৯ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।রবিবার

দুই হিন্দু নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে বিবস্ত্র করে নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

জায়গা দখল করা নিয়ে বিরোধের জেরে বাগেরহাটের চিতলমারীতে দুই নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। এলাকার হিন্দু পরিবার গুলোতে আতংক।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী চিন্তা হালদার জানান, উপজেলার সদর ইউনিয়নের রায়গ্রামের দেবদাস ও সঞ্জিত রায়ের বাড়িতে সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনা ঘটে। দুপুর ১২টার দিকে প্রতিবেশী শাকিল ওরফে জাহিদ শেখের নেতৃত্বে ১০/১৫ জনের একদল দুর্বৃত্ত দেশিয় অস্ত্র, লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাংচুর করে।

এ সময় বাড়িতে কোন পুরুষ না থাকায় নারীরা বাধা দিতে এগিয়ে এলে বৃদ্ধা আয়না (৭০) ও তার পুত্রবধূ সুমতিকে (৪০) একটি বট গাছের সাথে বেঁধে বিবস্ত্র করে বেদম প্রহার করে। তাদের হাতের চুরি ও শাখা ভেঙে ফেলা হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি প্রদান করে নির্যাতন চালায়। তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা বাধা দিতে এগিয়ে এলেও ওই বাহিনীর হুমকির মুখে কেউই কাছে যেতে সাহস পায়নি।

খবর পেয়ে চিতলমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দুই নারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে চিতলমারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় শাকিল ওরফে জাহিদ শেখকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে চিতলমারী সদর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, শাকিল ও তার সঙ্গীরা বৃদ্ধা আয়না ও তার পুত্রবধূ সুমতিকে গাছে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালিয়েছে। এদের শাস্তি হওয়া দরকার।

এ ব্যাপারে শাকিল ওরফে জাহিদের মা জাহানারা বিবি জানান, ওই জায়গা নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে পূর্বের বিরোধ রয়েছে। ওই জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে।

চিতলমারী থানার অফিসার ইনচার্জ অনুকূল সরকার জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার থানায় মামলা (নং ৪) হয়েছে। ঘটনার মূল হোতা শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সুত্র ইত্তেফাক

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি