২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

নালিতাবাড়ীতে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের উদ্যোগে ” ভুলি নাই ভুলবো না”স্লোগানে আলোচনা ও দোয়া আয়োজন।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

শাহাদত তালুকদারঃ

শেরপুরের নালিতাবাড়িতে ১২ আগস্ট বৃহস্পতিবার নালিতাবাড়ী প্রতিরোধ যোদ্ধাদের উদ্যোগে ১৯৯৬ সালের ১২ আগস্ট যারা সড়ক দুর্ঘটনা নিহত হয়েছে তাদের জন্য আলোচনা ও দোয়ার আয়োজন করেন।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নালিতাবাড়ী প্রতিরোধ যোদ্ধার সভাপতি ফজলুল হক ফজল।

অনুষ্ঠানটির সার্বিক সহযোগিতা করেন নালিতাবাড়ী পৌরমেয়র আলহাজ্ব আবু বক্কর সিদ্দিক।

প্রিয় অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর জেলা আওয়ামীলীগের সম্মানিত সদস্য আলহাজ্ব গোলাম ফারুক।

আরও উপস্থিত ছিলেন নালিতাবাড়ী প্রতিরোধ যোদ্ধার সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বদি।

আলোচনা সভায় প্রায় ২০০ জন প্রতিরোধ যোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভাটি নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের দলীয় অফিসে করা হয়।

 

১৯৯৬ সালের ১২ আগষ্ট আরো একটি শোকাবহ দিন নালিতাবাড়ি উপজেলা বাসির জন্য।

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয় ১৫ আগষ্ট। সেই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্র,যুবক সহ সর্বস্তরের মানুষ সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। সারা বাঙলার ন্যায় নালিতাবাড়ী উপজেলার অনেকেই সেদিন বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদে অস্ত্র হাতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।

তাদের মাঝে উল্লেখযোগ্য ছিলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা আঃ হালিম উকিল,বৈধ্য নাথ কর, গৌরাঙ্গ পাল, জসিম উদ্দিন, বাহাদুর শাহ, হায়দার আলী, বদিউজ্জামান বদি, ফজলুল হক,নিজাম উদ্দিন সহ অনেকে।

তাদের মাঝে আঃ হালিম উকিল,বৈধ্য নাথ কর ও গৌরাঙ্গ পাল কে সামরিক বাহিনী ধরে নিয়ে গিয়ে অস্ত্র মামলায় সামরিক আদালতের মাধ্যমে জেলে বন্দি করে। তাঁরা দীর্ঘদিন কারাগারে বন্দি জীবন কাটিয়েছেন।বন্দি জীবন কাটিয়েছেন তাদের মতো হাজারো প্রতিরোধ যোদ্ধা।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম সামরিক বাহিনীর কারণে বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

২১ বছর পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সরকার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসে। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার প্রতিবাদকারী প্রতিরোধ যোদ্ধারা সামরিক সরকারের অত্যাচারে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করেছেন। তাদের কষ্ট লাঘবের জন্য ঢাকায় দফায় দফায় বৈঠকে বসে প্রতিরোধ যোদ্ধা পরিষদের নেতারা।তারি ধারাবাহিকতায় নালিতাবাড়ী উপজেলার প্রতিরোধ যোদ্ধাদের অনেকেই সে দিন ঢাকাতে গিয়েছিলেন। বৈঠক করেছেন, ফিরছিলেন বাড়িতে কিন্তু ভালুকার অদুরে সড়ক দুর্ঘটনায় সকলের বাড়ি ফেরা হয়নি।

নির্মম ভাবে নিহত হলেন বৈধ্য নাথ কর, জসিম উদ্দিন, গৌরাঙ্গ পাল, বাহাদুর শাহ,সংকর সাহা ও গাড়ি চালক তোফাজ্জল হোসেন।

১২ আগষ্ট রাতে খবর পেলাম ভালুকার সড়ক দুর্ঘটনার, রাতের মধ্যেই খবর ছড়িয়ে পড়লো মৃত্যু মিছিলের। কখনো খবর আসছে হায়দার আলী মাষ্টার ( আমার দাদার ভাই ) মারা গেছেন, একেক সময় একেক জনের নাম।

ভোর হলো, ততক্ষণে নিশ্চিত হওয়া গেছে কে মৃত্যু বরণ করেছেন।কে কে হাসপাতালে আছেন। সেদিন প্রকৃতি ছিল কান্না বৃষ্টিতে ভরপুর, মানুষের আবেগের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছিল আকাশ, বাতাস।প্রকৃতিও সেই কান্নার সাথে যোগ দিয়ে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ফেলে কেঁদেছিলো।

আজ ১২ আগষ্ট তাদের ২৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী।১৯৯৬ সালে তাদের স্মৃতিকে কে চীর স্মরণীয় করে রাখার জন্য তাদের নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে গঠিত হয় সবুজবাগ স্মৃতি সংসদ।

আলোচনা সভায় বক্তব্য সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন যারা প্রতিরোধ যোদ্ধা তাদেরকে যেনো মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি