১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।রবিবার

উপকুলের সফল নারী চন্দ্রিকা ব্যানার্জী পেল জাতীয় পল্লী উন্নয়ন স্বর্ণ পদক।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

রনজিৎ বর্মন শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি ঃ বাংলাদেশের দনি-পশ্চিমাঞ্চলের সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় জেলা সাতীরার প্রত্যন্ত এলাকার সফল নারী নকশীকাঁথার পরিচালক চন্দ্রিকা ব্যানার্জী পেল জাতীয় পল্লী উন্নয়ন স্বর্ণ পদক ২০১৩।

 

৩১ অক্টোবর রবিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র (বিআইসিসি) আগারগাঁও ঢাকায় প্রধান অতিথি হিসাবে স্বর্ণপদক সহ সম্মননাপত্র তুলে দেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি। স্বাগত ভাষণ দেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক সুপ্রিয় কুমার কুন্ডু।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোঃ মশিউর রহমান এনডিসি। জাতীয় পল্লী উন্নয়ন পদক ২০১৩ সালের পল্লী উন্ন্য়নে সফল নেতৃত্ব শ্রেণিতে নকশীকাঁথার পরিচালক চন্দ্রিকা ব্যানার্জীকে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন স্বর্ণপদক ও সম্মাননাপত্র প্রদান করা হয়।

 

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২০১২ হতে ২০১৮ পর্যন্ত জাতীয় পল্লী উন্নয়ন পদক বিতরন করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে পল্লী উন্নয়ন স্মরনিকা ‘সাফল্যের গৌরবগাঁথা’ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয় এবং বিআরডিবির কার্যক্রম ভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

 

 

 

সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর উপজেলায় নকিপুর গ্রামে চন্দ্রিকা ব্যানার্জীর জন্ম। তার পিতা মৃত অনিমেষ বন্দোপাধ্যায় ছিলেন দণি খুলনার বিশিষ্ট সেতার বাদক ও সঙ্গীত শিল্পী। তিন বোনের মধ্যে তিনি সকলের বড়।

 

চন্দ্রিকা ব্যানার্জী উপকূলীয় এলাকার সুবিধা বঞ্চিত পিছিয়ে পড়া নারীদের একত্রিত করে তৈরী করেন নারী সংগঠন নকশীকাঁথা। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কতৃক নিবন্ধিত নারী সংগঠন নকশীকাঁথার পরিচালক হিসাবে তিনি নিজস্ব কর্ম এলাকার নারীদের উন্নয়নে তথা এলাকার শিা, স্বাস্থ্য, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যক্রম, কৃষি, হস্তশিল্প প্রশিন, সুপেয় পানি নিশ্চয়তা প্রদানে কাজ করে যাচ্ছে।

 

তিনি ইতিপূর্বে জয়িতা পুরস্কার, সফল সংগঠক পুরস্কার সহ অন্যান্য সম্মাননা গ্রহণ করেছেন। তিনি উপজেলা সরকারি কৃষি কমিটি, ভূমি কমিটি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটি, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, কমিউনিটি কিনিকের কমিটি, বেসরকারি পানি কমিটি, ভূমি কমিটি, জলবায়ু পরিষদ সদস্য, মহিলা ক্রীড়া সংস্থা সহ বিভিন্ন কমিটির সাথে যুক্ত রয়েছেন। তিনি গত কয়েক বছর পূর্বে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের সহায়তায় ইউরোপ, সুইডেন, ডেনমার্ক সহ কয়েকটি দেশে ভ্রমন করে বাংলাদেশের নারীদের সাফল্য বিভিন্ন সেমিনারে তুলে ধরেছেন।

 

তিনি জানান ১৯৯৪ সালে সংগঠন প্রতিষ্ঠার পর থেকে সকল েেত্র নারীদের অধিক মাত্রায় প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহায়তায় ৬২টি পরিবারে সুপেয় পানি সংরনে বৃষ্টির পানি সংরন প্রযুক্তি, ২৩০৬টি পরিবারের জন্য ২২টি পুকুর ফিল্টার স্থাপন, ১২৭৯টি ঝরে পড়া শিশুকে উপ-আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমে শিশু শিা প্রদান, ৫৫০টি পরিবারে বয়স্ক শিা প্রদান, ৪০০ নারী প্রধান কৃষি পরিবারে লবন সহিষ্ণু ধান বীজ বিতরন, ১০০০টি পরিবারের মধ্যে পুষ্টির চাহিদা পূরনে নিরাপদ সবজি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কাব গঠন ও প্রশিণ, ১৬০টি পরিবারে প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা প্রদান, ৭৮০টি পরিবারে হস্তশিল্প ও কম্পিউটার প্রশিণ প্রদান করা হয়। ৯৬টি নারী প্রধান ভূমিহীন পরিবারকে খাস জমি পেতে অস্থায়ী/স্থায়ী বন্দোবস্ত সহযোগিতা সহ অন্যান্য উন্নয়ন মূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং অনেক প্রকল্প চলমান রয়েছে।

 

চন্দ্রিকা ব্যানার্জী বলেন বাংলাদেশের শেষ প্রান্তে অবহেলিত লবণাক্ত এলকার সুবিধা বঞ্চিত নারীদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাবেন এবং আজকের জাতীয় পল্লী উন্নয়ন পদক তাদের কারণেই প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন এই পদকটি পাওয়াতে আরও উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে এবং নারীদেরকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। তিনি স্বর্ণ পদকটি উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছেন।

 

ছবি- সাতীরার নকশীকাঁথার পরিচালক চন্দ্রিকা ব্যানার্জী জাতীয় পল্লী উন্নয়ন স্বর্ণ পদক ২০১৩ গ্রহণ করছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম এমপির নিকট থেকে।

 

 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।

মহম্মদপুরের দীঘা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে স্বামী -স্ত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা – ভিভিও লিংক https://www.facebook.com/share/v/9BEDCU22mRgdpqjn/?mibextid=oFDknk

মহম্মদপুরের দীঘা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে স্বামী -স্ত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা – ভিভিও লিংক https://www.facebook.com/share/v/9BEDCU22mRgdpqjn/?mibextid=oFDknk

মহম্মদপুরের দীঘা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে স্বামী -স্ত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা – ভিভিও লিংক https://www.facebook.com/share/v/9BEDCU22mRgdpqjn/?mibextid=oFDknk

মহম্মদপুরের দীঘা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে স্বামী -স্ত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা – ভিভিও লিংক

মহম্মদপুরের দীঘা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে স্বামী -স্ত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা – ভিভিও লিংক