২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

কালিয়ায় শিশু ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগে, থানায় মামলা।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মোঃহাচিবুর রহমান,কালিয়া(নড়াইল)প্রতিনিধিঃ

 

কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানায় ৫ম শ্রেনী পড়–য়া শিশুকে (১১) ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগে নুর মোল্যা (৪৫) নামে এক লম্পটের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর ০৬। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষেভের সৃষ্টি হয়েছে এবং কঠিন বিচারের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। আসামী পলাতক রয়েছে। শিশুটি থানার মুলখানা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। ৮ আগষ্ট (রোববার) সকাল ৭ টায় এ ঘটনা ঘটে। নুর মোল্যা বাঐসোনা গ্রামের মৃত লাল মিয়া মোল্যার ছেলে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী সুত্রে জানা যায়, উপজেলার বাঐসোনা ব্রীজঘাটে খুব ভোরে বাজার বসে। ওই বাজারে পাশ্ববর্তী গ্রাম তেবাড়িয়া থেকে তাল বিক্রি করতে আসে ওই শিশুটি। আর তার উপরে নজর পড়ে লম্পট নূর মোল্যার। তাল কেনার কথা বলে শিশুটিকে ডেকে বাজারের পাশে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। ওইসময় নূরের স্ত্রী ও সন্তানরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে সে শিশুটিকে জোর করে ঘরের মধ্যে নিয়ে অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা কালে কৌশলে শিশুটি দৌড়ে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে আসে এবং বাজারের লোকদের জানায়। ঘটনাচক্রে বাঐসোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ফুরকান মোল্যও ওই বাজারে ছিলেন। সমস্ত ঘটনা শুনে তিনি ভুক্তভোগীদের আইনের আশ্রয় নিতে থানায় পাঠিয়ে দেন। ততক্ষনে লম্পট নুর মোল্যা পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ নূর মোল্যাকে আটককের চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ওই ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ আবুল কাশেম বলেন, ব্রীজঘাট বাজারে আমার দোকান আছে। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে আমি ঘটনাস্থলে এসে বিস্তারিত জেনে তাদেরকে থানায় নিয়ে আসি।

ওই বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীরা জানান, নুর মোল্যা ব্যাক্তি হিসাবে জঘন্য প্রকৃতির ও কুরুচি সম্পন্ন লোক। কয়েকমাস পুর্বে সে নলামারা গ্রামের আবু হারা নামে এক ব্যক্তির ১০ মাসের গাভীন গরুর গোপনাঙ্গের ভিতরে লাঠি দিয়ে আঘাত করে বাচ্চাটিকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় স্থাণীয় শালিসে তাকে ৭৫ হাজার টাকাজরিমানা করা হয়েছিল।

শিশুটির বাবা সাংবাদিকদের জানান, আমরা গরীব মানুষ, ইজ্জতই আমাদের একমাত্র সম্বল। আমার শিশু মেয়ের শ্লীলতা হানি ও ধর্ষন চেষ্টার উচিৎ বিচার চাই।

আসামী নুর মোল্যা পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তার পরিবারের কাছে আসামীর মোবাইল নম্বর চাইলে নানা অজুহাতে তারা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে নড়াগাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকসানা খাতুন জানান, শিশু ধর্ষন চেষ্টার ঘটনায় শিশুর বাবা বাদি হয়ে একজনকে আসামী করে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। ধর্ষন চেষ্টাকারি আসামী পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

 

 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি