১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।বৃহস্পতিবার

বেনাপোল পৌরসভা ব্যর্থ হওয়ায় ছাত্রলীগের উদ্যাগে রাস্তা সংস্কার শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মোঃ সাগর হোসেন,বেনাপোল(যশোর) প্রতিনিধিঃ যশোরের বেনাপোল পৌরসভার আওতাভুক্ত ভবারবেড় ৬নং ওয়ার্ড রেল স্টেশন সংলগ্ন বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিক উদ্দিন সড়কটি দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত অবহেলিত ,খানা-খন্দে গ্রামবাসীর গলার কাটায় পরিনত হওয়ায় গ্রামবাসী ও স্থানীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা নামক সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে। রাস্তা সংস্কার এই মহৎ উদ্যোগটি গ্রহন করেছেন শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মাদ আওয়াল হোসেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিক উদ্দিন সড়ক নামসহ প্রথম অবস্থায় বেনাপোল পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তৈরী করে দেয়। কিন্তু তারপর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতভেদ ও অদৃর্শের ছায়ার কারনে রাস্তাটি আজ পর্যন্ত পৌরসভা কর্তৃপক্ষ একটি বারও তিল পরিমান সংস্কার কাজ করেনি।

রাস্তাটি সংস্কারের জন্য কয়েক দফা পৌর মেয়র অাশরাফুল আলম লিটনের বরাবর আবেদন করেন ভবারবেড় গ্রামবাসী। এতবার আবেদন করেও আজও অবদি কোন ব্যবস্থা নেয়নি পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।এর ফলে ব্যর্থ হয়ে গ্রামবাসী ফিরে আসেন ৷ বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিক উদ্দীন সড়কটির করুন,বেহাল, জরাজীর্ন অবস্থা থাকায় গ্রামবাসির প্রচন্ড আকারে যাতায়াতের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। হাইরাস্তা থেকে নীচে (গ্রামে) নামতে গেলেই মারাত্নক ভাবে অনেকে পাশের গর্তে যানবাহন নিয়ে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে বিভিন্ন কাজের জন্য প্রায় ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার লোকজন চলাচল করে ৷ স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও হাসপাতালগামি রোগীদের চলাচলে মারাত্বক অসুবিধার সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে বেনাপোল পৌরসভার প্রকৌশলী ও প্যানেল মেয়রের সাথে কথা বললেও তারা রাস্তাটির কোন সংস্কারের ব্যবস্থা করেনি ৷ এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ ১২ বছর ধরে নিরব ভূমিকা পালন করেছে৷ গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন গুম হওয়া তাদের নির্বাচিত কমিশনার তুহিন থাকলে অনেক আগেই এই রাস্তাটির সংস্কার কাজ হয়ে যেত।তারা আরও বলেন আমাদের ভোটে নির্বাচিত পৌরসভার মেয়র আজ পর্যন্ত গ্রামবাসীর সুখ দুঃখের কথা একটিবারের জন্য শুনতে আসেনি৷ বেনাপোলের অন্যান্য স্থানের মতো বিন্দু পরিমান উন্নয়নের ছোঁয়া এই ভবারবেড় গ্রামে লাগেনি । গ্রামবাসীর এই রকম অবস্থা বিদ্যমান থাকায় তাদের দুঃখ দুর্দশা দেখে শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সমাজ কল্যান বিষায়ক সম্পাদক আওয়াল হোসেন এর মহৎ উদ্যোগে দুপাশের পুকুর থেকে মাটি সংগ্রহ করে রাস্তাটির ভরাটের কাজ শুরু করেছেন নিজের অর্থায়নে ৷

এ বিষয়ে আওয়াল হোসেন এর সাথে কথা বললে, তিনি বলেন, যে স্থানীয় দলীয় কোন্দল বা ভবারবেড় পশ্চিমপাড়ার এলাকাবাসী শেখ আফিল উদ্দিনের পক্ষে কাজ করায় পৌর কর্তৃপক্ষ এই রাস্তাটি করতে পারবে না বা করবে না তাই আমি আমার ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার থেকে এই রাস্তাটি সংস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছি এবং কাজ করছি ৷তবে এটা একটি বড় বাজেটের কাজ বিধায় আমি গ্রামবাসীর দ্বারা রাস্তাটি সম্পূর্ণ ইটের সলিং বা কংক্রিটের করা সম্ভব না তাই আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ৷ যাতে আমাদের একমাত্র যাতায়াতের এই রাস্তাটি কংক্রিটের করা হয় তার সুব্যবস্থা করবেন ৷

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি