১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।শনিবার

বিনা অনুমতিতে প্রবেশে বাধা:মাধবপুরে মাদ্রাসা ছাত্র-চা শ্রমিক সংঘর্ষ,আহত-১৫

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মাধবপুর প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় পিকনিক করতে আসা মাদ্রাসা ছাত্র ও শিক্ষকদের সাথে চা শ্রমিকদের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে।স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে মৌলভীবাজার থেকে একটি বাস দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষকরা মাধবপুর উপজেলার ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ এলাকায় পিকনিক করতে আসে।

এসময় তারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই বাগান এলাকায় প্রবেশ করলে নিরাপত্তা কর্মীরা বাধা প্রদান করলে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের ১৫  জন আহত হয়।

গুরুতর আহত তাপস নায়ক (২০)কে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে। সে মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানের অফিস টিলার বিশু নায়ক এর ছেলে।

আহত তাপস নায়ক জানান, মৌলভীবাজার থেকে মাদ্রাসার কয়েকশো ছাত্র শিক্ষক কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই চা বাগানে প্রবেশ করলে প্রবেশ গেইটের দায়িত্বে থাকা লোকজন বাধা দেয়ে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদ্রাসা ছাত্র ও শিক্ষকরা চা শ্রমিকদের উপর হামলা করে।

চা শ্রমিক নেতা স্বরজিত পাশী ও দিলিপ সাঁওতাল জানান, মৌলভীবাজার থেকে পিকনিক করতে পাচটি বড় যাত্রীবাহী বাস নিয়ে একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষকরা কোন অনুমতি না নিয়েই বাগানে প্রবেশ করলে শ্রমিকরা বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা চা শ্রমিকদের উপর হামলা করে। এসময় চা শ্রমিকরা পাগলা ঘন্টা বাজিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে পাল্টা হামলা চালালে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো: গোলাম মোস্তফা জানান, মৌলভীবাজার থেকে পিকনিক করতে আসা প্রায় ৩০০/৩৫০ মাদ্রাসা ছাত্র ও শিক্ষক অনুমতি না নিয়েই চা বাগান এলাকায় প্রবেশ করলে চা শ্রমিকরা বাধা দেয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জরিয়ে পড়ে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। কয়েকজন মাদ্রাসা শিক্ষক ও চা শ্রমিক সামান্য আহত হয়েছে। গুরুতর আহত একজন চা শ্রমিককে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

তবে মাদ্রাসা ছাত্রদের কোন সমস্যা হয়নি। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে। এব্যাপারে এখনো কোনো মামলা হয়নি।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি