২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

দরকার হলে মোবাইল নেটওয়ার্কও বন্ধ করে দেয়া হবে= ইসি ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

দরকার হলে মোবাইল নেটওয়ার্কও বন্ধ করে দেয়া হবে= ইসি
।জসিম মাহমুদঃ
বাংলাদেশে নির্বাচনকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর উপরে সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে নির্বাচন কমিশন। তারা বলছেন, দরকার হলে মোবাইল নেটওয়ার্কও বন্ধ করে দেয়া হবে।
বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশন বলছে, গুজব ও অপপ্রচারের মাধ্যমে কেউ যদি কোথাও নির্বাচন বানচালের উস্কানি দেয় – তবে তা ঠেকাতে দরকারে এমনকি সেই এলাকার মোবাইল নেটওয়ার্কও বন্ধ করে দেয়া হবে।
কমিশনের সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ বলছেন, “সোশাল মিডিয়াতে কিন্তু অসংখ্য আছে ফেক আইডি। যাদেরকে আমরা চিনতে পারছি না। তারা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আমরা ঐসব পোস্ট বন্ধ করে দিতে পারি।”
“অথবা, যদি এমন হয় যে ঐ সোশাল মিডিয়ার কারণে এলাকার আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি হতে পারে সেক্ষেত্রে আমরা নেটওয়ার্ক শাটডাউনও করতে পারি” – বলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন বলছে, নির্বাচনকেন্দ্রিক গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর উপরে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হবে।
এজন্যে টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে শুরু করে ইন্টারনেট সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফোন কোম্পানি ও পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
কিন্তু কোন ধরনের মন্তব্য, ছবি, পোষ্ট, গুজব বা অপপ্রচারের আওতায় পড়বে?

এক প্রশ্নে জবাবে হেলালুদ্দিন আহমদ বলছেন, “যেমন দেলোয়ার হোসেইন সাইদীকে চাঁদে দেখা গেছে সেই গুজবকে ভিত্তি করে হাজার হাজার লোক রাস্তায় নেমে দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনত করেছে। অথবা নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় একটা প্রোপাগান্ডা হয়েছে। সেটাই আমরা মাথায় রেখে নির্বাচনকে ঘিরে যাতে প্রচার করে মানুষকে উস্কানি দিতে না পারে – তা আমরা মনিটরিং করবো।”

বাংলাদেশে এবারের নির্বাচন এমন একটা সময়ে হচ্ছে যখন এর আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার হচ্ছে অনেক বেশি।
এর আগের কোন সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি নিয়ে এতটা ভাবতে হয়নি।
বিষয়টি এক ধরনের উদ্বেগ যে তৈরি করছে সেটি বোঝা যাচ্ছে।
হেলালুদ্দিন আহমদ বলছেন, গুজব বা অপপ্রচার পাওয়া গেলে তারা চলমান আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।

তিনি বলছেন, নির্বাচন কমিশন নিজে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নজরদারির একটি সেল তৈরি করেছে। তথ্য মন্ত্রণালয় আগে থেকেই কাজটি করছিলো। পুলিশের বাহিনীর সবগুলি ইউনিটে সাইবার মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তৈরি করেছে একটি সোশাল মিডিয়া মনিটরিং অ্যান্ড সাইবার ক্রাইম প্রিভেনশন কমিটি।
নির্বাচন কমিশনের ভাষায় ঝুঁকিপূর্ণ কোন পোস্ট, ফেক আইডি, ভুয়া খবর – এগুলো যাচাই করার ব্যাপারে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো বড় ভূমিকা পালন করবে।

পুলিশের গণমাধ্যমের দায়িত্বে থাকা এআইজি মোঃ: সোহেল রানা বলছেন, “নির্বাচন কেন্দ্রিক কিছু ট্রেন্ড এবং টেন্ডেন্সি আমাদের আছে, গুজব ছড়ানো এবং গুজব সৃষ্টির।”

তারা কিভাবে নির্ধারণ করছেন কোনটি গুজব বা অপপ্রচার? তিনি বলছেন, “আমাদের সেলগুলো নিয়মিত সাইবার পেট্রোলিং-এর কাজগুলো করে। আমাদের যে সোশাল মিডিয়া মনিটরিং অ্যান্ড সাইবার ক্রাইম প্রিভেনশন কমিটি আছে তাদের দৃষ্টিতে বিষয়গুলো আনা হয়। আসলেই এগুলো গুজব কিনা কমিটি তা যাচাই বাছাই করে এবং এই সিদ্ধান্ত দেয়। তারপর এটি নিয়ে কাজ করা হয়।”

কিন্তু এই প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুমিন ফারহানা।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম কিভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বিশ্বের সকল দেশের জন্য সেটি এখন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশেও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করে সর্বশেষ নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার অভিযোগ রয়েছে। সেই নির্বাচনের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের হারের পেছনে এমন কিছু কাজ করেছে কিনা সেটি নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে।

রুমিন ফারহানা মনে করছেন, নজরদারির কারণে তারা সাইবার জগতেও চাপে রয়েছেন।

তিনি বলছেন, “নির্বাচনকে সামনে রেখে যে কথাটি বারবার উঠে আসছে যে সরকার এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা করছে, নজরদারির মধ্যে রাখা হচ্ছে। এমনকি আমার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দুবার হ্যাক হয়েছে, স্টপ করে রাখছে সরকার। আমাদের কর্মী ও নেতাদেরও একই কাণ্ড হয়েছে। এরকম একটি অবস্থায় দাঁড়িয়ে আমাদের মনে হচ্ছে যে আমরা সাইবার জগতেও চাপের মধ্যে আছ। আমাদের আইনের মাধ্যমে কোণঠাসা করে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগের যেসব ওয়েবসাইট রয়েছে সেগুলোর উপরে কোন নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের সরকারি সংস্থাগুলোর নেই।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বিটিআরসি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলছেন, “অনেক সময় ফেসবুকে যে প্রোপাগান্ডা হয় সেটা বন্ধ করতে বলে। আসলে বিটিআরসি বন্ধ করতে সক্ষম না। বিটিআরসি ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করতে পারে। অনুরোধ করলে কখনো কখনো তারা কনসিডার করে। তারা কিন্তু তা করতে বাধ্য না।” সূত্র: বিবিসি বাংলা।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি