২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৭ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

গল্পগুচ্ছ উপেন পাগল- ফজলুল হক মনোয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

গল্পগুচ্ছ
উপেন পাগল
ফজলুল হক মনোয়ার
আমি তখন ক্লাস ফোরে পড়ি। মর্নিং স্কুল। ফাস্ট বেন্জ্ এ বসতে হবে তাই খুব ভোরে দুই বন্ধুকে নিয়ে স্কুলে আসি। তখন স্কুলছিল বর্তমান গার্লস স্কুলের জায়গায়। স্কুলে ঢুকেই ভয় পেয়ে যাই। স্কুলের ভিতর কে যেন শুয়ে আছে! আমরা ভয়ে কাপতে কাপতে দপ্তরী মুকুল চাচাকে ডাকাডাকি শুরু করি। মুকুল চাচা চলে আশে, একজন নোংরা চাদর গায়ে দেওয়া দাড়িওয়ালা লোক ঘুমিয়েছিল, আমাদের শব্দ শুনে তার ঘুম ভেংগে যায়। একটু পরে উঠে চলে যায়। তার বগোলের নীচে একটা পোটলা। আমরা মুকুল চাচার কাছে জানতে চাইলাম, পাগলটাকে? চাচা বললো, ওনার নাম উপেন, উনি একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন, প্রেমে ব্যর্থ হয়ে পাগল হয়েছে। পরে জানতে পারলাম উনি কোন এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। রানীবালা নামে একটি মেয়ের সাথে তার প্রেম ছিল। এক সময় তারা সিদ্ধান্ত নেয় তারা বিয়ে করবে। কোন কারনে তাদের পরিবার বিয়েতে রাজি ছিল না, তাই বাধ্যহয়ে নিজেদের গোপনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিয়ের বাজার করতে উপেন মাষ্টার সিরাজগঞ্জ যায়। বাজার নিয়ে ফিরে এসে জানতে পারে রানীবালার অন্যছেলের সাথে বিয়ে হয়েছে, সাথে সাথে সে পাগল হয়ে যায়। আর কোনদিন সে ভালো হয় নাই। তার ধারনা ছিল, রানীবালার অনিচ্ছাতে বিয়ে হয়েছে। তাই তার একটাই কথা ছিল ” রানীবালা খারাপ হতে পারে কিন্তু বেশ্যা হতে পারে না “। এই বাক্যটিই তার জপনা ছিল। এর পরে প্রায়ই তাকে স্কুলে ঘুমাতে দেখেছি। আমাদের ভয় ভেংগেগেল। যেহেতু উনি স্কুল শিক্ষক ছিলেন, তাই স্কুলই ওনার বেশী পছন্দ ছিল। এভাবে অনেক দিন কেটে গেল। উনি কাউকে মারতেন না। একদিন কয়েক জন দুষ্টপ্রকৃতির সিনিয়র ছাত্র তার বগলের নিচে কি আছে, দেখার জন্য চেষ্টাকরে। অনেক জোরাজুরির পর তার পোটলাটা খুলে দেখেতে পায়, একখানা আয়না, একখানা শাড়ী, চিরুনী , কিছু সোনার গহনাপত্র সহ বেশকিছু। পরে ছাত্ররা ওগুলি ফেরত দেয়। একদিন উনি আমাদের বাড়ীতে আসলেন, আমার পড়ার ঘর খুজেবের করলেন। আমি পড়ার ঘরেই ছিলাম। তখন সম্ভবত অষ্টম অথবা নবম শ্রেণীতে পড়ি। আমাকে বললেন , খোকা, তোমার মাকে বলো আমার এই চাউলগুলি ভেজেদিতে। আমি জানতে চাইলাম চাউল ভেজে কি হবে? উনি বললেন খাব। আমি বললাম, আপনাকে ভাত এনেদেই? উনি অস্বীকৃতি জানালেন। আমি চাউলগুলি নিয়ে মাকে দিলাম। মা ভেজেদিলেন। উনি খেতে খেতে চলেগেলেন। এর পর থেকে প্রায়ই একাজ করে দিতে হতো। নিদৃষ্ট কিছু বাড়ীতে ভিক্ষা করতেন এবং নিদৃষ্ট কিছু বাড়ী থেকে চাউল ভেজে নিতেন। একদিন মাকে চাউল ভাজতে দিয়ে এসে ইংরেজি পড়তে বসেছি। ওনি আমার কাছে বসে আছেন, চাউল ভাজা আসার অপেক্ষায়। হঠাত আমার কিছু উচ্চারণে ভূল ধরে এর শুদ্ধ উচ্চারণ বলেদিলেন অর্থসহ। আমি অবাক হয়ে গেলাম। বললাম, ” কাকা, তুমিতো ভালো ইংলিশ জান “! কাকা বললো “আমার মাথা যখন ভালো থাকে, তখন সব পারি, কিন্তু যখন ভালো থাকে না তখন সবকিছুই গন্ডোগোল লাগে “। এর পর থেকে প্রায়ই আমাকে সাহায্য করতেন ইংলিশ, বাংলা, অংক সহ সকল বিষয়েই। একদিন অংক পারছিলাম না। তখন সম্ভবত দশম শ্রেণীতে পড়ি। কাকা আসলেন চাউল ভাজার জন্য। আমি অংকটা দেখালাম। উনি বলেদিলেন, কিন্তু পারকাম না। তখন বাধ্য হয়ে আমার খাতায় অংকটা করে দিলেন । আমাকে বললেন তুমি এটা দেখে দেখে খাতায় তোল। আমি তার হাতের লেখাটা রাখতে চাইলাম, কারন হাতের লেখা খুব সুন্দর । কিন্তু রাখতে দিলেন না। জানতে চাইতেই বললেন, ” এলেখা যার জন্য, সে তো নেই “। আমি অংকটি খাতায় তোলার সাথে সাথে তার করা অংকটি খাতা থেকে ছিড়ে নিয়ে খেয়ে ফেললেন। এভাবে অনেক দিন চললো। আমি লেখাপড়া শেষ করে চাকুরীতে গেলাম। একদিন খবর পেলাম কাকা মারাগিয়েছেন। স্কুলে শুয়ে থাকা অবস্হায় তার মৃত্যু হয়।
এভাবেই পূথিবী থেকে বিদায় নিলেন একজন ব‍্যর্থপ্রেমিক স্কুল শিক্ষক।
এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।