২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

খুলনায় টিসিবির পন্যের বরাদ অপ্রতুল, আছে অনিয়মের অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

খুলনা প্রতিনিধি।

খুলনা মহানগরীতে টিসিবি’র পণ্য বিক্রির পয়েন্ট বাড়েনি। মাত্র পাঁচ জন ডিলার দিয়ে নগরীর ১৫ লাখ মানুষের চাহিদা মেটাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। ডিলারদের নানা অনিয়মের কথাও জানিয়েছেন ক্রেতারা। কোথাও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। সোমবার নগরীর কয়েকটি স্থান ঘুরে এমনি তথ্য পাওয়া গেছে।

 

সোমবার (০২আগষ্ট )খুলনার পাঁচটি পয়েন্টে টিসিবির পণ্য বিক্রি হয়। এগুলো হল, নিরালা আর্দশ স্কুল মাঠ, পিপলস জুট মিল কলোনী মাঠ, রেলওয়ে স্কুল মাঠ, প্রি ক্যাডেট স্কুল মাঠ ও বয়রা শ্মশান ঘাট।

 

সরেজমিনে নিরালা আদর্শ স্কুল মাঠে গিয়ে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। দু’পাশে দু’লাইনে প্রায় তিন শ লোক দাঁড়িয়ে আছেন। সেখানে হিরা ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল এর মাধ্যমে পণ্য বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ডিলারের পরিচিত একজন সেখান থেকে ৮ লিটার তেল নিয়ে যায়। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একজন দুই লিটার অধিক তেল দাবি করলে তাকে বলা হয়, “যা দিচ্ছি নেন, নাহলে চলে যান।”

 

মনোয়ার নামে ষাটোর্ধ্ব এক নারীর অভিয়োগ, “১৫ দিন আগে যখন এরা এখানে পণ্য বিক্রি করতে এসেছিল তখন ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রেখে বলে যে তেল নেই। শুধু চিনি আর ডাল আছে বলে। তখন অনেকে টিসিবির পণ্য ক্রয় না করে ফিরে যায়।”

 

রেলওয়ে স্কুল মাঠে গিয়ে দেখা যায়, পাশের বস্তির রহিমা নামের এক নারী চিৎকার করতে করতে বের হচ্ছে। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে জানান, পরিচিত ও নেতাদের বেশী করে তেল দেওয়া হয়েছে। ওখানে যাওয়ার পর ডিলারের প্রতিনিধি বলেন, তেল শেষ হয়ে গেছে। অথচ সেখানে গিয়ে দেখা যায়, পরিচিত লোকদের তেল দেওয়া হচ্ছে।

 

দোলখোলা রায়পাড়া থেকে সোনাডাঙ্গা প্রি ক্যাডেট স্কুল মঠে গিয়েছিলেন মরিয়ম খাতুন। তিনি জানান, সঠিক স্থান না জানার কারণে তিনি বিভিন্ন স্থান ঘুরে এখানে এসেছেন। এসে দেখেন অনেক ভিড়। তেল বেশী নেই। যা আছে তার পর্যন্ত আর পৌঁছাবে না। তিনি সেখান থেকে ফিরে যান।

 

অপরদিকে সোনাডাঙ্গা প্রি ক্যাডেট স্কুল মাঠে এসএন এন্ট্রারপ্রাইজের সুপারভাইজার শাহ মোঃ আলমগীর জানান, ২৬ জুলাই থেকে আমরা বিভিন্ন স্থানে গিয়ে গিয়ে মাল বিক্রি করছি। এর আগে আমাদের প্রতিটি গাড়িতে ১ হাজার লিটার তেল দেওয়া হত। কিন্তু বর্তমানে আমাদের প্রতিটি গাড়িতে তেল বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ১৫ দিন অন্তর একবার করে তারা মাল পাচ্ছে। যে মাল দেওয়া হচ্ছে তা অপ্রতুল। এ পণ্য দিয়ে সকলের মন রক্ষা করা সম্ভব নয়। তাই সকল ডিলারকে এক যোগে পণ্যের বরাদ্দের জন্য আবেদন করা উচিৎ। কিন্তু সকল ডিলারের এক হওয়া মোটেই সম্ভব নয়।

 

এব্যাপারে টিসিবির আঞ্চলিক কর্মকর্তা আনিসুর রহমান মুঠোফোনে জানান, খুলনায় তালিকাভুক্ত ডিলার রয়েছেন ৫২ জন। ৪৫ টি পয়েন্টে বাই রোটেশন করে বিক্রি করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মাল বিক্রি হবে বলে এবার বরাদ্দ কম। এবার ৫ শ লিটার তেল, ৬ শ কেজি চিনি ও ৫ শ কেজি ডাল প্রতিদিন প্রতি ট্রাকে দেওয়া হচ্ছে। রোটেশন করে বিক্রি করার কথা জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রতিদিন একই স্থানে পণ্য বিক্রি করা হলে একজন প্রতিদিন নিবে, সেক্ষেত্রে সকলে কিনতে পারবে না। ট্রাকের পরিমাণ বাড়ানোর কথা প্রধান কার্যালয়ে জানানো হয়েছে। নির্দেশ পেলেই ট্রাক ও বরাদ্দ বাড়ানো হবে। মানুষের সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। এটা দূর করার চেষ্টা চলছে বলে জানান টিসিবির এই কর্মকর্তা।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি