১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

নড়াইল পৌর মেয়রসহ ২০-২৫ জনের নামে সদর থানায় জিডি ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল থেকে:

 

নড়াইল পৌর সভার মেয়র আঞ্জুমান আরা, পৌর কাউন্সিলর কাজী জহিরুল হক জহির

সহ ২০-২৫ জনের নামে জিডি করলেন সদর উপজেলা কৃষি অফিসার জাহিদুল ইসলাম। শনিবার সদর থানায় জিডি করে জাহিদুল ইসলাম নিজে। জিডি নং ৮৭১ তাং ২৩ অক্টোবর ২০২১। জিডিতে অভিযোগ করা হয়, আমি বাঁশগ্রাম ও ভদ্রবিলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রিটানিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছি। গত ২০ অক্টোবর আনুমানিক ১৫টা ৩০ মিনিট( সাড়ে ৩টা) নিজ কার্যালয়ে কাজ করার সময় ভদ্রবিলা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বর প্রার্থী মনিরুজ্জামান ও নড়াইল পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাজু মোল্যা আমার অফিসে এসে অফিসের স্টাফদের সাথে অশোভন আচারন করে। এসময় বাইরে যেয়ে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন প্রকার হুমকি দেয়। পরে পুলিশ ডাকতে বাধ্য হব জানালে তারা চলে যায়।

কৃষি অফিসার জাহিদুল ইসলাম

এর ৩০ মিনিট পরে নড়াইল পৌরসভার মেয়র আঞ্জুমান আরা, ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী জহিরুল হকসহ ২০-২৫ জন লোক অফিসে এসে আমার সাথে কথা বলার পর রাগান্বিত হয়ে অফিসের বাইরে চলে আসে। এক পর্যায়ে তিনি ও তার লোকজন অশালীন বক্তব্য ও হুমকি-ধামকি প্রদান করে চলে যায়। মেয়রসহ তার লোকজন নির্বাচনী আচারণ বিধি লংঘন পূর্বক আমাকে নির্বাচনী কার্যক্রম ব্যহত করার চেষ্টা করেন। আমি জীবনের নিরাপত্ত হিনতায় ভূগছি বলেও জিডিতে অভিযোগ করা হয়। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শওকত কবির জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অপরদিকে নড়াইল সদর উপজেলায় ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং সদরের ভদ্রবিলা ও বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের রিটার্নিং অফিসার মোঃ জাহিদুল ইসলাম বিশ্বাসের বিরুদ্ধে নড়াইল পৌরসভার এক কাউন্সিলরের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়। গত বুধবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে নড়াইল পৌর মেয়রের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানাগেছে।

সদর উপজোর ভদ্রবিলা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড মেম্বর প্রার্থী মনিরুজ্জমান বলেছিলেন, বুধবার ভদ্রবিলা ও বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের রিটানিং অফিস থেকে আমাকে ফোন দিয়ে জানানো হয়, আপনার মনোনয়নপত্রে কয়েক জায়গায় ভুল রয়েছে আপনি অফিসে আসেন। তখন দুপুর ২টার দিকে অফিসে গেলে এক অফিস সহকারী (নাম বলতে পারেননি) এনআইডি কার্ডে আমার নামের প্রথমে মোঃ না থাকাসহ কয়েকটি ভুল ধরিয়ে দেন এবং এগুলি সংশোধনের জন্য ৫ হাজার টাকা দাবি করে। তখন টাকা না দিয়ে বিষয়টি আমার মামা নড়াইল পৌর কাউন্সিলর রাজু মোল্যাকে জানালে তিনি অফিসে এসে ভুলগুলি সংশোধন করে দেওয়ার অনুরোধ করলে তার সাথে চরম দূর্ব্যবহার করা হয়। গত শনিবার (১৬ অক্টোবর) মনোনয়নপত্র লেখালেখির জন্য অফিস সহকারী আমার কাছ থেকে ৫শ টাকা নিয়েছিল। শুনেছি, মনোনয়নপত্রে নামের বানান ভুল সংশোধনের জন্য আরও অনেকের কাছ থেকে ওই অফিস সহকারী ২ হাজার থেকে ২৫শ টাকা পর্যন্ত নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

উল্লেখ্য, নড়াইল পৌরসভার ১৩টি ইউনিয়নে ২য় ধাপে মনোনয়ন প্রত্যাহার ২৬ অক্টোবর এবং ২৭ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ আর ১১ নভেম্বর ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।