২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

নওগাঁর ধামইরহাটে পাতা বিক্রি করে সংসার চালায় মুক্তিযোদ্ধা “মতিবুল’

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সোনাই নিউজ, নওগাঁ: নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যানে গাছের খড়পাতা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন জোতমাহমুমপুর (আলতাদিঘী) গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মতিবুল ইসলাম (৭০)।
এমনকি বনবিভাগের খাস জমিতে স্ত্রীসহ দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বসবাস করছেন ভূমিহীন এই মুক্তিযোদ্ধা। মতিবুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন শালবনে ও দিঘীর পাড়ে গাছের পাতা জড়ো করে বস্তায় ভরে রাখে। সকাল বেলায় নিজের ব্যবহৃত ভ্যানে করে তা প্রতি বস্তা ২০ টাকা দরে বিক্রি করে। আর এসব কাজে স্ত্রী তাকে সহযোগিতা করে। ধামইরহাট থানার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুর রউফ বলেন, মতিবুল প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধে আমার সঙ্গে সে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেছে। কিন্তু যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন না করায় সে ভাতা হতে বঞ্চিত আছে। সে (বিএলএফ) মুজিব বাহিনীর সদস্য ছিলেন।
মুক্তিযোদ্ধা মতিবুল ইসলাম বলেন, আমি পাতা বেচা-কেনা করে দিনযাপন করি। বনবিভাগের খাস জমিতে দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে মাথা গুজে আছি। মুক্তিযুদ্ধে ওস্তাদ জাফরের নিকট শিলিগুড়ি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আমিসহ মুক্তিযোদ্ধা আজগর, রফিক সোলেমান অনেকেই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। মতিবুল আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের কাগজপত্র আমার বৃদ্ধা মাতা হারায়। এ জন্য যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে পারিনি। কাগজগুলো খোঁজার চেষ্টা করছি।
প্রতিদিন পাতা বিক্রি করে ভূমিহীন এই মুক্তিযোদ্ধার যা আয় হয় সেই অর্থটুকু দিয়েই সন্তানের পড়ালেখার খরচসহ অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর দিন যাপন করছেন। তবে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তি ও সকল সুবিধা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন জানান।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি