২৩শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৮ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

দেশের প্রথম বুথের মাধ্যমে করোনার নমুনা সংগ্রহ শুরু বিরামপুরে।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

দেশের প্রথম বুথের মাধ্যমে করোনার নমুনা সংগ্রহ শুরু বিরামপুরে

আর কে ওসমান আলী দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ- দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহের জন্য বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এতে করে সঠিকভাবে নমুনা সংগ্রহ করা যাবে সেই সাথে নমুনা সংগ্রকারীসহ অন্যান্যদের করেনায় সংক্রমিত হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। কর্তৃপক্ষের দাবি, করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহের জন্য এই বুথটি বাংলাদেশে উপজেলা পর্যায়ে নমুনা সংগ্রহের প্রথম বুথ।

আজ শনিবার দুপুরে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চত্বরে স্থাপিত বুথটি থেকে নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে ৬ ফুট বাই ৬ ফুট এয়ারটাইট একটি বুথ। বুথটির সামনে কাঁচের কাউন্টার। সেখানে দুটোতে গ্লাভস লাগানো। সামনে একটি টেবিলে উপসর্গ থাকা ব্যক্তির বসার জন্য আরেকটি টেবিলে নমুনা সংগ্র হের উপকরন রাখা। বুথের ভিতর থেকে নমুনা সংগ্রহকারী গ্লাভসের ভিতরে হাত ঢুকিয়ে উপসর্গ থাকা ব্যক্তির নাক ও গলা থেকে উপকরন দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করছেন।

বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল কাশেম জানান, করোনা শনাক্তের অন্যতম শর্ত হচ্ছে নমুনাটি সঠিকভাবে সংগ্রহ করা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করার সময় উপসর্গ থাকা ব্যক্তির আচরণের কারণে সঠিকভাবে নমুনা সংগ্রহ করা জটিল হয়ে পড়ে। এ ছাড়াও নমুনা সংগ্রহকারীদের মধ্যে একটি ভীতি কাজ করে। কোন ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করতে গেলে ওই স্থানের আশেপাশের লোকজন সেটি দেখতে আসে। এতে করে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। এছাড়াও নমুনা সংগ্রহ করার পর ওই ব্যক্তি সামাজিক ভাবেও বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন। এখন বুথের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহের ফলে এ সমস্যার সমাধান হবে।

নমুনা সংগ্রহকারী মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ল্যাব) শাহ আল ইমরান জানান, করোনা নিয়ে সকলের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহের সময় উপসর্গ থাকা ব্যক্তি হাঁচি, কাশি দিতে থাকেন। এর ফলে নমুনা সংগ্রহকারীদের মধ্যে এক ধরণের আতঙ্ক দেখা দেয়। সবসময় ভীতি কাজ করতো। এখন কোন প্রকার ভীতি ছাড়াই নমুনা সংগ্রহ করা যাবে।

বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সোলায়মান হোসেন মেহেদী জানান, ইউটিউবের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনার নমুনা সংগ্রহে এ ধরনের বুথের ব্যবহার দেখতে পান। এরপরই তিনি এটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় এটি স্থাপন করেন। এটি বাংলাদেশে উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত প্রথম বুথ।

তিনি আরো জানান, এই বুথের মাধ্যমে কোন পিপিই ছাড়াই নমুনা সংগ্রহকারী নমুনা সংগ্রহ করতে পারবেন। ফলে পিপিই এর অপচয় রোধ হবে। নমুনা সংগ্রহকারীর সংখ্যা বাড়বে। এতে করে সংক্রমণের হারও কমবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।