২৩শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৮ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

হবিগঞ্জে পৌরসভা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচী পালন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:রাষ্ট্রীয় কোষাগার হতে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানসহ পেনশন প্রথা চালুর দাবি ও জনপ্রতিনিধিদের সম্মানীভাতা প্রদানের দাবিতে হবিগঞ্জ পৌরসভায় অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস এসোসিয়েশন। এ কর্মসূচী চলাকালীন হবিগঞ্জ পৌরসভায় কর্মবিরতিও পালন করে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

সোমবার (১ জুলাই) কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত হবিগঞ্জ পৌরসভাসহ সারাদেশের পৌরসভায় এ কর্মসূচী পালিত হয়।

পৌরকর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন হবিগঞ্জ পৌরপরিষদের সদস্যবৃন্দ।

বাংলাদেশ সার্ভিস এসোসিয়েশন হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মো. ফয়েজ আহমেদ বলেন, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ সকল নাগরিকের জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত নাগরিক সেবা দেয়ার কাজে নিয়োজিত থাকেন। কিন্তু বাংলাদেশের ৩২৮ টি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সরকারী কোষাগার থেকে না হওয়ার কারণে তাদেরকে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। চাকুরী শেষে তাদের পেনশন না থাকার কারণে তাদেরকে পরিবার পরিজন নিয়ে অসহায় দিনানিপাত করতে হয়। তাই সারাদেশের পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আমারা রাষ্ট্রীয় কোষাগার হতে শতভাগ বেতন-ভাতা ও পেনশনের দাবি আদায়ের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আজ ঐক্যবদ্ধ। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘরে ফিরে যাবে না।

তিনি আগামী ১৪ জুলাইয়ে ঢাকায় আয়োজিত মহাসমাবেশ সফল করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।

হবিগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র দীলিপ দাস পৌরকর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে এ আন্দোলনের সফলতা কামনা করেন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌরকাউন্সিলর মো. জাহির উদ্দিন, মোহাম্মদ জুনায়েদ মিয়া, গৌতম কুমার রায়, শেখ নূর হোসেন, মো. আলমগীর, শেখ মো. উম্মেদ আলী শামীম, খালেদা জুয়েল ও অর্পনা পাল, বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস এসোসিয়েশন হবিগঞ্জ পৌরসভা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস ও সাধারণ সম্পাদক মহিবুর রহমান দুলনসহ হবিগঞ্জ পৌরসভার সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

বাংলাদেশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আব্দুল আলীম মোল্লা স্বাক্ষরিত এক পত্রে দাবী আদায়ের স্বপক্ষে ৩ দিনের কর্মসূচীর কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ১ জুলাই সকাল ৯ টা হতে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত পৌরসভায় শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচী আজ পালন করা হয়েছে। ২ জুলাই মঙ্গলবার জেলা প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত অবস্থান করে এক দফা দাবি আদায়ের পক্ষে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালন। ওই দিন সকাল ৬ টা হতে পরদিন সকাল ৬ টা পর্যন্ত সড়ক বাতি ও কঞ্জারভেন্সী সেবাসহ অন্যান্য সকল দাপ্তরিক সেবা বন্ধ রাখা। ১৪ জুলাই ঢাকা প্রেসক্লাবের সামনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেশের সকল পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মহাসমাবেশসহ অবস্থান কর্মসূচী পালন করবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।