২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৬ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।বৃহস্পতিবার

সিলেটের মানবপাচারকারী শিবির নেতা এনাম অবশেষ র‌্যাবের হাতে আটক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সোনাই ডেক্স: সিলেটের মানবপাচারকারী শিবির নেতা এনাম অবশেষ র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সিলেটের এনামুল হক তালুকদার সহ ৩জন আটক হন। বাকী দু’জন হচ্ছেন শরীয়তপুরের আক্কাস মাতুব্বর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আব্দুর রাজ্জাক ভূইয়া।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক এএসপি মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, অবৈধভাবে ইউরোপে পাঠানোকালে সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে অনেক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ওই পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে। এদিকে, ৯ মে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে অন্যদের মতো সিলেট বিভাগের ১৯জনের নিহদের মধ্যে দিয়ে এনামের নাম ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র । পরবর্তীতে ১৩ মে সিলেট জেলা প্রশাসন ঝটিকা অভিযান চালায় অবৈধ ট্রার্ভেলস ব্যবসা প্রতিষ্টানের বিরুদ্ধে। তাদের অভিযানের আগেই নগরীর জিন্দাবাজারের রাজা ম্যানশনস্থ ’ নিউ ইয়াহিয়া ওভারসীজ প্রতিষ্টান’টি তালাবদ্ধ করে গা-ডাকা দেয় শিবির নেতা এনাম। কারন নিহত সিলেটীদের বেশিরভাগই এনামের হাত ধরে অজানা পথে ইউরোপের্ ওয়ান দিয়েছিল।

বিদেশমুখী তরুনদের ৮ লাখ টাকায় ইতালী পাঠাতে চুক্তি করেছিলেন এনাম। নিরাপদে পাঠানোর প্রতিশ্রুতিতে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ছাড়ে লিবিয়া উদ্দেশ্যে তারা। কিন্তু নৌকাডুবিতে প্রাণহানীর মধ্যে বেরিয়ে আসে মানবপাচারকারী এনামের মুখোশ। ঐ দূর্ঘটনায় নিহত আব্দুল আজিজের বড় ভাই মফিজুর রহমান অভিযোগ করেন সপ্তাহখানেক পূর্বে লিবিয়া আজিজ আমাকে ফোন দিয়ে জানায়, লিবিয়া থেকে বের হতে পারছে না আজিজ। ইয়াহিয়া ট্র্যাভেলসের মালিক এনাম তাদেরকে ফোন দিয়ে বলেছে, নৌকা দিয়ে সাগর পথে ইতালি যেতে হবে।

তারপর দালালের মাধ্যমে নিহত আজিজসহ কয়েকজনকে জোরপূর্বক নৌকায় তুলে সাগর পথে ইতালি পাঠাতে চেয়েছিল এনাম সিন্ডিকেট। পরবর্তীতে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনা পর নিহত লিটনের বাবা সিরাজ মিয়া জানিয়েছিলেন, এনাম ফোন রিসিভ করছে না, পরে ফোন বন্ধ, বাড়ি থেকে পালানোর খবর পেয়েছেন তারা।

এনামের বাড়ি গোলাপগঞ্জের মেহেরপুর এলাকার পনাইরচক গ্রামে। সে গ্রামের মৃত মো. আবদুল খালিকের পূত্র। সিলেট সরকারী কলেজ শিবিরের নেতা ছিল। শিবিরের সাংগঠনিক স্তর বা ক্যাডার হিসেবে তার পদবী ছিল সাথী। ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর মাসিক ৭ হাজার টাকা ভাড়া চুক্তিতে রাজা ম্যানশনের ৩য় তলার ১১৭ নম্বর দোকান ভাড়া নেন এনামুল হক। সেখানে সাইনবোর্ড টানান ‘নিউ ইয়াহিয়া ওভারসীজ’র। ট্রাভেলস ব্যবসার আড়ালে মূলত মানবপাচারই ছিল তার ব্যবসা।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে লোভনীয় উপার্জনের স্বপ্ন দেখিয়ে সিলেটের বেকার যুবকদের উদ্ধুদ্ধ করতেন তিনি। এরপর দেশী-বিদেশী দালালচক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে পাঠানোর চেষ্টা করতেন তাদেরকে

ভূমধ্যসাগরে ট্রলারডুবিতে এনামের পাঠানো যাত্রীদের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাজাম্যানশন মার্কেটে তার পরিচিতি ছিল একজন ভালো ট্রাভেলস ব্যবসায়ী হিসেবে। ৯মে নৌকাডুবিতে প্রাণহানীর ঘটনার এনামের মানবপাচারের গোপন ব্যবসা প্রকাশ হয়ে উঠে।

কিন্তু গত আড়াই বছরেও ঘুনাক্ষরেও জানতে পারেননি এনামের মানবপাচারের সর্ম্পৃক্ততা ওই মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাসুদ আহমদ। তবে ট্রাভেলসের আড়ালে গোপন ব্যবসার আলামত আগেই পেয়েছিল অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্ট অব বাংলাদেশ (আটাব)। তাই তার ট্রাভেলসকে দেয়া হয়নি আটাবের সদস্যপদ।

এব্যাপারে আটাব সিলেট অঞ্চলের সভাপতি আবদুল জব্বার জলিল জানান, ‘নিউ ইয়াহিয়া ওভারসীজ’র ব্যবসা নিয়ে আমাদের সন্দেহ ছিল। তাই আবেদনের পরও তাকে আটাবের সদস্যপদ দেয়া হয়নি। তার কার্যক্রম আমরা পর্যবেক্ষণ করছিলাম। এর মধ্যেই তার মানবপাচারের বিষয়টি ধরা পড়লো। এরকম আরও যেসব অবৈধ ট্রাভেলস ব্যবসায়ী মানবপাচারের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি