগিরথপুর বাজারে পুলিশ ফাঁড়িতে কনেষ্টবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন শামছুন্নাহার স্মৃতির (পরীমণি) বাবা মোঃ মনিরুল ইসলাম।

পুলিশ ফাঁড়ির অদূরে সিংহখালী গ্রামের মোঃ সামছুল হক গাজীর বড় মেয়ে সালমা সুলতানাকে ১৯৮৮ সালে বিবাহ করেন পুলিশ কনেষ্টবল মোঃ মনিরুল ইসলাম। পরীর নানা সামছুল হক গাজী ভগিরথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ছিলেন। স্মৃতির বয়স যখন তিন বছর তখন তার মায়ের মৃত্যু হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিংহখালী গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, স্বামীর বাড়ি থাকাকালীন ওর মা আত্মহত্যা করেছেন। তখন থেকে নানা নানির ও মেজ খালার কাছে বড় হওয়া স্মৃতি (পরীমণি) পঞ্চম শ্রেণিতে উত্তির্ণ হওয়ার পর ভগিরথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে মানবিক বিভাগে এসএসসি তে অকৃতকার্য হয়ে ২০১১ সালে জিপিএ ৩ দশমিক ৩৮ পেয়ে পাশ করেন বলে বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোঃ জাকির হোসেন নিশ্চিত করেছেন।

এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন স্কুলে লেখাপড়া অবস্থায় ভগিরথপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারে এক ব্যাংক কর্মকর্তার ছেলে ইসমাইল হোসেনের সাথে সামছুন্নাহার স্মৃতির (পরীমণি) প্রথম বিয়ে হয়ে ছিলো। সে বিয়ে প্রায় দু’বছর স্থায়ী হয়।

বিয়ে কেন বিচ্ছেদ হলো আর কোন পক্ষ এ জন্য দায়ী জানতে চাইলে ‍এ সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি প্রথম স্বামী ইসমাইল। তার পর পরীমণি নানার তত্বাবধানে ঢাকায় চলে যান বলে এলাকায় জনশ্রুত রয়েছে।

মেজ খালা ও নানি মারা যাওয়ার পর ছোট খালা তাসলিমা পাপিয়ার স্নেহে থাকতেন আজকের পরীমণি। ২০১২ সালে দুর্বৃত্তদের হাতে তার বাবা সিলেটে নিহত হন বলে জানা গেছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।