২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

লালমনিরহাটে ক্যান্সার আক্রান্ত শামসুল বাঁচতে চায়।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ:

লালমনিরহাটের ক্যান্সার আক্রান্ত সেই শামসুলের অবস্থার অবনতি হয়েছে। আগে ওঠা বসা করতে পারলেও বর্তমানে বিছানাতেই দিন কাটছে তার।

 

শামসুল লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের হিরামানিক এলাকার মৃত বক্তার আলীর ছেলে।

 

বছর খানেক আগে হঠাৎ শামসুল তার গলার একাংশে ছোট ছোট বিষ ফোঁড়া সদৃশ কিছু লক্ষ করে। কিন্তু সেটা নাকি ভিশন যন্ত্রণাদায়ক ছিল। সইতে না পেড়ে স্থানীয় ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। চলে গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তারের হাতুড়ে চিকিৎসা। কিন্তু দিন যতোই গড়ায় শামসুলের অবস্থার অবনতি ঘটে। সামান্য জমি বন্ধক নিয়ে চাষাবাদ ও পরের ক্ষেতে দিনমজুর দিয়ে সংসার চালিয়ে আসছিলো সে। জীবন বাঁচাতে বন্ধকী জমি টুকু ছেড়ে দিয়ে টাকা ফেরত নিয়ে চলতে থাকে চিকিৎসা, কিন্তু তখনো শামসুল জানতেন না তার শরীরে বাসা বেঁধেছে মরণ ব্যাধি ক্যান্সার।

 

লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুরের বিভিন্ন ডাক্তার দেখে প্রায় ৮মাস আগে সনাক্ত হয়েছে সে ক্যান্সারে আক্রান্ত। শামসুল হকের এখন উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন কিন্তু ৩শতক ভিটা ছাড়া তার যে আর কিছুই নাই। একমাত্র ছেলে ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকুরী করলেও লকডাউনের কারনে সে নিজেই বিপাকে। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় আছে শামসুলের পরিবারটি। এর আগে শামসুলের দৈন্যদশা নিয়ে একটি সংবাদ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ হলে, অনেকের দৃষ্টিগোচর হয়। এক ছাত্র নেতা কিছু নগদ অর্থ দিয়ে সহযোগিতাও করেন। আবার অনেকে তাকে সাহায্যের আশ্বাসও দিয়েছেন। আর এই আশ্বাসেই বুক বেঁধেছে শামসুল সুন্দর এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য।

 

বর্তমানে শামসুলের অবস্থার অবনতি হওয়ায়, শামসুলের পরিবার ও স্থানীয়রা বলছেন, আমরা যার যার জায়গা থেকে চেষ্টা করছি। যা চাহিদার তুলনায় একেবারই অপ্রতুল। ক্যান্সার আক্রান্ত শামসুলের প্রতি নিশ্চয় সরকার ও সমাজের বৃত্তবানরা সহায়ক হবেন এবং যে সকল সহৃদয়বান ব্যক্তিগণ শামসুলের চিকিৎসায় সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিলেন, তারা শামসুলকে বাঁচাতে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করবেন। কোনো সাহায্য সহযোগিতা না পেয়ে বর্তমানে হতাশ ওই পরিবারটি। মরণব্যাধি ক্যান্সারের মতো রোগে আক্রান্ত শামসুলের চিকিৎসা অর্থাভাবে সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ রয়েছে।

ক্যান্সার আক্রান্ত শামসুলের উন্নত চিকিৎসা আবারও হবে, ক্ষেতে খামারে কাজে ব্যস্ত থাকবে শামসুল। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে এমনটাই প্রত্যাশা ওই এলাকার স্থানীয়দের।

 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি