১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করনের দাবীতে খোলপেটুয়া নদীতে নৌবন্ধন।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রনজিৎ বর্মন শ্যামনগর(সাতক্ষীরা)প্রতিনিধি ঃঃ

 

জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত তির মুখে বারবার দুর্যোগের কবলে পড়া উপকূলের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরনের দাবিতে সাতীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন খোলপেটুয়া নদীতে নৌ-বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

সোমবার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় শ্যামনগর উপজেলায় বে সরকারি সংগঠন লির্ডাসের মাসব্যাপী খাদ্য অধিকার প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে নীলডুমুর এলাকায় খোলপেটুয়া নদীতে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

 

টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, দেশের বন্যা কবলিত জেলাকে রা এবং দুর্যোগ প্রবন এলাকায় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার দাবি তুলে নানা ধরনের স্লোগান দেন। বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের নীলডুমুর এলাকায় সুন্দরবন উপকূলীয় বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের পিছনে খোলপেটুয়া নদীজুড়ে স্থাপন করা হয় এই নৌবন্ধন। কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক নৌকা ও তার আরোহীরা পোস্টার ও ব্যানার সহ কয়েকঘন্টা ধরে অবস্থান নেন।

 

তারা বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে উপকূলের এই অঞ্চল বারবার ঝড় ও জলোচ্ছাসের শিকার হচ্ছে। সম্পদ ও প্রানহানি ঘটছে অহরহ। দুর্যোগের মুখে হাজার হাজার পরিবার হারাচ্ছেন তাদের বসতভিটা ও বাড়ি। কৃষি ও মৎস্য সম্পদ হারিয়ে তারা পানিবন্দী জীবন থেকে রা পেতে উদ্বাস্তু হচ্ছেন। এরই সাথে তাদের অনেকের মুখে নেই খাবার, নেই সুপেয় পানি। পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে তাদের জীবন হয়ে পড়ছে রোগগ্রস্থ। এসব মানুষকে বাঁচাতে হলে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়াও উপকূলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মান করতে হবে। উপকূলবাসীকে কৃষি ও মৎস্য চাষে পুনর্বাসনের সুযোগ ছাড়াও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। তাদের জন্য টেকসই গৃহ নির্মানও জরুরী হয়ে পড়েছে।

 

স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা লিডার্স ও খাদ্য নিরাপত্তা(খানি) আয়োজিত এই নৌবন্ধনে অংশ নেন উপকূল এলাকার শত শত মানুষ। তারা সরকারের দৃষ্টি কামনা করে বলেন, আমাদেরকে দুর্যোগ থেকে বাঁচান। খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা দিন।

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আফাজউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নৌবন্ধনে বক্তব্য রাখেন লিডার্সের কর্মকর্তা মোঃ মনোয়ার হোসেন, রনজিত মন্ডল, অসিত মন্ডল, মাসুদুল তরফদার, বাঘবিধবা রিজিয়া খাতুন ও শাহিদা খাতুন, ইলিয়াস সানা প্রমুখ। তারা খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রনয়নের জোর দাবি জানান।

 

ছবি- সাতক্ষীরার উপকূলীয় সুন্দরবন এলাকার খোলপেটুয়া নদীতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরনের দাবিতে নৌবন্ধন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।