১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

ডুমুরিয়ার মঠবাড়িয়া মালোপাড়া ঘোরায়া সমিতির অর্ধকোটি টাকা অত্নসাতের অভিযোগ যুবক মনুর বিরোদ্ধে! 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সরদার বাদশা  নিজস্ব প্রতিনিধি।

ডুমুরিয়ার চুকনগরের মঠবাড়িয়ায় ঘোরওয়া সমিতির সদস্যদের সঞ্চায়ের অর্ধকোটি টাকা আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রকাশ কুমার মনু (৩৫) নামের এক যুবকের বিরোদ্ধে।

এঘটনায় ভুক্তভোগী ৮৪০ জন সদস্য তাদের সঞ্চায়ের টাকা ফেরৎ পেতে ডুমুরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে থানা পুলিশ ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও সমিতির সদস্যগণ মনুর বাড়ি ঘেরোয়া করে টাকা তাদের পাওনা টাকা আদায়ের লক্ষে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করেন।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের মঠবাড়িয়া মালোপাড়ার পিং মৃত বৈদ্যনাথ বিশ্বাসের ছেলে প্রকাশ কুমার বিশ্বাস মনুর বাড়ির সাথে একটি মুদির দোকান রয়েছে। সে অধিক লাভের প্রলোভন দেখিয়ে ওই মহাল্লার বিভিন্ন শেণির পেশার দুই শতাধিক মানুষকে সমিতির অন্তর্ভুক্ত করেন। সমিতির নাম দেয়া হয় মঠবাড়িয়া মালোপাড়া পল্লী যুব উন্নয়ন সমবায় সমিতি।

যার মোট সদস্য সংখ্যা ৮৪০। দীর্ঘ একযুগ অতিবাহিত হয়ে চলতি বছরে সমিতির মেয়াদ শেষ হয়।

এদিকে স্বস্ব সদস্যদের সঞ্চয়ী বইয়ের চুড়ান্ত হিসাব করে স্বস্ব বইয়ের মোট প্রাপ্য টাকার কথা উল্লেখ করে, স্বাক্ষর করেছেন, সমিতির নেতা প্রকাশ কুমার মনু। যাহা ৮৪২ সদস্যের লাভ্যাংশ ও সঞ্চিত মোট সঞ্চিত টাকার পরিমান ৫০ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা।

কিন্তু দীর্ঘদিন সদস্যদের সঞ্চিত টাকা ফেরৎ না দিয়ে সে নানা টালবাহানা করিতেছেন, বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সমিতির সদস্য শংকর বিশ্বাস, নারায়ণ বিশ্বাস, দীলিপ বিশ্বাস,অসীম বিশ্বাস, পঙ্কজ বিশ্বাস, মমতা বিশ্বাস, অঞ্জলি বিশ্বাস,সুচিত্রা জৌতি বিশ্বাস, পবিত্রা বিশ্বস, গোপাল বিশ্বাস, গোবিন্দ বিশ্বাস, সমিরণ বিশ্বাস সহ উপস্থিত প্রায় পাঁচ শতাধিক নারি পুরুষ

বৃহস্পতিবার সাংবাদিক জানান, সমিতির সঞ্চিত টাকা নিয়ে মনু নানা টালবাহানা করছেন। সঞ্চিত টাকা ফেরৎ পেতে আমরা ডুমুরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।

অভিযুক্ত সমিতির নেতা প্রকাশ কুমার মনু জানান,

সমিতির কোন নিবন্ধন নাই। অনেক দিন ধরে সমিতির কার্যক্রম চালিয়ে আসছি কোন সমস্যা হয়নি।

অনেক সদস্যর টাকা পরিশোধ করেছি। আবার কিছু সদস্য টাকা পাবে। সে টাকা ফেরৎ দেয়ার চেষ্টা করছি।

অভিযোগ তদন্তকারি কর্মকর্তা ওসি অপারেশন তদন্ত সঞ্জয় দাশ জানান, অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছি।

উভয় পক্ষের সাথে আলাপ হয়েছে তারা স্থানীয় ভাবে একটি আপোষ মিমাংসা করে থানাকে অবহিত করবেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।