১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

১১৯৯ টাকার কিস্তিতে কিনুন প্রাইভেট কার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হলেও গাড়ি এখনো নিম্ন-মধ্যবিত্তের ক্রয়সীমার বাইরে। নতুন গাড়ি কেনার জন্য যে পরিমান নগদ অর্থের প্রয়োজন, সেই পরিমান অর্থ অনেক পরিবারের কর্তাদের জন্য সংগ্রহ করা কঠিন। নিম্নমধ্যবিত্তের গাড়ি কেনার স্বপ্ন পূরণ করতে এগিয়ে এলো পিএইচপি অটোমোবাইল লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি দেশের বাজারে নিয়ে এলো ২০১৮ মডেলের নতুন একটি গাড়ি।
গাড়িটির মডেল প্রোটন সাগা ২০১৮। প্রতিদিন মাত্র ১২৯৯ টাকা কিস্তি পরিশোধ করে যে কেউ হতে পারেন এই গাড়িটির গর্বিত মালিক।
জাপানের স্বনামধন্য গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মিতশুবিশির সঙ্গে মালয়েশিয়ার অটোমোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রোটন যৌথভাবে এই গাড়িটি নির্মাণ করেছে।
প্রোটন সাগা ২০১৮ গাড়িতে রয়েছে ৪ সিলিন্ডার বিশিষ্ট ১৩৩২ সিসির ভিভিটি ইঞ্জিন, ৫ গিয়ারের সিভিটি (কন্টিনিউয়াসলি ভেরিয়েবল ট্রান্সমিশন) অটোমেটিক ট্রান্সমিশন গিয়ারবক্স, মাল্টি পয়েন্ট ইনজেকশন ফুয়েল সিস্টেম, ইবিডি এবং ব্রেকিং এর জন্য এবিএস রয়েছে।
গাড়িটির বোর এবং স্ট্রোক যথাক্রমে ৭৬ * ৭৩.৪। গাড়িটির সর্বোচ্চ অর্শ্ব শক্তি ৫৭৫০ আর পি এমে ৯৪ এইচপি।
তৃতীয় প্রজন্মের এই গাড়িটি প্রতি লিটার তেলে ১৫ কিলোমিটার পাড়ি দিতে সক্ষম। সিটি রাইডে ১২ কিলোমিটারের কম বেশি হতে পারে। এই গাড়িটিতে ১৫ ইঞ্চি অ্যালয় হুইল ব্যবহার করা হয়েছে।
গাড়িটির রিয়ার ভিউ মিররে ব্যাক ক্যামেরা রয়েছে। মাল্টিমিডিয়া প্লেয়ারে রয়েছে এমপিথ্রি, এফএম, ব্লুটুথ এবং ইউএসবি কানেকটিভিটি।
মাল্টিমিডিয়া স্টিয়ারিং কন্ট্রোলের মাধ্যমে গাড়িটির মিউজিক সিস্টেম কন্ট্রোলসহ ফোন রিসিভ করার অপশন রয়েছে। গাড়িটিতে হাইড্রলিক পাওয়ার স্টিয়ারিং ব্যবহার করা হয়েছে।
সাগা প্রিমিয়ামে রয়েছে দুইটি ইউএসবি চার্জার পোর্ট যা সহজেই মোবাইল চার্জ দেয়া যাবে।

গাড়িটির পেছনের সিটে চিলড্রেন সিট যোগ করার অপশন রয়েছে। ২০১৮ মডেলের এই গাড়ির বুট স্পেস ৪২০ লিটার। চালক এবং প্রথম সিটের যাত্রীর জন্য এতে দুইটি এয়ারবেগ রয়েছে।
গাড়িটিতে ট্রাকশন কন্ট্রোল এবং হিল এসিস্ট অপশন রয়েছে যা দিয়ে পাহাড়ে ভ্রমণ করা যাবে নিশ্চিন্তে।
সাগা প্রিমিয়াম ২০১৮ এর ওজন ১৪৮৫ কেজি। ৪৩৩১ মিলিমিটার (মি.মি.) দৈর্ঘ্য, ১৬৮৯ মিমি প্রস্থ এবং ১৪৯১ মিলিমিটার উচ্চতার এই গাড়িটির গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৫০ মিলিমিটার।
পিএইচপি অটোমোবাইল লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা এস এম শাহিনুর রহমান ঢাকা টাইমসকে ‘আমরা গাড়ি কেনার প্রক্রিয়াকে সহজ করেছি। মধ্যবিত্তের ক্রয় সীমার নাগালে মাত্র ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ডাউন পেমেন্ট করে সহজেই এই গাড়িটি কেনা যাবে। দৈনিক, সাপ্তাহিক বা মাসিক যেকোন কিস্তিতে গাড়িটির বাকি মূল্য ৩ বছরে বিনা সুদে পরিশোধের সুযোগ থাকছে।’
তিনি আরো বলেন, প্রোটন সাগা প্রিমিয়াম ২০১৮ মডেলের গাড়িটি কিনলে ক্রেতারা পাঁচটি ফ্রি সার্ভিস পাচ্ছেন। গাড়িটিতে ৩০ হাজার কিলোমিটার বা ৩ বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা রয়েছে। চট্টগ্রামে নিজস্ব সার্ভিস সেন্টার এবং সারা দেশে রহিম আফরোজের মাধ্যমে ক্রেতাদের গাড়ির বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদান করা হবে।
প্রোটন সাগা প্রিমিয়ামের টার্নিং রেডিয়াস ৫.১ মিটার। যার কারণে স্বল্প জায়গাতে সহজেই গাড়িটি ঘোরানো যাবে। গাড়িটির সামনে ডিস্ক ব্রেক এবং পিছনে ড্রাম ব্রেক ব্যবহার করা হয়েছে।
পুশ স্টার্টসহ গাড়িটির বেশ কিছু আকর্ষণীয় ফিচার রয়েছে। এতে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, হ্যালোজেন হেড ল্যাম্প, সামনে এবং পিছনে ফগ ল্যাম্প, সেন্সর, ৬টি বোতল এবং কাপ হোল্ডার, ৪টি স্পিকারসহ পিছনের সিটকে ফোল্ড করে মালামাল নেয়ার সুবিধা রয়েছে।
প্রতিটি গাড়ির সীমাবদ্ধতা থাকে। সে হিসেবে নতুন এই ব্র্যান্ড নিউ গাড়িটির সামনে এবং পিছনে হ্যান্ডরেস্ট নেই। গাড়িটির লেগরুম প্রশস্ত থাকলেও হেডরুম অতটা আরামদায়ক নয়। নতুন গাড়িগুলোতে এএমটি গিয়ার সিস্টেম নেই। সিট কভারে ফেব্রিক্স ব্যবহার করা হয়েছে। ডিসপ্লে বোর্ডে গাড়ি সম্পর্কিত সব ধরণের তথ্য প্রদর্শন করে না। গাড়িটির মাল্টিমিডিয়া অংশে কোন ডিভিডি প্লেয়ার বা ডিসপ্লে সংযোজিত নেই।
গাড়িটির বাজার মূল্য ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সহজ কিস্তিতে গাড়ি কেনার অফারে কেমন সাড়া পাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আক্তার পারভেজ বলেন, মধ্যবিত্তদের কথা চিন্তা করে আমরা এই গাড়িটি বাংলাদেশের বাজারজাত করেছি। পিএইচপি অটোমোবাইলস লিমিটেড বাংলাদেশে সিকেডি খুলেছে। এখন দেশেই বিশ্বমানের গাড়িগুলো এসেম্বল করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ গাড়ি শিল্পে নিজেদের উজ্জ্বল স্বাক্ষর রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস। গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবো। প্রোটন সাগা প্রিমিয়াম ২০১৮ ক্রেতাদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। শুধু চট্টগ্রামে আমরা ২৭ টিরও বেশি ইউনিট বিক্রি করেছি। প্রতিদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গাড়িটি সম্পর্কে আমরা প্রচুর জানার আগ্রহ দেখছি। আশা করা যায়, ব্র্যান্ড নিউ এই গাড়িটি গ্রাহকদের মধ্যে সারা ফেলবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।