২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

ভর্তির অপেক্ষারত অবস্থায় মেঝেতেই ঢলে পড়লেন সিরাজ ব্যাপারী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

মোঃ রিফাত পাটোয়ারী চাঁদপুর থেকে ঃ

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের জরুরি বিভাগ। ভর্তির অপেক্ষায় বসে আছেন সারি সারি রোগী। এখানেই বসে অপেক্ষা করছিলেন করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা সিরাজ ব্যাপারী (৬৫)। অপেক্ষা যেন শেষ হয় না। একসময় মেঝেতে ঢলে পড়েন তিনি।

রোগীর মেয়ে রোকেয়া বেগম বলেন, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলান ফনি শেখ গ্রামের বাসিন্দা তার বাবা সিরাজ ব্যাপারী সাপ্তাহখানেক ধরে অসুস্থ। স্থানীয় চিকিৎসক দেখিয়ে বাসায় রেখে চিকিৎসা করাচ্ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে নিয়ে যান চাঁদপুর সদর হাসপাতালে। এরপর শুরু হয় তার শ্বাসকষ্ট।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সেখান থেকে চিকিৎসকরা ঢামেক হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এখানে এসে জানতে পারেন সিট ফাঁকা নেই। অপেক্ষা করতে থাকেন। এখানে আসা অন্য রোগীর স্বজনদের এদিক ওদিক ছুটাছুটির সময়ে একসময় দেখেন তার বাবা মেঝেতে পড়ে গেছেন।

পরে আশপাশের লোকজনের সহযোগিতায় সেখান থেকে তাকে উঠিয়ে দ্রুত জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্মরত ওয়ার্ড বয়রা পরীক্ষা করেন অক্সিজেন লেভেল ৮০। দ্রুত তাকে অক্সিজেন লাগানো হয়।

কর্তৃপক্ষ জানায়, আরও অপেক্ষা করতে হবে। একটি সিট ফাঁকা হলেই তাকে ভর্তি দেওয়া হবে।

করোনা ইউনিটের জরুরি বিভাগে ভর্তির রেজিস্ট্রার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকে ৩০ জন রোগী ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক আশরাফুল আলম বলেন, আমরা অনেক দিন ধরেই সিটের অতিরিক্ত রোগী ভর্তি নিচ্ছি। যে পরিমাণ রোগীর চাপ বাড়ছে। সামনে কী করবো বলতে পারছি না।

হঠাৎ করে এতো রোগী বাড়ার কারণ কী এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রথমত সচেতনতার অভাব। তেমন কেউ স্বাস্থ্য বিধি মানছে না। তাই রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এখন সকলেরই সচেতন হতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই রোগীর চাপ কমে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

আশরাফুল আলম বলেন, রোগীর সঙ্গে আসা স্বজনরাও স্বাস্থ্যবিধি মানেন না। এতে করে ওই স্বজনদেরও সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যায়। তাই সকলকে সচেতন হতে হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি