১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

খাগড়াছড়িতে বেড়েছে বেকারত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

খাগড়াছড়িতে বেড়েছে বেকারত্ব

আবদুল জলিল, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

খাগড়াছড়িতে গত এক দশক ধরে বেড়েই চলছে বেকারত্বের সংখ্যা। শিক্ষার নিম্নমান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার অভাব থাকার পাশাপাশি কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় চাকুরী ও শ্রম বাজারে ইতোমধ্যেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে শিক্ষিত তরুণরা।

তাছাড়া সরকারি চাকুরীতে ঘুষ বানিজ্য, স্বজনপ্রীতি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সেচ্ছাচারিতায় অযোগ্যরা পাচ্ছে কাজ ও মেধাবীরা হচ্ছে বেকার বলে অভিযোগ করছে অনেকে। শিক্ষিত তরুণরা অর্থের অভাবে পাচ্ছেনা চাকুরী নামক সোনার হরিণ কিংবা হতে পারছেনা উদ্যোক্তা।

পরিসংখ্যান অফিস সূত্র মতে, জেলায় এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ শিক্ষিত যুবক-যুবতী বেকার। যা গত এক দশকে অনেকাংশেই বৃদ্ধি পেয়েছে।

দীঘিনালা উপজেলার রিটেন চাকমা বলেন, সরকারি বিভিন্ন নিয়োগে বার বার লিখিত পরীক্ষায় পাশ করেও ভাইভাতে চাকুরীটা হয়নি। আমি একজন শারিরীক প্রতিবন্ধী হয়ে স্নাতক পাশ করেও আমার ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

মাটিরাঙ্গা উপজেলার আশরাফুল আলম জানান, স্নাতকোত্তর শেষ করে সরকারি চাকরির জন্য বহুবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। অর্থের অভাবে উদ্যোক্তাও হতে পারছিনা।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়, স্নাতক ডিগ্রিধারী বেকার প্রায় ৩৭ শতাংশ এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হলো ৩৪ শতাংশ। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাস করা তরুণ-তরুণীর মধ্যে বেকারত্বের হার যথাক্রমে ২৭ ও ২৮ ভাগ। এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ৬ লাখের বেশি ব্যক্তিদের উপর জরিপ করে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়। লক্ষণীয় যে, বাংলাদেশে উচ্চ ডিগ্রিধারী বেকারের সংখ্যাই বেশি। উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি যেখানে সমাজ ও দেশকে নিজের মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে এগিয়ে নেবার কথা, সেখানে তার বেকারত্ব হতাশাজনকই নয়, উদ্বেগেরও বটে। উচ্চশিক্ষার জন্য এটা অংশনি সংকেত।

বিশ্লেষকদের মতে বেকার সমস্যার সমাধানকল্পে শিক্ষিত যুবকদের সরকারি নানা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হতে সকল সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকারি-বেসরকারী চাকুরীতে নিয়োগ বানিজ্য বন্ধ সহ মেধাবীদের অধিক মূল্যায়ন করতে হবে। পাশাপাশি পাহাড়ে কৃষির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। উচ্চ শিক্ষিত হয়েও অনেকে ড্রাগন, বিভিন্ন প্রজাতির আম,লিচু সহ মৌসুমী ফল চাষ করে ঘুচিয়েছে বেকারত্ব। অনেকে আবার গরু,ছাগল, হাঁস,মুরগী প্রভৃতি পালন করে হয়েছেন স্বাবলম্বী। তাছাড়া ডিজিটাল প্লাটফর্মে ফ্রিলান্সিং ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

খাগড়াছড়ি জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, জেলার বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এর মাধ্যমে হাস-মুরগী,গবাদি পশু পালন, মৎস্যচাষ, কৃষি, পোশাক তৈরী,বেসিক কম্পিউটার,ইলেকট্রিক্যাল এন্ড হাউজ ওয়্যারিং, ইলেকট্রনিক্স ও রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এরমাধ্যমে প্রতিবছর শতশত বেকাররা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে।

শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি বলেন, সরকার পাহাড়ের কর্মক্ষম যুবক ও যুবতীদের বেকারত্ব ঘুচাতে প্রতিটি উপজেলা সদরে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করছে। এরইমধ্যে জেলার দীঘিনালা ও রামগড়ে দুটি কেন্দ্রের নির্মানকাজ চলমান রয়েছে। খুব শিগগিরই বাকী ৭ উপজেলাতেও নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এর মাধ্যমে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা স্বল্প খরচে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষিত হয়ে দেশে ও বিদেশে যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ পাবে। তাছাড়া যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রতিবছর শত শত বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি পাহাড়ে উদ্যোক্তা হয়ে অনেকেই সফলতা পেয়েছে।

 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।