1. ashiskumarsaha90@gmail.com : Ashish Saha : Ashish Saha
  2. dainikbanglerprottoy@gmail.com : banglar : Nibas Dhali
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
কেশবপুরে পিএফজি ও ওয়াইপিএজির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। রংপুরে দর্শনা স্পোটিং ক্লাবের ফুট বল ম্যাচ ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত। কয়রায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের সংঘর্ষে ১জনের মৃত্যু, বিচারের দাবীতে মানববন্ধন। উপপরিচালক (প্রশাসন), কেশবপুরের কৃতি সন্তান মোঃ রেজাউল করিম আর নেই। পীরগাছায় দীর্ঘ ৩০ বছরের চলাচল রাস্তা বন্ধ করে গাছ লাগানোর অভিযোগ। কয়রায় হরিণের মাস মাথা-পাসহ চামড়া জব্দ। কালীগঞ্জে ভূমি কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমিতে বাঁশের খুঁটি স্থাপনের অভিযোগ। কেশবপুরে সাংবাদিক রাজিব চৌধুরীর স্ত্রী সুচিত্রা মালাকর এর পরলোকগমন। খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পূজা মণ্ডপ পরিদর্শণ। শ্যামনগরের দ্বীপ ইউপি গাবুরায় মেগা প্রকল্প পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ।

রংপুরে হারাগাছে মা ও শিশু কল্যাল কেন্দ্রে রাতে সেবা বন্ধ: ঝোপঝাড়ে সন্তান প্রসব এক মা।

রিপোর্টার নাম
  • প্রকাশিত তারিখ : বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২১
  • ১৯৫ বার পঠিত
  1. রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার শ্রমিক অধ্যুষিত হারাগাছে অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের গর্ভবর্তী নারীদের স্বাস্থ্য সেবা এবং নিরাপদ ও স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের একমাত্র আশ্রয়স্থল হারাগাছ মাতৃমঙ্গল বা মা ও শিশু কল্যাল কেন্দ্র। কিন্তু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিকেল থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত প্রতিদিনি ১৮ ঘন্টা সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকে। ফলে রাতে কোন গর্ভবর্তী নারী নিরাপদ ও স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের জন্য এসে বিপাকে পড়ে কেন্দ্রের আশপাশ ঝোপঝাড়ে সন্তান প্রসব করছেন। গত মঙ্গলবার রাতে সাড়ে ১২ টার দিকে হারাগাছ ইউনিয়নের চরনাজিরদহ মফিজপাড়া গ্রামের শাহাদত হোসেনের গর্ভবর্তী স্ত্রী লিমা বেগম নিরাপদ ও স্বাভাবিক সন্তান প্রসব করতে এসে মা ও শিশু কল্যাল কেন্দ্রের ভবনের আশপাশ মাঠে ঘাসের উপর সন্তান প্রসব করেন। লিমা বেগমের স্বামী শাহাদত হোসেন বলেন, আল্লাহর রহমতে স্ত্রী ও সন্তান বেচে গেছে। আর কিছু সময় পাড় হলে স্ত্রী-সন্তান দুইজনেই মারা যেত। তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার সন্ধায় তার স্ত্রীর সন্তান প্রসবের ব্যাথা উঠে। বাড়ীতে স্থানীয় দাইরা চেষ্ঠা করা হয়। পরে নিরাপদ ও স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের জন্য রাত সাড়ে ১১ টার দিকে হারাগাছ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে স্ত্রীকে নিয়ে আসি। কিন্তু মাতৃমঙ্গল কেন্দ্রে কোন ডাক্তার ও নার্স কেউই নাই, কেন্দ্রের কেচি গেটে তালা ঝুলছে। প্রসবের ব্যাথায় স্ত্রী ছটফট করতে থাকে। পরে কেন্দ্রের ভবনের পাশে ঘাসের উপর শুয়ে পড়ে মেয়ে সন্তান প্রসব জন্ম দেয় তার স্ত্রী। পরে রাত একটার দিকে অটোবাইকে করে স্ত্রী ও মেয়ে সন্তারকে বাড়ীতে নিয়ে যান । স্থানীয়রা জানায়, হারাগাছের বেশির ভাগ মানুষ শ্রমিক। তাদের পক্ষে শহরের বেসরকারি হাসপাতালে গর্ভবর্তী নারীদের চিকিৎসাসেবা নেওয়া অসম্ভব। শ্রমিক পরিবারের গর্ভবর্তী নারীদের একমাত্র নিরাপদ ও স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের আশ্রয়স্থল হারাগাছ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। কিন্তু মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে অনেক গর্ভবর্তী নারীরা সেবা পায় না। দীর্ঘদিন ধরে রাতেই বেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এখানে যারা দায়িত্বে রয়েছেন তারাও ঠিকভাবে সেবা প্রদান করেন না। মিনাবাজার এলাকার রানা মিয়া বলেন, হারাগাছ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা তিনি প্রায় দিনে আসেন না। মাঝে মাঝে আসেন, অল্প সময় থেকে আবার শহরে চলে যান। ফলে সেবা নিতে আসা অনেক গর্ভবতী নারী বিপদে পড়ে মা ও শিশু কল্যাল কেন্দ্রের আশপাশ ঝোপঝাড়ে সন্তান প্রসব করে ফেলছে। তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার রাতেও একজন গর্ভবতী নারী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মাঠে ঘাসের উপর সন্তান প্রসব করেছেন। এপর্যন্ত চলতি এক সপ্তাহে রাতের বেলায় তিনজন নারী এভাবে সন্তান প্রসব করেছেন। আকবর আলী নামে আরেক জন বলেন, মা ও শিশুদের মৃত্যু হার কমাতে এবং নিরাপদ ও স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের জন্য নিকটস্থ্য স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য প্রতিদিনেই টেলিভিশন ও পত্রিকায় প্রচার করছে। কিন্তু স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই অবস্থায়। অনেকেই সেবা নিতে এসে ফিরে যায়। হারাগাছ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে রাতে কোন লোক থাকে না । অথচ থাকার জন্য আলাদা ভবন রয়েছে।

হারাগাছ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা জান্নাতুল ফেরদৌউস জানান, এখানে তিনি ও দুইজন দাই নার্স সহ তিনজন দায়িত্বে আছেন। যদিও ২৪ ঘন্টা গর্ভবতী নারীদের সেবা দেওয়ার কথা। কিন্তু তিনজনের পক্ষে ২৪ ঘন্টা সেবা দেওয়া সম্ভব না। তিনি বলেন, সপ্তাহে শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার ছয়দিন সকাল নয়টা থেকে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত তারা গর্ভবতী নারীদের সেবা দিচ্ছেন। আগে ল্যাম্ব এনজিওর স্বাস্থ্যকর্মীরা ছিল তখন রাতে সেবা চালু ছিল। এখন এনজিওর স্বাস্থ্যকর্মীরা না থাকায় বিকেল থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত ১৮ ঘন্টা সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন। এছাড়া তিনি গতকাল বুধবার থেকে চারদিনের ছুটিতে আছেন। এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি প্রায় দুই মাস আগে এ উপজেলায় যোগদান করছেন। তিনি যোগদানের পরেই হারাগাছ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিবার কল্যান পরিদর্শিকার ব্যাপারে অভিযোগ জানতে পেরেছেন।বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। নিরাপদ ও স্বাভাবিক সন্তান প্রসব করতে এতে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ঘাসের উপর সন্তান প্রসবের বিষয়টি দু:খজনক বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: সাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঘটনাটি তিনি এইমাত্র জানতে পারলেন। নিরাপদ ও স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে মা ও শিশু কল্যাণগুলোতে অসহায় দরিদ্র মানুষের আশ্রয়স্থল। কিন্তু জনবল সমস্যা রয়েছে। ফলে সেবা কিছুটা বিগ্নিত হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021-2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT